ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

টিভি, রেডিও, টেলিভিশন কিংবা ইন্টারনেট নিউজ এজেন্সিতে যারা কাজ করেন-শ্রম বিক্রি করেন সেইসব গণমাধ্যমকর্মীদের অর্থনৈতিক জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার কথা লিখবো ভাবছি…

Trapped

যদিও ব্লগ লিখছি তারপরও শুরুতেই একটু কূটনৈতিক হই:

বলে রাখি এই লেখাটির সবগুলো চরিত্রই কাল্পনিক। কারো জীবনের সাথে তা মিলে গেলে তার জন্য আমি নগণ্য ব্লগার দায়ী নয়।

MULA JHULANTTIS

জনৈক ওমুকের গল্প শুরু কোনো এক মিঠে-কড়া রোদের দুপুরে। দুপুরের খাবার শেষে চায়ের কাপে অন্যান্য দিন ঝড় তুললেও আজকে কেন যেন আরাম পাচ্ছেন না। পকেটে যে খামটা আছে তা নিয়ে যার পর নাই বিপাকে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার! বড় গ্রুপের বড় চ্যানেলের কাজ করার সুযোগ। খুশীই তো হবার কথা তার উপর আপনজনরা সবাই দলে দলে যোগ দিয়েছে সেখানে। কিন্তু বেতন যে ধরেছে মেলা কম! কি করা উচিত আর কি করা উচিত না এসব চিন্তা করতে করতেই জয়েনিং সম্পন্ন। তারপর রাতদিন পরিশ্রম আর ফলশ্রুতিতে চ্যানেল তুঙ্গে। মালিকদের মুখে বিজয়ের হাসি। সেই হাসির ভাগও আবার পায় সে। মালিক না হয়েও হাসির ভাগ পাওয়া কি চাট্টিখানি কথা! মাঝে মাঝে তো মনে হয় চ্যানেলে পুরো এক পার্সেন্ট না হোক, এক ছটাক হলেও তো শেয়ার তার আছেই আছে! হাসির ফাঁকে একটু দম নিয়ে মালিক মাঝে মাঝেই বলে ওঠে ‘ইনক্রিমেন্ট হবে রে ভাই আসেন আমরা কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে কাজ করি। আপনাদেরই তো চ্যানেল।‘ শেয়ারের উপলব্ধিটা আরো একটু যেন প্রখর হয়! ওমুক ভাবে, ‘আমাদেরই তো চ্যানেল মার কাছা, নাম কাঁদায় বলো হেইয়ো। ফসল যখন বুনেছি সোনালী ধান নিয়েই বাড়ি ফিরবো!’

জনৈক ওমুকের গল্প যখন মাঝামাঝি, সেদিনও কোনো এক মিঠে-কড়া রোদের দুপুর। দুপুরের খাবারের পর হাতের সিগারেট টা অন্যদিন মধূ মনে হলেও আজ যেন বিস্বাদ! পকেটে যে খামটা আছে তা নিয়ে আবারো বিপাকে এবং বেশ বিভ্রান্তিতেও। ইনক্রিমেন্ট লেটার! আপনজনদের বিবেচনার ইনক্রিমেন্ট। কিন্তু এমন নাজুক কেন! হাসির ভাগ পেলাম আর নোটের ভাগ পেলাম না! এসব চিন্তা করাও কি পাপ। ভাবতে ভাবতেই হাতে ছ্যাঁকা! ধ্যঁত সিগারেটটা! হাতে পানি দিতেই ফোস্কা পরে গেল। ওমুক কি তখনও জানতো পরমুহুর্তেই তার মনেও ফোস্কা পরতে যাচ্ছে! ততোক্ষনে পাশে এসে ওমুকের এক সহকর্মী তার নিজের ইনক্রিমেন্ট নিয়ে অনেক কষ্টের কথা বলে গেল। ওমুক একটু স্বস্তিতে! মনে মনে বলল, ‘যাক মালিকের পাশে সারাক্ষণ আঠার মতো লেগে থেকে যদি এই হয় দশা; হলে তৈল মর্দন ছাড়াই আমি যা পেয়েছি। তা খারাপ কি! আহা! এই সান্তনা যে টিকলো না এক মুহুর্তও। কারণ পরক্ষনেই জানা হয়ে গেল, মালিকের চামচা সহকর্মী এতোক্ষণ কেঁদেছে নাকি কান্না। এটাও হয়ত একটা চাল। ওমুকের মুখ ভর্তি লালা যখন দলা করে মাটিতে ফেলল তথন সেটা ঘৃণায় ভরা এক দলা থু! বেশ শব্দ করেই ওয়াক থু!

জনৈক ওমুকের গল্প যখন প্রায় শেষ, সেদিনও কোনো এক মিঠে-কড়া রোদের দুপুর। দুপুরের খাবার তখনও খাওয়া হয়নি। সিগারেট আর চায়ের তেষ্টাও পেয়েছে খুউব! কিন্তু না। হাতের কাজ সেরেই তবে ওসব হবে। এবার তার পকেটে চিঠি নেই তবে চিঠিই লিখছে সে….

ব্লগাররা আমার খবরের বিস্তারিত-তে যথেষ্ট বিরক্ত বলেই আমার ধারনা। আসুন তাহলে এবার হেডলাইনের মতো কিছু ইসট্রেইট লাইন:

গণমাধ্যমে বিশেষ করে ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে ইনক্রিমেন্ট একটি মুলা ঝুলান্তিস খেলা। ছেলেবেলাই টুক পলান্তিস খেলতাম অনেকটা সেরকম। এই খেলা মালিকরা যতো নিখুঁতভাবেই খেলুন না কেন, আখেরে তাদের হার পিরাই সুনিশ্চিত। কারণ খুব কম খেলোয়ারই আছেন এই খেলা একই মালিককে তার সাথে দ্বিতীয়বার খেলার সুযোগ দেন। আর সে কারণেই যখন দলা ভূপাতিত হয়, তা কি আর তা মুখে তোলা সম্ভব? আপনারাই বলুন! আর এই দলা ক’জনাই বা পারে গিলে ফেলতে?

ওমুকের ইতিটা জানাতে খুব ইচ্ছে হচ্ছে(ব্লগারদের একটু কষ্ট দেই, ক্ষমাপ্রার্থী) ওমুক আর হাসির ভাগ নেবে না বলেই সিদ্ধান্ত নেয়। কারন মালিকের চারপাশের কাচের দেয়ালের আশপাশে যারা ঘোরাফেরা করে মালিক শুধু তাদেরকেই হাসিসহ সবকিছুর ভাগ দেবেন! সুতরাই, আবারো সেই মিঠেকড়া রোদের দুপুর। আবারো চায়ের কাপে ঝড়। ওমুক তার বন্ধু তমুক এবং আরো সবাই আবারো একই সুরে। মালিকের চেলাচামুণ্ডারাও আছে সেখানে! তাদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ! তারপর তারপর…আস্তে আস্তে হাসি কমতে থাকা। একসময় নিষ্প্রাণ চ্যানেল অথবা সস্তা হাসিতে ভরপুরতা। ফলাফল একটাই: ভুতুড়ে বাড়ি বলে কেউ হয়ত ভিড়বে না সেখানে আবার সস্তা প্রমোদখানার দিকেও হয়ত চাইবে না কেউই।

সুতরাই, মুলা ঝুলান্তিস খেলা বন্ধ করুন। আমাদের মিডিয়া তার ছেলেবেলা শেষ করেছে বলেই আমার ধারণা। ক্রিকেট, ফুটবল, হা-ডু-ডু খেলুন আর ইনডোর পছন্দ হলে কেরাম খেলতে পারেন! সবচেয়ে ভালো হয় দাবা খেলতে পারলে!!!