ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

ভিক্ষা চাই না মা জননী, কুত্তা সামলান..। আহারে কপাল কত স্বপ্ন দেখলাম পদ্মা সেতু নিয়ে, স্বপ্ন দেখতে দেখতে স্বপ্ন……ষ হয়ে যাবার জোগাড়। সর্বশেষ স্বপ্ন দেখালেন মহামতি ওবায়দুল কাদের সাহেব, তার উৎসাহ উদ্দিপনা আর টিভি ক্যামেরার সামনে কাব্যিক শব্দচয়ন শুনে যারপরনাই পুলকিত হয়েছিলাম যে এবার হবেই হবে।

বিগত যোগাযোগ মন্ত্রীকে জড়িয়ে পদ্মাসেতুর কেলেঙ্কারীর কানাঘুষা শুনতে শুনতে যখন কান ঝালাপালা তখন বর্তমান মন্ত্রী মহোদয়ের কথা বসন্ত বাতাসের মত প্রশান্তি দিয়েছিলো আমাদের কর্ণকূহুরে।
মালয়েশিয়া পদ্মাসেতুতে বিনিয়োগ করবে কিভাবে তার ফিরিস্তি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। চিচিংফাক হয়েছে যে মালয়েশিয়া সরকার অর্থায়ন করবে না,উনারা ঠিকাদারের ভূমিকায় থাকবেন আর টাকা আসবে দুবাইভিত্তিক অজ্ঞাত উৎস থেকে। আনন্দের বিষয় মালয়েশিয়া বা বাংলাদেশ সরকার সেই উৎস সম্পর্কে কোন প্রশ্ন তুলতে পারবে না। আসুন আমরা আনন্দে উদ্বাহুনৃত্য করি।

এই আনন্দের মহা-আনন্দ হচ্ছে এমন প্রস্তাব নাকি ঢাকা থেকে দেয়া হয়েছে। (এটা আমার কথা না ভাই পত্রিকাওয়ালারা জানাইছে )

এমনিতেই এ ধরনের জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো বেসরকারি খাতে চলে গেলে রাষ্ট্রের জনগন তা থেকে কতটা সুফল পাবে তা নিয়ে অনেক আলোচনা সমালোচনা রয়েছে। সম্প্রতি রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। ইতিমধ্যে এই প্রকল্পটি যে আমাদের অর্থনীতির জন্যে ব্ল্যাকহোল এ রুপান্তরিত হয়েছে সেটা হারে হারে টের পাচ্ছি আমরা । জটিল পেপটিক আলসার এর ব্যাথা পেইনকিলার দিয়ে হয়তো সাময়িক আরাম পাওয়া যায়, তবে শেষ পর্যন্ত কিন্তু সেই অংশটুকু কেটে ফেলে দিতেই হয়।

পদ্মাসেতু আমাদের অতি দরকারি একটা প্রকল্প তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তাই বলে সরকার সব নীতি নৈতিকতার মাথা খেয়ে যার যেভাবে খুশি সেভাবেই সিদ্ধান্ত নেবেন আর তার দায়ভার নিরীহ জনমানুষের উপর চাপিয়ে দেবেন তাদের দায়মুক্তি ঘোষনা করে, আমরা কেবল চিল্লা-ফাল্লা করে যাবো, আর কতদিন চলবে এই খেলাধুলা ? স্বচ্ছতার সাথে, পেশাদারীত্ব কে প্রাধান্য দিয়ে একটা কাজ ও কি করা যায় না ? দরকার নাই পদ্মাসেতুর কেবল ব্যবসা করার জন্য।

ভিক্ষা দরকার নাই মা, কুত্তা সামলান।