ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

গতকাল বুধবার সাংবাদিক, অর্থনীতিবিদ, কূটনীতিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সামনে বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া রূপসী বাংলা হোটেলের (হোটেল শেরাটন) উইন্টার গার্ডেনে উপস্থাপিত বাজেট ভাবনায় বর্তমান বাজেট সম্পর্কে প্রস্তাবনা, সম্পূরক বাজেট প্রস্তাবনা (বিদায়ী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব) উপস্থাপন করেছেন। উল্লেখ্য, এর আগেও তিনি এভাবে বাজেট প্রস্তাব করেছিলেন।

বেগম জিয়া তরা বাজেট বক্তৃতায় বর্তমান সরকারের নানা খাতে (তাদের ভাষায়) ব্যর্থতা তুলে ধরেছেন। কিন্তু সরকারের কোন সফলতা তিনি খুজে পান নাই বা তুলে ধরেন নাই। এটাই আমাদের চিরাচরিত রীতি। যেটা উনি ধরে রেখেছেন। ধন্যবাদ।

আমার আজকের লেখাটা মুলত বাজেট নিয়া নয়, বিগত সময় গুলোতে আজকের বিরোধীদল ও সাবেক সরকারের বিভিন্ন কাজ ও জনগনের নিকট দায়বদ্ধতা নিয়ে।

গতকালের বাজেট বক্তৃতার আলেকে বিরোধীদল কি বলতে চাচ্ছে যে, আওয়ামীলীগ বিগত আড়াই বছর কোন ভাল কাজ বা উন্নয়ন দেশে করে নাই ? দেশে বিগত আড়াই বছরে কোন উন্নয়নই হয় নাই ?

যদি প্রশ্নের উত্তরটি হয় “না হয়নাই”:

তাহলে আমাদের মনে স্বভাবতই প্রশ্ন আসে

আপনরা বিরোধীদল হিসাবে কতটুক সফল ? আপনারা কি আপনাদের উপড় জাতী যে দায়ীত্ব অর্পন করেছিল তা কি যথাযথ ভাবে পালন করেছেন বা করছেন ? আপনারা আজকের এ কথা গুলো বা প্রস্তাব গুলো সংসদে গিয়ে না বলে সংসদের বাইরে বসে, হোটেলের বলরুমে সংবাদ সম্মেলন করে, রাস্তাঘাট দখল করে জনগনের দুর্ভোগ বাড়িয়ে বলছেন কেন; সংসদে গিয়ে বলছেন না কেন ?

জনগন আপনাদের নির্বাচিত করেছেন তাদের কথা গুলো সংসদে গিয়ে বলার জন্য, তাদের দাবী আদায়ের জন্য সংসদে নিয়মিত যাওয়ার জন্য; কথায় কথায় আন্দোলন, হরতাল, গলাবাজী, চাপাবাজী, জন-জীবন বা দেশের ক্ষতি হোক এমন সব কাজ করার বা করতে উৎসাহিত করার জন্য নয়।

আপনারা তো নিয়মিত সংসদ ভাতা ও সুবিধা গ্রহন করছেন । এটা কি ইসলামের দৃষ্টিতে হালাল ? আপনারা ইসলামী গোষ্ঠী বলে দাবী করেন, অথচ আপনাদের কাজ কি তা বলে ? আপনাদের কথার ধরন কি তা বলে? আপনাদের চলন, পোশাক, আচার-ব্যবহার কি তা বলে ? আপনারা যা করছেন তা ইসলামে যথাযথভাবে স্বীকৃত ? নাকি ইসলামের নাম নেন বা দোহাই দেন স্রেফ লোক দেখানো বা পাবলিক সেন্টিমেন্ট আদায় করার কুট-কৌশল হিসাবে ? ইসলামের প্রতি সম্মান ও দায়িত্ববোধ থেকে কি নয় ? ইসলাম ধর্ম কি আপনাদের রাজনীতির মূলধন বা হাতিয়ার ? এটা যদি হয়, তাহলে কি আপনারা জাতীর সাথে রীতিমত ভয়াবহ ভণ্ডামী করছেন না ? ধর্মকে পণ্য বানিয়ে অবমাননা করছেন না ?

আপনারা এমপি হিসাবে, বিরোধী দলীয় নেতা হিসাবে সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন, আবার সংসদে যাচ্ছে না, সংসদেকে কার্যকর করছে না। এটাকি জাতীর সাথে প্রতারনা নয়। এটা কি একটা দূর্নীতির মধ্যে পড়েনা ? আপনারা যে অর্থ ও সুযোগ-সুবিধা গ্রহন করছেন, তাতো আমাদের ট্যাক্সের টাকাই। আমরা ট্যাক্স দেই, আর সেই টাকায় আপনারা দেশের প্রতি কোন দায়ীত্ব পালন না করেই আরাম-আয়েশ করছেন, দলীয় নেতা-নেত্রীর রোজনামচা পালন করছেন। বাহ! একেই তো বলে দেশনেত্রী, দেশ-দরদী, জন-দরদী জনপ্রতিনিধি !!!

সরকার কয়েকটি কমিটিতে আপনাদের রাখলেও সেখানেও আপনারা যান নাই। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আপনাদের দু’জন সদ্স্য থাকার কথা তা্ও দেন নাই, কমিটি মতামত দেয়ার জন্য ডাকল, তাও গেলেন না, এখন ডাকছে তাও বলছেন যাবেন না, উল্টো হরতাল, আন্দোলন করছেন. আবার টানা আন্দোলন ও হরতাল দেয়ার জন্য আজ আবার বৈঠক ডেকেছেন। এটার জন্যই কি জনগণ আপনাদের ভোট দিয়েছিল ? আন্দেলনের জন্যই কি বিরোধী দল কনসেপ্ট ? বিরোধীতা করাই কি বিরোধী দলের আসল কর্তব্য, দায়িত্ব ও অধিকার? অবশ্যই না। এ থেকে অবশ্যই বেড়িয়ে আসতে হবে। উভয়কেই (সরকারী ও বিরোধীদলকে)।
আমরা শান্তি চাই, উন্নয়ন চাই, আপনাদের কানামাছি খেলা ও ক্ষমতার পালাবদল দেখতে চাইনা।

আর যে সমস্যগুলো বিরোধী নেত্রী তুলে ধরেছেন
তার প্রায় সবগুলিই দীর্ঘ দিন মানে বাংলাদেশের জন্ম থেকেই চলমান। তাই বিরোধী নেত্রীও ০৩ বার প্রধান মন্ত্রী ছিলেন, ০৪ বার তার দল বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, সে সময়গুলোতে কি আমরা তার কোন প্রকৃত সমাধান পেয়েছিলাম ? আমরা কি খুব ভাল ছিলাম ? দেশের অর্থনীতি কি খুব ভালছিল ? আইন-শৃঙ্খলা কি খুব ভাল ছিল ? দেশে কি দলীয় চাদাবাজী ছিল না ? র‍্যাব কি মানুষ বিনাবিচারে হত্যা করে নাই ? দলীয় ও ক্ষমতাধর ব্যাক্তিদ্বয় সম্পদের পাহাড় গড়েন নাই ? দুর্নীতি কি দেশে হয় নাই ? গ্যাস, বিদ্যুৎ, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীনতা, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ইত্যাদি জাতীয় সমস্যাগুলো কি তখন ছিল না ? স্বজন-প্রীতি, প্রশাসনে দলীয় ক্যাডার নিয়োগ, বিচার বিভাগকে ননীর পুতুল, আদালত পাড়াকে রাজনৈতিক কার্যালয়, দলীয় ব্যাক্তিদের বিচারপতি নিয়োগ, সার্টিফিকেট হীন ব্যাক্তি বিচারপতি ইত্যাদি কি বিরোধী নেত্রী আপনার আমলের ঘটানা না ?

যদি উত্তর “না”
তাহলে আমরা একটা বেহেস্তি পরিবেশের দেশে ছিলাম। যেখানে ১ টাকা নিয়ে বাজারে গেলে ব্যাগ ভরে বাজার করার পরও টাকা খরচই হতনা ! সবাই টাকার বিছানায ঘুমাতাম কোন অভাবই ছিলনা. গরীব বা দরিদ্র লোকরেতো দেখাই মেলা ছিল দায়, ঘরের দরজা মেলে ঘুমিয়ে থাকতাম চোর-ডাকাত সেথ স্বপ্নের রুপকথা ছিল, বিদ্যৎ সেতো ১ সেকেন্ডের জন্যও বন্ধ হয় নাই, পানির নহর বহমান ছিল, তাই পানির কষ্ট কি আমরা জানতামই না, রাস্তাঘাট ছিল ফকফকা, যেন স্বর্গের মধ্যে চলাচল করতাম, গাড়ী চলত পঙ্খীরাজের মত, তাই জ্যাম কি জানতামই না, হানা-হানি মারা-মারি বাঙ্গালী জানেই না, কি সুখ ছিল যে আপনার দুই ছেলে শেষমেষ মনের আনন্দে ক্রীকেট ম্যাচ খেলত। আহ ! কি সুন্দর ছিল সেই দিন গুলি । একেবারে সাক্ষাত বেহেস্তি পরিবেশ !

এখন কি জঘন্য একটা নরকে বাস করছি, তাই না মাননীয় বিরোধী নেত্রী ? হয়ত আপনি বা আপনারা আবার ক্ষমতায় আসলে সেই সুদিন ও বেহেস্তি সুখ ও পরিবেশ আবার আমারা ফিরে পাব, ঠিক তাই না ? তাই আবার আপনাকে ক্ষমতায় আসতেই হবে। কারন আলাদীনের চেরাগ যে শুধু আপনারই হাতে !!!! বোকা জনগণ এটাই বুঝতে চায় না, তাই না !!!!

পরিশেষে বলব
জাতীর সাথে তামাশা না করে সত্যিকার জাতীর নেতা হিসাবে সংসদে যান, আপনাদের দায়িত্ব পালন করুন। কথা বলুন, প্রস্তাব দিন; প্রস্তাব না রাখলে বা আপনাদের কথা বলতে না দিলে প্রতিবাদ করুন। প্রতিবাদ না শুনলে প্রয়োজনে পদত্যাগ করুন।

সকল সুবিধা ভোগ করবেন, আর সংসদে যাবেন না, শুধু পদ বাঁচানোর জন্য গেল অধিবেশনে গেলেন, এখন বলছেন পরিবেশ নাই, তাহলে পদ বাঁচানোর দিন পরিবেশ ছিল এটা কেমনে বুঝলেন ? জাতিকে এতই বোকা ভাবেন ?

এধরনের বাজেট, বাজেট খেলা আমরা চাইনা। দেশটা তো আপনাদের খেলনার বস্তু নয়, আর আমরা আপনাদের খেলনার গুটি নই।

এটা লালন করা বন্ধ করুন যে, “তুমি অধম, তাই আমিও উত্তম হবনা বা অধম হবনা কেন ?” বরং “তুমি অধম, তাই বলে আমি উত্তম হইবা কেন ?” এটা সর্বদা মনে মনে লালন ও ধারন করুন। দেখবেন জনগন আপনাদের পাশে আছে।

***
খালেদার বাজেট প্রস্তাব

বিডিনিউজ২৪.কেম

জনকন্ঠ

আমার দেশ