ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

 

পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙ্গালীরা শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে যে সব বৈষম্যের শিকার হয়েছে এবং হচ্ছে তা শান্তি চুক্তি ও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নীতির আলোকে বিশ্লেষণ করা হল:

১) চুক্তির ঘ অংশের ১০ অনুচ্ছেদে উপজাতীয় জনগোষ্ঠির জন্য চাকুরী ও উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে যে সকল বিশেষ সুযোগ সুবিধা অতীতে সৃষ্টি করা হয়েছিল তা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অথচ বাঙ্গালীদের জন্য এইরকম কোন বিশেষ সুযোগ সুবিধা রাখা হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামে যে সব বাঙ্গালী বসবাস করে তাদের শতকরা ৯৫ ভাগ রয়েছে দারিদ্র সীমারেখার নীচে। লেখাপড়ার ক্ষেত্রে তারাই সবচেয়ে বেশি অনগ্রসর। বর্তমানে উপজাতীদের স্বাক্ষরতার হার ৮৭% আর বাঙ্গালীদের স্বাক্ষরতার হার ৪৭%।

২) উপজাতীয় শিক্ষার্থীরা সরকারী বৃত্তি ছাড়াও সামান্যতম কৃতিত্বের কারনে অথবা দারিদ্রতার অজুহাতে কার্যক্ষেত্রে সঙ্গত কারণ ব্যতিত কেবল উপজাতীয় হবার সুবাদে পার্বত্য জেলা পরিষদ, আঞ্চলিক পরিষদ, পার্বত্য মন্ত্রণালয়, উন্নয়ন বোর্ড, জেলা প্রশাসন, পৌরসভা সমূহ হতে বৃত্তির মোটা অংকের অর্থ পেয়ে থাকে। এক্ষেত্রে বাঙ্গালী শিক্ষার্থীরা তাদের থেকে যোগ্যতা সম্পন্ন ও দারিদ্রতার শিকার হয়েও উপেক্ষিত হচ্ছে।

৩) এম ফিল, পিএইচডি কোর্সে স্কালারশীপ, ফেলোশীপ উপজাতীয়দের জন্য খুবই সহজ, কিন্তু বাঙালীদের জন্য কষ্টসাধ্য।

৪) চুক্তির ১৮ নং ধারায় পার্বত্য চট্টগ্রামে সকল সরকারী , আধা সরকারী, স্বায়ত্বশাসিত দপ্তরে সকল স্তরের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মচারী পদে উপজাতীয়দের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হবে বলে আইন করা হয়। এক্ষেত্রে বাঙ্গালীদের অধিকার চরমভাবে খর্ব করা হয়েছে।

৫) উপজাতীয়রা সামান্যতম শিক্ষার বদৌলতে বিভিন্ন সরকারী , আধা সরকারী, স্বায়ত্বশাসিত দপ্তরে চাকুরী পাচ্ছে। কিন্তু বাঙালীদেরকে এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

৬) দেশী বিদেশী বিভিন্ন বেসরকারী সাহয্য সংস্থা ( এনজিও ), বিদেশী সংস্থাগুলোতে (জাতিসংঘ, ডানিডা ইত্যাদি ) উপজাতীয়দের একচেটিয়াভাবে চাকুরী কর্মসংস্থানের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। তাদের মাঝেই শিক্ষা সম্প্রসারণে ব্যস্ততা পরিলক্ষিত হচ্ছে। উপজাতীয় এলাকাগুলোতে একের পর এক গড়ে উঠছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বাঙ্গালী অধ্যুষিত এলাকায় এই সব শিক্ষা কার্যক্রম চোখে পড়ে না বললেই চলে।

৭) যে কোন চাকুরী ক্ষেত্রে উপজাতীয়দের বয়স সীমা বাঙ্গালদের চেয়ে ৫/১০ বছর বাড়ানো হয়েছে।

৮) জাতীয় চাকুরীর ক্ষেত্রে উপজাতীয়দের জন্য ৫% সংরক্ষিত। কিন্তু বাঙালীদের জন্য এই সুবিধা নেই। এ সকল সুযোগ সুবিধার ফলে ৮০’র দশকেই ২৩৪৫ জন উপজাতীয় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে চাকুরী পেয়েছে। ২০০৩ সালে চাকুরীরত উপজাতীয়দের সংখ্যা ৫ হাজারের বেশী ছিল বলে বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানা যায় বর্তমানে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ হাজারে। সে হারে বাঙ্গালীরা তেমন চাকুরী পায় না।

৯) সরকার পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে উপজাতীয় ছাত্র ছাত্রীদের জন্য ১৩টি ছত্রাবাস করে দিয়েছে অথছ বাঙ্গালীদের জন্য ০১ টি ( ২০০৮ সালে স্থাপিত )।

১০) দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, বি আই টি, ক্যাডেট কলেজ, পলিটেকনিক কলেজ সমূহ সহ সকল উচ্চ প্রতিষ্ঠানে প্রতি বিষয়ে দুই থেকে পাঁচ জন ছাত্র ছাত্রী উপজাতীয় কোটায় ভর্তির সুযোগ পায় এক্ষেত্রে বাঙ্গালীদের অধিকার চরমভাবে খর্ব করা হয়েছে।

১১) বি সি এস পরীক্ষায় উপজাতীয় প্রার্থদের জন্য ২৫% কোটা সংরক্ষণ করা হয়েছে এক্ষেত্রে বাঙ্গালী প্রার্থীদের বঞ্চিত করা হয়েছে।

১২) বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে হাজার হাজার উপজাতীয় ডাক্তর, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, সেনা অফিসার, প্রশাসনে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, শিক্ষক, ব্যাংকার, পুলিশ কর্মকর্তা, এনজিও কর্মকর্তা, বিদেশী সংস্থার কর্মকর্তা খুঁজে পাওয়া যাবে। বিপরীতে পার্বত্য অঞ্চলের বাঙ্গালীদের হাজার দূরের কথা শতের কোটাও পার হতে পারেনি।