ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

ইউনূসকে চেয়ারম্যান করতে আল্টিমেটাম

ঢাকা, মে ০৫ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- মুহাম্মদ ইউনূসকে দুই সপ্তাহের মধ্যে গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান করা না হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে গ্রামীণ ব্যাংক কর্মচারী সমিতি।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় মিরপুরে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সাবেক সভাপতি ছগিরুর রশিদ চৌধুরী এ ঘোষণা দেন।

সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে মুহাম্মদ ইউনূসের করা আবেদন আপিল বিভাগে খারিজ হয়ে যাওয়ার পর এ সংবাদ সম্মেলন ডাকে গ্রামীণ ব্যাংক কর্মচারী সমিতি।

ইউনূসের ‘রিকল’ আবেদনের পাশাপাশি একই বিষয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের নয় জন পরিচালকের আপিলের আবেদনও (লিভ টু আপিল) বৃহস্পতিবার সকালে খারিজ করে আপিল বিভাগ।

আদেশের পর নয় পরিচালক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নোবেলজয়ী ইউনূসকে নিয়োগ দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।

এ বিষয়ে সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেছেন, “তা সম্ভব নয়, কারণ গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের মধ্য থেকে সরকার মনোনীতদের মধ্য থেকেই চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়।”

অনুমোদন না নিয়ে পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার কারণ দেখিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত ২ মার্চ গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব থেকে ইউনূসকে অব্যাহতি দেয়। এরপর এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামেন ইউনূস।

সংবাদ সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/আরবি/জেকে/১৬২৪ ঘ.

***

প্রিয় দেশবাসী, ইউনুস সাহেব কি বাংলাদেশের সংবিধান মানেন ? তিনি কি বাংলাদেশর আইন-আদালত মানেন ? তিনি কি বাংলাদেশকে মানেন ? আমার উত্তর একবাক্যে “না”।
এর কারন হিসাবে সংক্ষেপে যা বলব তা হল : তিনি প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন অমান্য করে বিগত ১১ বছর ব্যাংকের এমডি পদে ছিলেন। কিন্তু যখন তাকে সম্মানের সাথে চলে যেতে বলা হল উনার সাফ জবাব “না”। এর পর অব্যাহতি দিয়ে চিঠি, উনি সেটা মানেন না, গেলেন আদলতে, আদালত যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে রায় দিল উনি তা মানেন না। গেলেন আপিলে, আপিল রায় উনার বিপক্ষে গেল, উনি মানেন না, এদিকে আদালতে মামলা চলাকালীন সময়ে উনি ডেকে আনলেন আমেরিকাকে, তাদের দিয়া সরকারকে শাসালেন। এর মানে হল আইন-আদালতও উনি মানেন না। এর পর আনলেন ডেকে ফ্রান্সকে এবং তার সাথে একই বিমানে করে আবার ফ্রান্স যাত্রা এক নতুন স্বরযন্ত্রের উদ্দেশ্যে, জানিনা কি ষড়যন্ত্র করে আসলেন। এখন সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ প্রত্যাহার চেয়ে মুহাম্মদ ইউনূসের করা আবেদন আপিল বিভাগে খারিজ হয়ে যাওয়া, তাও উনি মানেন না, উনি এটাকে প্রত্যাখ্যান করে, কর্মীদের এখন মাঠে নামালেন। এটা কি আইনকে অবজ্ঞা করা না ? উনি কি সব আইনের উর্ধ্বে ? বিশ্বে কি উনি একাই নোবেল পেয়েছেন ? অন্যান্যরা যদি তাদের দেশের আইন মানেন, তাহলে উনি মানবেন না কেন ? উনার নোবেল পুরস্কারটা কি আলাদা ? উনার এ পদ পাওয়া আন্দোলন কি গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষতি করবে না ? তা হলে পাঠক আপনারাই এখন বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষতি কে শুরু করল, সরকার না ইউনূস সাহেব নিজে ?

গত কয়েক মাসে দৈনিক আমাদের সময় ইউনূস সাহেবের কর্মীদের দিয়া আন্দোলনের প্রস্তুতির কথা বলে বেশ কয়েকটি রিপোর্ট ছাপিয়েছিল, যার প্রতিটি রিপোর্ট আসলে প্রমানিত হল।

এক কথায় বলতে গেলে ইউনূস সাহেব, নিজের স্বার্থের জন্য, নিজের ক্ষমতার জন্য, নিজের পদের জন্য যা করার প্রয়োজন উনি তাই করতে পারেন, কারন উনার কাছে সব কিছুর উর্ধ্বে সম্পদ, ক্ষমতা, পদ, উপাধি ও খ্যাতি । তাই উনি নিজেই আজ গ্রামীণ ব্যাংক ধ্বংসের খেলা শুরু করলেন। আমরা কি আজীবন শোষকদের দিয়া এভাবেই শোষিত হব ? ক্ষমতাবানদের দিয়া এভাবেই লাঞ্চিত হব ? আমরা কি কোন দিন চোখ খুলে নিজের দৃষ্টিতে দিয়ে পথ চলতে আগ্রহী নই ? নাকি এ রকম ক্ষমতাধর ও কাবুলি ওয়ালাদের কাছ থেকে ধার নেয়া দৃষ্টি দিয়ে চলব ?

উনার তো আমেরিকা সাথে ভাল সম্পর্ক কৈ উনি বাংলাদেশের একবারও কিছু সুবিধা আমেরিকার কাছে চেয়েছেন ? না। এভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়া উনি অনেক সুবিধা বাংলাদেশের জন্য আনতে পারতেন, এনেছেন কি ? না । উনি সৌদি আরবে বলতে পারত বেশী করে শ্রমিক নিতে, সাথে দক্ষ পেশাজীবীও, আমেরিকায় শুল্কমুক্ত রপ্তানী সহ বাংলাদেশের জন্য মাইগ্রেশন পদ্ধতি সহজ করতে বলতে পারতেন, কৈ বলেছেন কি ? না। এভাবে বহু ভাবে উনি উনার নোবেল পুরস্কারকে ব্যবহার করতে পারতেন, কিন্তু করেন নাই, করেছেন শুধু উনার ব্যাক্তিগত কাজে। তাইলে এ নোবেল পুরুস্কার নিয়া আমাদের এত মাতামাতির কি আছে ? পাঠক সমাজ একটু ভেবে দেখুন।