ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

আজ আমরা যে সুন্দর দেশটিতে বসবাস করছি অর্থাৎ পৃথিবীর মানচিত্রে লাল সবুজের যে পতাকাটি আমাদের বাঙালী বলে পরিচয় করিয়ে দেয় এই ধানে ধন্যে পুষ্পে ভরা সুন্দর দেশটির স্বাধীনতার রয়েছে অনেক গৌরবন্বিত ইতিহাস, যে ভাষায় সুন্দর করে মনের মাধুরী দিয়ে মনের ভাব প্রকাশ করছি তাতে ও রয়েছে রক্ত ঝরা সংগ্রাম আর ত্যাগ। আজ দেখতে দেখতে স্বাধীনতার চল্লিশ বছর পার করেছি এরই মাঝে আমরা হয়ত খুব ভাল কোন অবস্থানে পৌছাতে পারিনি অর্থনীতিতে, রাজনীতিতে, এমনকি সাধারণ ভাবে বেঁচে থাকার কিম্বা স্বাভাবিক মৃত্যুর অধিকার টুকুও নেই।

স্বাধীনতার পর থেকে সামরিক সরকার সহ সকল বড় রাজনৈতিক দলগুলোই কম বেশী ক্ষমতায় এসেছে বা থেকেছে, সবাই নিজেদের নিয়ে ভাবতে ভাবতে দেশ মাতার কথা ভুলে গেছেন। যত সামান্য যে সুবিধা পেয়েছি- তথ্য, প্রযুক্তি, চিকিৎসা এবং শিক্ষায় তাতে কম বেশী অবদান হয়ত তাদেরই! যা অস্বীকার করাটা অনুচিত হবে! তারা কি করেছেন আপনার আমার মনে না থাকলে ও উনারা অক্ষরে অক্ষরে বলে দিতে পারবেন।

এখন সবচেয়ে বড় কথা হলো আমারা একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছি, সচেতন নাগরিক, শিক্ষিত তরুণ সমাজ পেয়েছি সুতরাং ম্যান যদি ম্যান পওয়ার হয় আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে প্রয়োজন হবে না বদলে দাও স্লোগানের। যার যার অবস্থান থেকে সুন্দর কাজটি করলেই হবে, কোন যে কোন স্বার্থবাদী দলের ডাকে এমন কিছু না করি যাতে আমার দেশের জাতীয় স্বার্থ ব্যহত হয়।

আমার মনে হয় এখনকার শিক্ষিত ও সচেতন তরুণ তরুণীরা একটা চমৎকার ক্যারিয়ার চায়, তাদের এসব নোংরা রাজনীতি নিয়ে ভাববার সময় নেই, ভাবতে খুবই ভাল লাগে এখনকার তরুণ সমাজ ক্যারিয়ার নিয়ে কত সচেতন- কি ভাবে তাকে প্রেজেন্ট করলে স্মার্ট লাগবে, লেখাপড়ার পাশাপাশি বাড়তি কোন কোর্সটি করলে ক্যারিয়ারে যোগ হবে বাড়তি মাত্রা, কিভাবে ইন্টারনেট থেকে আয় করা সম্ভব, ডিগ্রি অর্জন করা সম্ভব এসব প্রতিভার সাক্ষর রাখতে নারী,পুরুষ কেউ পিছিয়ে নেই। আমরা এমন ও দেখেছি একটু সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিলে প্রতিবন্ধীরা অনেক সফলতা এনে দিচ্ছে। অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি আমরা খুব চমৎকার একটি সময়ে বসবাস করছি, কিছু খারাপ ব্যপার কে বাদ দিলে ইনশাআল্লাহ এই অবস্থান থেকেই ঘুরে দাঁড়ানে সম্ভব।

হয়ত বলতে পারেন শিক্ষিত তরুণেরা জাতির হাল না ধরলে দেশ কি ভাবে এগিয়ে যাবে, হয়ত এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার সময় এখন ও আসেনি!! তা না হলে এ দেশ ও জাতী যাদের ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আজ স্বাধীন, সে দেশে শহীদ ও মুক্তি-যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কথা শুধু বক্তব্যেই স্মরণ করে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো মুক্তিযুদ্ধের মত এমন পবিত্র কাজের কোনরূপ সহযোগীতায় লিপ্ত না থেকেও যারা এই মহান দায়িত্বের দাবিদার বলে সার্টিফিকেট হাতিয়ে অনেক সুবিধা ভোগ করছেন আর টিভি চ্যানেল ও পত্রিকার পাতাতে দেখি একজন মহান মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের অসহায় করুণ পরিণতি তখন খুবই কষ্ট হয়। বরং তাদের এই যত সামান্য প্রাপ্য তাদের বুঝিয়ে দিলে ক্ষতি কি!!

যারা আমাদেরকে অন্তত একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছেন তাদের উপহার থেকে তাদের জন্য একটু বরাদ্দ করলে আমাদের কারোরই কোন কষ্ট থাকা উচিৎ না। আপনারা যারা বিভিন্নভাবে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন- আমাদের মত অনেকে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যারা স্বাধীনতা যুদ্ধ দেখেনি, জন্মের পরেই স্বাধীন দেশ দেখতে পেয়েছে তাদের কাছে এসব সংবেদনশীল বিষয় গুলো সম্মানিত করে তোলাই হবে আপনাদের জন্য বিচক্ষণতার পরিচয়, যা কিনা মর্মান্তিক-ভাবে অনুভবনশীল!

সুতরাং আপনারা যারা যখনই এ দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আপনারা কাজে প্রমান করে দিন আর কারো দরকার নেই দেশের জাতীয় স্বার্থে সকল রাজনৈতিক দলগুলো এক হয় কাজ করতে পারেন এবং সকলকে শ্রদ্ধা করে কথা বলতে পারেন!