ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার ‘তদন্তে প্রত্যাশিত ফল অর্জনে গোয়েন্দা পুলিশ ব্যর্থ হয়েছে।’ তদন্তের দায়িত্ব র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র‌্যাব) দেওয়ার জন্য পুলিশের মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সহকারী পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার নিচে নন এবং এ ধরনের তদন্তে অতীত অভিজ্ঞতা আছে, এমন কর্মকর্তাকে তদন্তকারী হিসেবে নিয়োগ দিতে র‌্যাবের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। মামলাটির তদন্ত সঠিকভাবে চলছে কি না, তার তদারকির জন্য একটি কমিটি গঠন করতে স্বরাষ্ট্রসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে

আদেশে বলা হয়, ‘তদন্তে প্রত্যাশিত ফল অর্জনে গোয়েন্দা পুলিশ ব্যর্থ হয়েছে। তারা নিজেরাও পরোক্ষভাবে স্বীকার করছে, কোনো সাফল্য দেখাতে পারেনি। এটা হতাশাজনক। আমরা সাংবাদিক ও আইনজীবীদের বক্তব্য শুনেছি। মামলাটি তদন্তের জন্য গোয়েন্দা পুলিশ থেকে স্থানান্তর করে র‌্যাবে পাঠাতে আইজিপিকে নির্দেশ দেওয়া হলো।’

আদালত ১৬১ ধারার জবানবন্দিগুলো দেখতে চান। তদন্ত কর্মকর্তা নথিপত্র আদালতে দাখিল করেন। ২৫ মিনিটের মতো নথিপত্র পর্যালোচনার পর আদালত পুলিশের উপকমিশনার মনিরুল ইসলামের বক্তব্য শুনতে চান।

সাড়ে ১১টার দিকে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত-প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমি সেভাবে জড়িত নই। ঘটনাটি ঢাকা উত্তরের, আমি দক্ষিণের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের মুখপাত্র হিসেবে আমি গণমাধ্যমে কথা বলেছি। তবে আদালতের আদেশের পর এ মামলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা আন্তরিকভাবে সর্বোচচ চেষ্টা করছেন।’

সাগর রুনি দম্পতি নিহত হওয়ার পর থেকে কত লেখালেখি, কত বিক্ষোভ, কত মানব বন্ধন, কত বক্তৃতা বিবৃতি, কত আশ্বাস আর আকুতি, কিছুতেই কিছু হলো না। যে হত্যাকাণ্ডটি নিয়ে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ উদগ্রিব ছিলো সে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ফলাফল নিয়ে যখন আদালত হতাশা প্রকাশ করেন তখন সাধারণ নাগরিকদের অবস্থা সহজেই অনুমেয়। পুলিশের উপকমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেছেন ‘তদন্ত-প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমি সেভাবে জড়িত নই। ঘটনাটি ঢাকা উত্তরের, আমি দক্ষিণের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তাহলে এতদিন আমদেরকে কেন বোকা বানানো হলো?

ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিন, তদন্ত প্রক্রিয়ার সাথে আমি সেভাবে জড়িত নই, এসব কেমন ধরণের কথা ? এমন চাঞ্চল্যকর একটা মামলার তদন্তে এত হেলাফেলা কেন করা হলো ? কোন জবাবদিহিতা নেই এজন্যে ? কেবল তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশ থেকে র‌্যাবে স্থানান্তর করাই সমাধান ? ব্যর্থতার জন্য তাকে কেন শাস্তি পেতে হবে না ? তাকে তবে কেন আমাদের ট্যাক্স এর টাকায় বেতন দেয়া হয় ? এখন র‌্যাব যদি ব্যার্থ হয় ? প্রতিদিন, প্রায় প্রতিটা দিন- খুন, ডাকাতি, মানুষ নিখোজ হয়ে যাওয়ার তালিকা কেবল বড়ই হচ্ছে। এই নিকট অতীতে কতগুলো চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড আর মানুষ নিখোঁজের ঘটনা ঘটলো, তার কয়টার রহস্য উদঘাটন করেছে আমাদের পুলিশ বাহিনী ? বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তবে কেন পোষা হচ্ছে ? তাদের কাজটা আসলে কি ? আমাদের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে বলেছিলেন অপরাধী যেই হোক শাস্তি তাকে পেতেই হবে ইনশাল্লাহ। তার এই ওয়াদার কি হবে ?

কৃতজ্ঞতা : প্রথমআলো