ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আমার দেখি ব্লগ-ফেইসবুক এ আসক্তি জন্মাল । এ তো দেখি এক ভয়াবহ রোগ । মন্ত্রীদের বচণ শুনে আর ব্লগ-ফেইসবুকে ঘুরে মগজের ভিতর অক্সিজেন আর রক্তের প্রবাহ গেল বেড়ে | কিছুতেই আর কাজে মন বসাতে পারলাম না। তাই ভাবছি এই অকাজটাই আগে করি । আবুলদের নিয়ে কিছু একটা লিখে ফেলি আর সেটা কোথাও পোস্ট করি । আমাদের দুই বিখ্যাত আবুল নামের মন্ত্রী আছেন – একজন মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত (সংক্ষেপে – আহ্‌ মাল), আরেকজন আবুল হোসেন (সংক্ষেপে – দৌড় আবুল বা দেশপ্রেমিক আবুল)। তো দৌড় আবুল নাকি দৌড় দিয়ে ঠিকাদার থেকে মন্ত্রী হয়েছেন – সরকারি সাংসদ গোলাম মাওলা রনির ভাষায় । আর আহ্‌ মালের ভাষায় ওটা তো একটা স্টুপিড (গোলাম মাওলা রনি) । পত্রিকা পড়ে এ কথাগুলো জেনেছি । ভাবছিলাম আমাদের একটা আহ্‌ সংগঠন থাকলে ভাল হয় – আহ্‌ মাল সাহেব সভাপতি আর দৌড় আবুল সাধারন সম্পাদক । আর আমার মত গোবেচারা আবু হল সদস্য । আমার কাজ হবে তাদের বক্তব্য চোখ গোল্লা গোল্লা করে মাথাটাকে এপাশ ওপাশ দুলাতে দুলাতে হজম করা । যখন বদহজম হবে তখন সুধু নোটবুকে উগড়ে ফেলা ।

ফেইসবুকে মাননীয় মন্ত্রী সাহারা খাতুন কে নিয়ে ১ টা জোকস দেখলাম – সে নাকি ইশকুল ব্যাগকে প্যারাস্যুট ভেবে ওটা নিয়ে প্লেন থেকে লাফ দিয়েছে । সবাই গরিব সাহারা খাতুনের পেছনে লেগেছে কেন বুজতে পারছি না । বেচারা না হয় ৪৮ ঘন্টার আলটিমেটাম দিয়েছিল- উদ্দেশ্য তো মহৎ ছিল । পরে না হয় অন্য সমস্যা হয়েছিল । অন্তত সে তো বলে নি “!! আল্লার মাল আল্লায় নিয়ে গেছে !!” । যাই হোক উদ্দেশ্য আমার সাহারা খাতুন না । আহ্‌ মালের কিছু বক্তব্যে আমার বদহজম হয়েছে – তাই এ উগড়ে দেয়া ।

আসলে আমি বলতে চাই আমাদের মাননীয় আহ্‌ মাল বাংলাদেশের সবচেয়ে যোগ্য মন্ত্রী । তার সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য তার প্রমাণ। শেয়ার কেলেঙ্কারি নিয়ে তার বক্তব্য মনে আছে? শেয়ার কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের নাম প্রকাশ করা যাবে না, তারা সবাই বড় বড় রাঘব বোয়াল । হক কথা । যদিও মন্ত্রী হবার সময় শপথ নিয়েছিলেন – জনগনণের স্বার্থই আগে দেখবেন – তাতে কি, রাঘব বোয়ালরা হল বড় বড় জনগণ । তাদের বড় স্বার্থই আগে দেখতে হবে । আর এরকম ভাবে সত্যি কথা কজন বলতে পারে । এক্ষেত্রে আমাদের মন্ত্রী মহোদয় একজন স্পষ্টভাষী । এরকম আর কজনকে পাওয়া যাবে ?

সরকারী অন্য ব্যাঙ্কের হাজার ও সমস্যা থাকুক, গ্রামীন ব্যাঙ্ক হল সুদখোর ঘুষখোরদের ব্যাঙ্ক । তাই এই ব্যাঙ্ককে এবার লাইনে আনতে হবে । ইউনুছ সাহেব এইটা কি করলেন – একটা সুদখোর ঘুষখোরদের ব্যাঙ্ক বানিয়ে নোবেল পেলেন কি ভাবে? ও আচ্ছা বুজতে পেরেছি – ক্যানের মধ্যে লাল লাল পাগলা পানি আর সাদা সাদা সাহেব মেম দের সাথে উঠাবসা করলেই তো নোবেল পাওয়া যায় । তো উনি যখন নোবেল পেলেনই কি আর করা যাবে – একুশে পদক ত আর পান নাই । এর জন্য তো আর সরকার দায়ি না । এক কাজ করা যায় – রবীন্দ্রনাথের নোবেল পদক যে চোর চুরি করেছিল তার খোঁজ করা যায় । তাকে দিয়েই ইউনুছ সাহেবের পদকটা চুরি করানো যায় । যাই হোক ইউনুছ সাহেবের ক্ষুদ্র ঋন নিয়ে আমাদের মাননীয় আহ্‌ মালের বক্তব্য হল – “ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে বাংলাদেশে আরো একজন কাজ করছে, আর সে এখানেই বসা আছে । সে হল আমি” । আগেই বলেছি আমাদের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় একজন স্পষ্টভাষী । নিজের ঢোল তিনি নিজে পিটাতে কুণ্ঠা বোধ করেন না । তিনি আরও বলেছেন, বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋনের প্রসার ইউনুছ সাহেব ১২% পর্যন্ত নিয়ে গেছেন আর উনি ৩০% পর্যন্ত বিস্তার ঘটিয়েছেন । উহহ্‌, নোবেল কমিটি তো ইউনুছ সাহেবকে নোবেল দিয়ে ভুল করেছে । আসলে আমাদের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় পাগলা পানি খান নাই আর সাদা সাদা মেম সাহেব দের সাথে উঠাবসা করেন নাই । তাই নোবেল কমিটি তাকে চিনে নাই । তাতে অসুবিধা কি – এইসব নোবেল ত রাস্তা-ঘাটে পাওয়া যায় । আমাদের মাননীয় মন্ত্রী তার জন্য লালায়িত নন । তিনি অনেক বড় বড় বিষয় নিয়ে ভাবেন । অবশ্য সেদিন তিনি বলে ফেলেছিলেন যে ইউনুছ সাহেব মিথ্যাচার করেছেন । হোক না ইউনুছ সাহেব গ্রামীন ব্যাঙ্ক নিজ হাতে গড়েছেন, তিনি তো একজন সরকারি বেতনভুক্ত কর্মচারী বই কিছু ছিলেন না, আর তিনি সে পদ থেকে বিচ্যুতও হয়েছেন – তাও বয়স বাড়ার অপরাধে । সরকারি বেতনভুক্ত কর্মচারী বয়স বাড়লেই অবসরে যাবেন – এটাই নিয়ম। এত সৃজনশীলতার আমাদের দরকার আছে নাকি? বুড়ো বয়সে বাংলাদেশে সবার ভীমরতি পায়, ইউনুছ সাহেবের ও পেয়েছিল নির্ঘাত । তো সেই ইউনুছ সাহেবের এত্ত বড় সাহস – গ্রামীন ব্যাঙ্ক নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন – উনি মিথ্যাবাদী ত বটেই, তাকে জেলে দেয়া উচিত, নোবেল কেড়ে নেয়া উচিত ।

আমাদের মাননীয় আহ্‌ মাল সত্য কথার মাঝে মাঝেও অনেক মজার কথা বলেন । যেমন আজ বলেছেন -”ব্যাংকিং খাতে আমরা ৪০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিই। অথচ মাত্র চার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি নিয়ে যা প্রচার হচ্ছে, তাতে মনে হচ্ছে, পুরো ব্যাংকিং খাতেই ধস নেমেছে। এই প্রচারণা ব্যাংকিং খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে”। সব দোষ ওই সাংবাদিক ছাগল গুলার । কিছুই বোঝে না খালি মাঝে মাঝে ছাগলের মত ফাল দেয় । তোরা দেশ চালানোর কি বুঝিস? তিনি আরও বলেন “…কালোটাকা থাকবেই। এটা মেনে নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।” কালোটাকা না থাকলে কি আর দেশে বড় বড় রাঘব বোয়ালের জন্ম হবে ? সব হবে পুটি মাছ যা দিয়ে দেশের পুষ্টির চাহিদা পুরণ হবে না । কাজেই কালোটাকা থাকতেই হবে । সময় সুযোগ মত পুটি মাছ গুলো কে চচ্চরি করে খেতে হবে। যারা আমাদের আহ্‌ সংগঠনের সদস্য হবে তাদের ভাগ দেয়া যাবে । কাজেই সবার উচিত দলে দলে আহ্‌ সংগঠনের সদস্য হওয়া ।

আমাদের প্রাক্তন অর্থমমন্ত্রী সাইফুর রহমান সাহেব (বেচারা মারা গেছেন, আল্লাহ তাকে বেহেশত বাসি করুন) ক্ষমতা ছাড়ার পরে ২ কোটি কালো টাকা সাদা করেছিলেন । আমরা জানি আমাদের মাননীয় আহ্‌ মাল এটা করবেন না । সাইফুর রহমান সাহেব রোড অ্যাকসিডেন্টে মারা গিয়েছিলেন । আমাদের দেশপ্রেমিক আবুল তার সহকর্মী সর্ম্পকে অভিযোগ করেছিলেন রাস্তা করার জন্য নাকি সে টাকা পায় না । এখন আবুল নাই কিন্তু নতুন একজন আব্দুল কাদের আছেন । আমি জানি আমাদের বিচক্ষন আহ্‌ মাল তার পূর্বসূরির কথা চিন্তা করে হলেও রাস্তার জন্য টাকা বরাদ্দ রাখবেন । আর গরু-ছাগল-ড্রাইভার বচনের জন্য বিখ্যাত মন্ত্রী শাজাহান খানের কথামত গরু ছাগল চেনা ড্রাইভার নিয়োগ না দিয়ে প্রকৃত ড্রাইভিং জানা ড্রাইভার নিয়োগ দিবেন ।

আমাদের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ম্যাডাম খালেদা জিয়া বলেছিলেন তিনি উন্নয়নের জোয়ারে দেশ ভাসিয়ে দিয়েছেন। আমরা সেই উন্নয়নের জোয়ার দেখে ভয় পেয়েছিলাম – জোয়ারে ভেসে ভেসে কখন বঙ্গোপসাগরে পৌছে যাই ! যাই হোক জোয়ারে ভাসতে ভাসতে অল্পের জন্য বঙ্গোপসাগরে পৌছাই নাই । আশা করি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আমাদের উন্নয়নের জোয়ারে ভাসাবেন না । শুধু উন্নয়ন করলেই চলবে ।

সবশেষে বলতে চাই বেশি বেশি ব্লগ আর ফেইসবুকে ঘুরলে জীনের মিউটেশন হয় । তাই বেশি বেশি ব্লগ আর ফেইসবুকে ঘোরাটা একটা ভয়াবহ ব্যাপার । আর রাজনীতি না করেও রাজনীতি নিয়ে চিন্তা করা একটা ভয়াবহ ব্যক্তিগত বিপর্যয় ।

বিঃদ্রঃ বহুদিন পর বাংলায় লিখলাম । হাতের কাছে বাংলা অভিধান ছিল না । তাই আনিচ্ছাকৃত বানান ভুলের জন্য দুঃখিত ।