ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আল-জাজিরা টেলিভিশন চ্যানেলের কল্যাণে আরব বসন্ত তথা মিশরে, লিবিয়া সহ তদ-অঞ্চলের গণ-অভ্যুত্থান এর পর্যায়ক্রমিক ঘটনা সারা বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে। লিবিয়ার দোর্দণ্ড প্রতাপশালী একনায়ক মুয়াম্মার গাদ্দাফীকে তার আপন দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে দেখেছি আমরা। অনেক রক্তক্ষয়ের পর তার নিজের বিভৎস মৃত্যুর ছবিও আমরা দেখেছি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বদৌলতে। তার নিজের শহর সিরতে তার অনুসারী আর সরকারি বাহিনী দ্বারা পরিবেষ্টিত থেকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে দেখেছি।

বাংলাদেশে কি বর্তমানে সেই রকম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে ? গতকাল এবং আজকের প্রায় প্রতিটি দৈনিক পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলো “ঢাকা অবরুদ্ধ” টাইপ সংবাদ পরিবেশিত হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে কেন ? রাজধানী ঢাকার সাথে কেন সমগ্র দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে ?
দৈনিক নয়া দিগন্ত লাল কালিতে হেডলাইন করেছে

” বিধিনিষেধ মহাসমাবেশ ” ‘পুলিশকে ১৯দফা নির্দেশনা : সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন রাজধানী’

বিপুল জনমত নিয়ে গঠিত একটি গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে এমন নেতিবাচক কর্মকান্ড তার বিপুল জনমতকে বিদ্রুপ করারই শামিল। বিরোধীদলের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট দলের নেতা-কর্মিরা যতটা না করতে পেরেছে সরকারী দলের গৃহিত কার্যকলাপ সমগ্র দেশ জুড়ে ঠিক ততটাই ভীতি আর আতংক ছড়াতে পেরেছে। জলকামান, রায়টকার, গ্যাস গ্রেনেড সহ মোতায়নকৃত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৌড়ঝাপ দেখে মনে হচ্ছে আগামীকাল না জানি কি হয় !!! এই সমস্ত কার্যকলাপ বিরোধীদলের ফাও বিজ্ঞাপন পাওয়ার মত কাজ হয়েছে, অথচ এটা বিগত সব সমাবেশের মতই কেবল একটা সমাবেশ হতে পারতো। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমিও আর সবার মত আতংকিত। সরকারী ও বিরোধীদলের পাল্টা-পাল্টি কর্মসুচি আমাদের নাগরিক জীবনকে শেষ পর্যন্ত কোন অশান্তির দিকে নিয়ে যায় সেটা এখন কেবল ভবিষ্যৎ’ই বলতে পারবে। কারণ বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়গুলিতে তৃত্বীয় পক্ষ সুযোগ নিয়েছে, ইতিহাস তার স্বাক্ষী। জাতি হিসেবে এটাই হয়তো আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য।