ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

অবশেষে অরিন্দম কহিলেন, “সাগর-রুনির হত্যাকান্ডে জামায়াত-শিবির জড়িত রয়েছে: স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু বলেছেন এই কথা !!তিন আরো বলেছেন দেশের আইনশৃঙ্খলা পূর্বের চেয়ে ভালো । গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি এ কথা বলেন।

তবে তো হয়েই গেলো আমরা কেষ্ট বেটাকে পেয়েই গেলাম। এখন খুঁনিকে ধরে-বেধে এনে ফাঁসিতে লটকাই দিলেই কুল্লু খালাস। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে আর আমরা মনের আনন্দে হাওয়াই-মিঠাই খেয়ে বেড়াব।

শেষ পর্যন্ত হয়তো আমাদের সাধারণ মানুষের আশংকাই সত্যে পরিনত হতে যাচ্ছে, বিগত আর সব হত্যাকান্ডের মত একই পরিনতি লাভ করতে যাচ্ছে সাংবাদিক দম্পতির হত্যাকান্ডের তদন্ত ফলাফল। আমাদের আশংকা এই কারনে যে, আগের সব হত্যাকান্ড নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের অনুরুপ কথাবার্তা আর মনের মাধুরী মিশিয়ে শান্তনার বাণী ঠিক এভাবেই শুনেছি। ক্রমবর্ধমান ঘটনা-অঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একসময়ের আলোচিত ঘটনাগুলো চাপা পরে যেতে দেখছি । মোটামুটি ভাবে ১৫টা দিন পার করে দিতে পারলেই হয় তারপর আর কে মনে রাখে কার কথা ! সাগর-রুনি তো আমাদের আত্মীয়-স্বজন কেউ নয়। যে নি:স্পাপ শিশুটি তার মা বাবাকে হারিয়েছে, যে মা-বাবা তার সন্তানদের হারিয়েছে এটাতো তাদের ব্যাপার। প্রেমিকার কোমরে হাত রেখে কিংবা নিজের সন্তানদের নিয়ে পার্কে হাটতে হাটতে বাদাম খেতে পারলেই আমরা আনন্দিত। যেদিন আমাদের নিজেদের ঘরে ঘটবে এই ঘটনা সেদিন হয়তো কেউ জানতেই পারবে না আমাদের নিজেদের মানুষ ছাড়া।

এই হত্যাকান্ডের তদন্ত ফলাফল দিয়ে আমরা বিচার করতে চাই আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কতটা প্রফেশনাল, কতটা যোগ্য তারা। নাকি অযথাই আমাদের কষ্টার্জিত আয়ের অংশ থেকে তাদের লালন-পালন করছি। উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে অনেক দেখছি আমরা। দোহাই আল্লাহর; বিরক্ত লাগে এখন। নাগরিক হিসেবে এই সামান্য চাওয়াটুকু কি আমরা পেতে পারি না ? দেশের প্রতিটা ঘটনার সাথেই যদি জামায়াত-শিবির জড়িত থাকে তাহলে তাদের ধরেন না কেন বাপ !!!! এই এক গল্প শুনতে আর কত ভালো লাগে ?

অতি সম্প্রতি মেয়র লোকমান হত্যাকান্ড সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলি এখনো ভুলে যাইনি আমরা। জজ মিয়া নাটক তো এখনো মঞ্চস্থ হচ্ছে।

ঘন্টার হিসেবে পানি অনেকদুর গড়িয়েছে। তদন্তে প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি হওয়ার পর এখন যদি ডিবি পুলিশ আবার নতুন করে তদন্ত শুরু করতে হয় তবে আমাদের সন্দেহ গভীরতর হতেই পারে যে কোনকিছুই আসলে আমাদের নিয়ন্ত্রনে নেই। কোন এক অদৃশ্য লাটাইএ আমাদের সুতা বাধা আছে। নয়তো কেন আমরা একটা ঘটনারও সুষ্ঠ-স্বাভাবিক তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত হওয়া দেখতে পাবো না।

প্রতিদিন পত্রিকার পাতা খুললেই যে অস্বাভাবিক মৃত্যুর সংবাদ আমরা দেখি তার রহস্য উন্মোচনের আশা তো তবে নিতান্তই দুরাশা !! তিল তিল করে ঘনিভূত হওয়া অক্ষমতার ক্রোধ কখন কাকে কিভাবে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে সেটা কে বলতে পারে। আমদের এখন প্রার্থনা করা ছাড়া আর কোন উপায় রইলো না তবে। এটাই হয়তো স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের নিয়তি।