ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ব্লগ সংকলন: সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড

 
Sagor Runi Murder

জাতীয় যাদুঘরের সামনের রাস্তায় গোল করে মানুষের ভীড় করে আছে! স্বাভাবিক কৌতূহলেই ভীড় ঠেলে কাছে গিয়ে দেখি সেখানে পরে আছে দুজন মানুষের রক্তাক্ত মরদেহ! তাদের শরীরৈর জমাট বাঁধা রক্তে পিচ ঢালা রাস্তারও বেশ খানিকটা ভিজে গেছে! শেষ নিশ্বাস ফেলবার আগে দু’জন দু’জনার হাত ধরার চেষ্টা করেছিল কি? হয়ত করেছিল! কিন্তু সেই শেষ ইচ্ছেটা হয়ত না পাওয়ার ফর্দ আরেকটু বড় করেছিল! এসব ভাবছি আর একটু একটু করে তাদের কাছে যাচ্ছি। জানতে ইচ্ছে হচ্ছিল কারা এরা? এই মানুষ দু’জন আমাদেরই কেউ! এক পা এক পা করে যতই এগুচ্ছি ততই মনে হচ্ছে সামনে গিয়ে যদি সত্যিই কোনো পরিচিত মুখ দেখি তখন! ভয় বাড়তে লাগলো সামনে গিয়ে আমার ভয়টাই সত্যি হলো……এরপর একমিনিট নীরবতা! আমার ভাই সাগর আর আমারই বোন রুনি! ওদের মলিন মুখের ভাষায় খুজতে আমি ডুবে গেলাম, চলে গেলাম অন্য এক জগতে! পরবাস্তব কোনো জগতে যেখানে আনমনে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সাগর-রুনি। তাদের পেছন পেছন আমিও চলতে লাগলাম! হঠাৎ কে যেনো ডাকলো আমায়! পেছন ঘুরে কাউকে না দেখে আবার যখন সাগর রুনির দিকে তাকালাম তারা তখন অনেক দূরে…। একটা ঘোলাটে কুয়াশায় হারিয়ে যাচ্ছে ধীরৈ ধীরৈ..। যে ডেকেছিল সেই হয়ত আমার কাঁধে হাত রাখলো চমকে উঠে তার দিকে তাকাতে কষ্ট হচ্ছিল খুউব। বিশাল আকাশের নীল আলোয় তার চেহারা বড্ড অস্পষ্ট! একটু একটু করে পরিস্কার হচ্ছিল তার চেহারা আর আমি ফিরছিলাম বাস্তবে! আমাদের সুফিয়ান ভাই! ব্লগার সুফিয়ান ভাই!

সামনে তাকিয়ে দেখি পরে আছে সাগর-রুনির প্রতীকি মরদেহ। গতকালই তাদের আবারো করব দিয়েছে আমাদের সমাজ। একবার মাটি চাপা দিয়ে ক্ষান্ত হয়নি সমাজ। আড়াই মাস পর আবার তুলেছে কবর থেকে। তৃতীয়বারের তাদের শরীরে মতো চালিয়েছে ধারালো কিছু! তৃতীয়বার? প্রথমবার খুনীরা, ২য়বার প্রথম পোষ্ট মর্টেম আর সবশেষ ভিসেরা পরীক্ষার ছুঁতোয়! মৃত্যুর আড়াই মাস পরও পৃথিবীর আলো ছুয়ে গেছে তাদের মরদেহ। সাগর-রুনিকে মাটি চাপা দেয়া সহজ হবে না! এটাই তার প্রমাণ! কবর থেকে উঠে তারা এখন সবার হৃদয়ে! কখনো যাদুঘরের সামনে, কখনো ছবির হাটে, কখনো রাজু ভাস্কর্যের সামনে।

সাংবাদিকদের আন্চাদোলন তথা চা-কফি পর্ব তারপর, পুলিশের ব্যর্থতা এরপর র‌্যাবের কল্যাণে উঠে আসা আবারো মর্তে! আবারো বলতে চাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস সাগর-রুনি হত্যার বিচার মাটি চাপা দেয়া যাবে না।

(ব্লগার, ৬১জন চিত্র সাংবাদিক আর চারুকলার বেশ ক‘জন তরুনের উদ্যোগে আজ বিকেল চারটায় এই প্রতিবাদ জানানো হয়। যেখানে স্বতস্ফূর্তভাবে অংশ নেন সব বয়সের এই সমাজেরই মানুষ। তাদের প্রতি অফুরান কৃতজ্ঞতা। জাগো বাহে জাগো! হত্যার বিচার হবেই, হতেই হবে, কোনো কিছুতেই মাটি চাপা দেয়া যাবে সাগর-রুনিকে!)