ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

“Accountability” ছোট্ট একটা শব্দ মাত্র, এর অর্থবোধক ব্যাপ্তির সামান্যতম একটা অংশ যদি আমরা পরিপালন করতাম তাহলে বোধকরি বাংলাদেশের আজ এই অবস্থা থাকতো না।গত কয়েকদিনের দৈনিকগুলো পড়লে মনে হয় “রাষ্ট্রদ্রোহিতা” আর “সংবিধান লঙ্ঘন” বিষয়টা এখন আর ডাল-ভাত নেই পানি-ভাত হয়ে গেছে।

সড়ক ভবন নিয়ে উচ্চ আদালতের একটি রায়কে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদের বৈঠকে আলোচনা প্রসঙ্গে স্পিকারের বক্তব্যকে রাষ্ট্রদোহিতার শামিল বলে অভিমত দিয়েছে হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ। বিচারপতি এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ স্পিকার আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট সম্পর্কে এ অভিমত প্রকাশ করে। আদালত আরও বলে, স্পিকার জাতীয় সংসদে যে আলোচনায় অংশ নিয়ে জনগণ ক্ষুব্ধ হলে আদালতের প্রতি রুখে দাঁড়াতে পারে বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল, তাই তার আর এই পদে থাকার অধিকার নেই।

অপরদিকে জাতীয় সংসদে সাংসদ চুন্নু বলেন, শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক হাইকোর্টের বিচারপতি হয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের দয়ায়। কোনো লিখিত পরীক্ষা ও যোগ্যতা ছাড়াই তিনি বিচারপতি হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকার গত আমলে এ লোককে যোগ্যতা ছাড়া, পরীক্ষা ছাড়া হাইকোর্টের বিচারক নিয়োগ করেছে। এ ব্যক্তি বিচারক হওয়ার পর সারাদেশের সচিব আইজিসহ যত ভদ্রলোক আছেন তাদের সামান্য কারণে হাইকোর্টে ডেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড় করিয়ে রেখে বেইজ্জতি করেন। এ বিচারপতি সেই ব্যক্তি—যিনি বিমানে সামনের আসনে বসার জন্য বিমানের এমডিকে হাইকোর্টে ডেকে বেইজ্জতি করেছেন। চুন্নু বলেন, ‘আমার স্পষ্ট অনুমান হয়, এই ব্যক্তি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত। তিনি কোনো সুস্থ মানুষ নন।’ এ সময় উপস্থিত সদস্যরা ঠিক ঠিক বলে উচ্চৈঃস্বরে তার বক্তব্যকে সমর্থন জানান।

সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বলেন, আমরা মনে করি সার্বভৌম সংসদের স্পিকার সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য সংসদেরই অবমাননা; সংবিধানের লঙ্ঘন। আমরা তিনদিন অপেক্ষা করব, প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল করেছেন কি না। যদি না করেন, জাতীয় সংসদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রয়োজনে ইমপিচমেন্টের ক্ষমতা আমরা ফিরিয়ে আনব।

আইন বিষয়ে আমার জ্ঞান নিতান্তই মূর্খতার পর্যায়ের। তাই রাষ্ট্রদ্রোহিতা কিংবা সংবিধান লঙ্ঘন শব্দগুলো খুব জটিল আর ভয়াবহ মনে হয় আমার কাছে। কারন নিকট অতীতে আদালত অবমাননা বিষয়ে যে ঘটনাগুলো আমাদের দেশে ঘটেছে তাতে ভয় পাওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে বৈকি। আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদকের জেল যাপন তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

সবচেয়ে মাথা আউলা বিষয় হলো সাংসদ চুন্নু যে বলেছেন “শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক হাইকোর্টের বিচারপতি হয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের দয়ায়। কোনো লিখিত পরীক্ষা ও যোগ্যতা ছাড়াই তিনি বিচারপতি হয়েছেন।” তবে এতোদিন যে বিরোধীদল বলে আসছে যে বিচার বিভাগ কে চরম ভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে, অযোগ্য লোকদের বিচারপতি পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে সে কথাগুলো তো তাহলে প্রতিষ্ঠিত সত্য হয়ে গেলো !! কারণ জাতীয় সংসদে যারা কথা বলেন তারা নিশ্চই দায়ীত্ব নিয়েই কথা বলেন, তারা তো আর আমাদের মত মূর্খ আমজনতা না। তার উপর তারা আবার সকলেই ক্ষমতাশীন দলের সাংসদ ।

অর্পিত বিশ্বাস আর প্রাপ্ত ক্ষমতা কি কখনোই জবাবদিহিতার কাছে মূল্যায়িত হবে না ? যার যার অবস্থানে থেকে আমরা কে কতটা অসৎ হতে পারি কেবল সেই প্রতিযোগিতাই করে যাবো ? সৃষ্টিকর্তার কাছে জবাবদিহিতার প্রশ্নেও আমরা কেউ নমনীয় হব না একটুও ? সবার জন্য শুভ কামনা।

কৃতজ্ঞতা : দৈনিক আমার দেশ