ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

গত ২২ এপ্রিল এমপি হোস্টেলের ৬ নম্বর ব্লক থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক নারীর অর্ধ গলিত লাশ উদ্ধার হয়। লাশটির পরিচয় পাওয়া যায় নি।পুলিশ বলেছে, ওই নারীকে হত্যা করা হয়েছে। যেখান থেকে লাশ উদ্ধার হয় তার পাশে ৩ জন সংসদ সদস্যের কক্ষ রয়েছে। তবে তারা সেখানে থাকেন না। থাকেন তাদের ব্যক্তিগত সহকারী এবং দলীয় নেতাকর্মীরা।

জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার খেজুর বাগান, জিয়া উদ্যান, আগারগাঁও এবং জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ড এলাকায় প্রতিদিন রাতে দেহ যৌনকর্কমীদের আড্ডা বসে। ভাসমান চা বিক্রেতারা খদ্দের সংগ্রহে সহায়তা করে। সঙ্গে থাকে টহল পুলিশের সহযোগিতাও। একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে সংসদ ভবন এলাকার আশপাশের এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, হোস্টেলে সংসদ সদস্যরা থাকেন না, থাকেন তাদের দলের নেতাকর্মীরা ও তাদের ব্যক্তিগত সহকারীরা। এদের মধ্যে অনেকেই আবার দাগি আসামি। তারা হোস্টেল থেকেই মাদক ব্যবসা আর সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করে। রাতে বসে জমজমাট আসর।

এমপি হোস্টেল এলাকায় ঢুকতেই ফটকে রাখা নিবন্ধন খাতায় অতিথির নাম, জেলা, মুঠোফোন নম্বর, যার কাছে যাবেন, সেই সাংসদের নাম ইত্যাদি তথ্য লিখতে হয়। কিন্তু, দায়িত্ব প্রাপ্ত, পুলিশ সদস্যরাও ওই নারীর বিষয়ে কিছু জানেন না। ওই নারী কীভাবে ঢুকলেন, তার কিছুই জানেন না। এমপি হোস্টেলের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ব্লকের তত্ত্বাবধায়ক আনোয়ার হোসেন। তিনি ছিলেন ১৫ দিনের ছুটিতে।

এমন এক সময় এ ঘটনা ঘটেছে যখন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের ব্যক্তিগত সহকারী বিপুল অংকের টাকা নিয়ে ধরা পড়েছে। বি্এনপি নেতা ইলিয়াস আলী গুম হয়ে গেছে। এই মাতামিতে মিডিয়া ওই হতভাগ্য মেয়েটির কথা ভুলেই গেছে। ক্রাইম রিপোর্টারা এ নিয়ে তেমন কিছু লিখছে না, সংসদ বিটের সংবাদিকরাও নিশ্চুপ। সংসদে খুন হওযা নতুন নয়। সাংসদ নূরনবীর পিস্তলের গুলিতে যুবলীগ নেতা ইব্রাহিম খুন হল, বিষয়টি চিরতরে ধামাপাচা দিতে তদন্তের ভার দেয়া হয়েছে সিআইডিকে। সিআইডি মনে হয় সে দায়িত্ব ভাল করেই পালন করছে।

কিন্তু আমি এখানে আলোকপাত করতে চাই সংসদের আসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ে। আমি ২০০৬ সালে দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকাতে সংসদের এ সব কর্মকান্ড নিয়ে সিরিজ রিপোর্ট করেছিলাম দুই পর্বের। কোনো প্রতিবাদ দেয়া হয়নি সংসদ থেকে। আমি সেখানে পেয়েছিলাম, বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির সদস্যদের ব্যক্তগত সহকারীরা পতিতাদের নিয়ে আসে সংসদ ভবনের ভিতরে। রিপো্র্টের প্রয়োজনে একজন গনিকার সাথে আমি কথাও বলেছিলাম। তিনিও স্বীকার করেছিলেন তারা কর্মকান্ড সম্পর্কে। মোবাইলে একজন গ্রাহক সেজেই কথা বলতে হয়েছিল আমাকে।

সংসদ কি আপরাধীদের আভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে? সংসদ নিরব জায়গা। অধিবেশন না চললে এটি আরো নিরব থাকে। আর এ সুযোগটাই কাজে লাগায় দলীয় কর্মীরা। (অনেক সংসদ সদস্যদের বিষয়ে মূখরোচক গল্প শুনলেও প্রমান পাইনি, তাই সে বিষয়ে বললাম না)। সংসদে কি এসব্ চলতেই থাকবে? আসামাজিক কার্যকলাপ কি সংসদের ভিতরে চলতেই থাকবে? খুনোখুনিও কি বন্ধ হবে না?