ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, রাজনীতি

গতকাল দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত সংবাদটি ছিল, ” সংবিধান রক্ষার ডাক দিলেন খালেদা”। সেখানে গাজীপুরের জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমাবেশে খালেদা জিয়া বলেছেন যে, ১। দেশে নাকি সংবিধান নাই, এটা নিয়া আওয়ামীলীগ টালবাহানা শুরু করেছে। ২। দেশের বিদ্যুৎ-এর ভয়াবহ অবস্থা ৩। দ্রব্য মূল্য। এবং ৪। ই-ভোটিং ব্যবস্থা কোন মতেই করতে দেয়া হবেনা।

প্রথমে আমি সংবিধান রক্ষার প্রসঙ্গে আসি। এখানে তিনি বলেছেন, সংবিধান নিয়ে সরকার টানা-হেচড়া করছে। তাদের উদ্দেশ্য নাকি দুরভিসন্ধিমূলক। আমি তার কথার সাথে একমত নয়। কারন, সংবিধান সংশোধন করার জন্য মহামান্য আদালত ইতিমধ্যে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে। তাই এর কোন বিকল্প সরকারের নাই। আমাদের দেশে সকলেরই একটা ধর্ম সেন্টিমেন্ট কাজ করে। আর এ সেন্টিমেন্টকে ব্যবহার করে আমাদের দেশের প্রথম সারির রাজনীতিকরা খুব মজা করেই রাজনীতি করছেন, অথচ বাস্তব সত্য তারা তাদের নিজেদের জীবন বা পরিবারেই এর চর্চা করেন না। যা আপনারা সকলে একটু চোখ-কান খুলে পর্যবেক্ষন করলেই দেখতে পাবেন। এ কারনেই স্বভাবত সরকার দেশের সকল রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ সহ সর্ব স্তরের সকলের সাথে আলোচনার সিদ্ধান্ত নেন, যার আলোকে বেগম খালেদা জিয়াকেও আমন্ত্রন জানানো হয়েছিল, এবং উনি এটাকে একটা ষড়যন্ত্র বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন, যা আপনারা সবাই জানেন। কিন্তু বাইরে বসে আবোল-তাবোল ও রাজনীতিতে যে সব সস্তা কথা-বার্তা আছে তা বলেই যাচ্ছেন। এটা কি জাতীর জন্য শুভ ? তারা কমিটিতে লোক দেন নাই, তারপর কমিটি তাদের মতামত দেয়ার জন্য ডাকল কিন্তু আসলা এটা দিয়া কি এই প্রমানিত হয়না যে, তারা দেশের স্থিতিশীল চায়না, এটাকে একটা ইস্যু বানিয়ে সস্তা আন্দোলনের নামে দেশের উন্নয়ন ধারা ব্যহত করাই তাদের উদ্দেশ্য ?

এবার দুই নম্বরে আসি। দেশের মানুষ বিদ্যুৎ পায়না। এ সমস্যাটি কি একদিনের মাননীয় পাঠক সমাজ ? গত ৫ বছর তারা ক্ষমতায় ছিল, কত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ তারা জাতিকে দিয়েছিল ? সে সময় কি আমরা এই লোডশেডিং এর যন্ত্রনা মুক্ত ছিলাম ? না কি অবস্থা যদি আনুপাতিক চাহিদা ও ব্যবহারকারী বৃদ্ধির হার অনুসারে হিসাব করি তাহলে আগের তুলনায় ভাল কিনা একটু ভেবে দেখবেন মাননীয় বিরোধী দলীয় নেত্রী। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কত ছিল এবং এখন কত মাননীয় নেত্রী বলবেন কি ? তবে এটা কেউ অস্বীকার করার নাই যে দিন দিন আমাদের বিদ্যুৎ সমস্যা সহনীয় মাত্রার বাইরে চলে যাচ্ছে। এ জন্য একজন বিরোধী দলীয় নেত্রী হিসবাবে সরকারকে কিছু ফর্মুলা দিতে পারেন, কিভাবে এ থেকে জাতী মুক্তি পেতে পারে। তা না করে একটি মন্ত্রীর সমান সুযোগ সুবিধা নিয়াও ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার মত সস্তা সব বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন, যা আমাদের কাম্য হতে পারে কি ? এ সমস্যাতো উনার আমলেও ছিল, তখন সমাধান না করে ১৩০০০ কোটি টাকার খাম্বার দুর্নীতি করলেন কেন ? খাম্বা দিলেন না, বিদ্যুৎও দিলেন না। এগুলি সব সে সময়কার পত্রিকাগুলো দেখলেই সবাই আর একবার পরিস্কার দেখতে পাবেন।

তিন নম্বর। তিনি বলেছেন, দ্রব্য মূল্যের কারনে মানুষ দিশেহারা। আমরাও বলব কথা ঠিক যে দ্রব্যমূল্য দিন দিন বেড়েই চলছে, কিন্তু কমলে আর কমানো হয়না। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্য যে, আমাদের সরকার গুলো ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি। তারা তাই অ-সাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোন সরকারই ব্যবস্থা না নিয়া বরং তাদের জামাই আদর করে যাচ্ছেন। কারন নির্বাচনে তারা তাদের বড় ধরনের শেল্টার দিয়া থাকেন, টাকা ও নেতা-পাতি দিয়া সাহায্য করে থাকেন। বড় অংকের চাদা পান, এ ধরনের সুযোগ কি তি হাতছাড়া করতে পারেন ? আমাদের এই নেত্রী তার আমলে যখন তিনি প্রধান মন্ত্রী ছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন যে ” মানুষের যে হারে আয় বেড়েছ, সেই তুলনায় দ্রব্যের দাম বাড়েনি,বরং অনেক কম”। দয়াকরে পিছনের পত্রিকাগুলো দেখলেই পরিস্কার হয়ে যাবে। বর্তমানে সারা বিশ্বে দ্রব্যের দাম অত্যন্ত বেশী। আমরা সিঙ্গাপুরে প্রতি কেজি পন্নি চাল ক্রয় করি বাংলাদেশী ১২০ টাকায়। কিছুদিন আগে বিশ্বব্যাংকের প্রধানও দ্রব্যের দাম নিয়া আশংকা প্রকাশ করেছেন, যেখানে সারা বিশ্ব আজ দ্রব্যের দাম নিয়া অস্থির সেখানে আমাদের দেশের নেতারা এর প্রকৃত সমাধন না খুজে, নোংরা রাজনীতিতে লিপ্ত, এটা কি আমাদের কাম্য হতে পারে ?

এবার আসি ই-ভোটিং ব্যবস্থায়। নেত্রী সেদিন ই-ভোটিং পদ্ধতিকে একটা শুভংকরের ফাঁকি বলে একে প্রতিরোধের ঘোষনা দিয়েছেন। কিন্তু কেন কি কি কারনে এর প্রতিরোধ করবেন, তার বিস্তারিত তিনি কিছুই বলেন নাই। অথচ, এই ই-ভোটিং এর মাধ্যমেই তার মনোনীত প্রার্থী চট্রগ্রামের মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং তা একটি দলীয় সরকারের আমলেই। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে এই পদ্ধতি চালু আছে. পার্শ্ববর্তী দেশে (ভারতে) এই পদ্ধতি চালু আছে, তাহলে আমাদের দেশে একটি উন্নত প্রযুক্তি চালু হলে, আমরা সেই বহুল প্রতিক্ষিত শ্লোগান “আমার ভোটা আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দিব” এটার পুর্নতা পাবে। এটার বিরোধীতা কেন ? নাকি জনগনের উপড় আস্থা না থাকার কারনেই তিনি এসব বলেছেন ?

আর একটি বিষয় আমি লিখতে চাই ।
মাননীয় পাঠক আমি খুব বেশি ভাল লেখক নই, কিন্তু দেশের অবস্থার আলোকে অনেক কিছুই লিখতে ইচ্ছে করে, তাই মাঝে মধ্যে প্রথম আলোতে লিখতাম, কিন্তু তিনি বর্তমান প্রধান মন্ত্রীর সাথে ব্যাক্তিগত দ্বন্ধ ও দলীয় রাজনীতির উর্দ্ধে না উঠতে পারার কারনে প্রায়ই আমার মন্তব্য প্রকাশ করেনা, কিন্তু বর্তমান সরকার ও প্রধান মন্ত্রীকে নিয়া যাই লেখা হোক কোন রুচিবোধ সম্পন্ন হোক বা না হোক তা দেদারছে ছাপানো হচ্চে। এটা কি কোন প্রকৃত সাংবাদিকতার কাজ ? একটি নিউজ এমন ভাবে উপস্থাপন করে প্রকাশ করে যে, কোন পাঠক পড়ার আগেই সরকারের উপড় ক্ষেপে যাবে। এ ধরনের হলূদ সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ করা একান্ত দরকার, যা ঘটেছে, যেভাবে ঘটেছে তাই প্রকাশ করাই হলো প্রকৃত সাংবাদিকের কাজ, এর ব্যাত্যয় মানেই হল হলুদ সাংবাদিকতা। যা প্রতিনিয়ত, প্রথম আলো, আমার দেশ সহ তাদের সম-আদর্শের পত্রিকার সাংবাদিক ও সম্পাদক দ্বয় করে যাচ্ছেন। এর বিরুদ্ধে আমরা প্রতিরোধ না গড়ে তুললে, দেশকে একটা গৃহ যুদ্ধের দিকে নিয়ে যাবে, তাতে কোন সন্দেহ নাই।

***
ফিচার ছবি: [১:এপি/মনজুরুল করিম], [২: by priyo-desk]