ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

আনুশাহ ও তার মা রুমানা। এই দৃশ্য ও আনন্দঘন মুহুর্ত আর আসবে কি তাদের জীবনে, আনুশাহর জীবনে ?


শিশুটির বয়স মাত্র ৫ বছর ৬ মাস। শিশুটি তার চোখের সামনে দেখেছে তার বাবার হিংস্রতা। হ্যা পাঠকগন শিশুটি আর কেউ নয়, রুমানার একমাত্র কন্যা সন্তান আনুশাহ। এখানে তার পরিচয়ের আগে বাবার নাম নিলাম না, কারন খুব ঘৃনার জন্য। গত ০৫ জুন তারই চোখের সামনে তারই পাশন্ড বাবা তার মায়ের উপড় মধ্যযুগীয় বর্বরতা চালিযেছিল। এই রুমানা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের একজন শিক্ষক, মানুষ গড়ার কারিগর। দীর্ঘ ১১ বছরেও তার জানোয়াররুপী স্বামীকেই মানুষ করতে পারলেন না। যদিও এ দায়ীত্ব তার নয়। আবার তিনি শুধু একজন শিক্ষকই নন, তিনি এক হতভাগ্য পিতার কন্যা, এক হতভাগীনির মা। আর এ হতভাগীনিটি হল “আনুশাহ।”

ঘনটা ঘটার আগমুহুর্ত পর্যন্ত আনুশাহ খাটের উপড় তার মায়ের পাশে বসেই খেলতেছিল। সে তখনও জানতনা কি এক ভয়াবহ ঘটনা একটু পরেই ঘটতে যাচ্ছে তার চোখের সামনে। আর তা মা রুমানা তখন কম্পিউটারে কাজ করতে ছিলেন। যখন ঘটনাটা ঘটে তখন আনুশাহ ভয়ে শুধুই চিৎকার করে কাঁদতেছিল। আর ঘরের মধ্যে ছুটাছুটি করতেছিল। পাঠক একবার ভাবুন, এ রকম একটা শিশুর মনে তখন কি অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে ! কি ভয় ও কষ্ট নিয়ে অনুশাহ ঘরের মধ্যে পাগলের মত দৌড়াদৌড়ি করতেছিল ? কি অসহায় অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল তখন তার মনে ? কোন বাবা কি পারে এ রকম একটা শিশুর চোখের সামনে তারই মাকে এরকম বর্বর নির্যাতন করতে ? সে কি বাবা ? এতটুক একটা শিশুর কান্নাও তাকে দমাতে পারে নাই। কিই বা করার ছিল ঐ শিশুটির শুধু কান্না ছাড়া ?

সে কি একটু আগেও জানত যে আজকের পর তার স্নেহময়ী মা তার চোখ দিয়ে কোন দিন আর দেখতে পারবে না ! কোনদিন বলবেনা আনুশাহ আমার ছোট্র শোনা তুই কত সুন্দর হয়েছিস ! কোনদিন মা তাকে নিয়ে বেড়াতে যাবেনা, আকাশ দেখাবেনা, কোন দিন মা তাকে নিয়ে খেলতে পারবে না, কোনদিন মায়ের হাতে খেতে পারবেনা, কোনদিন মা তাকে নিজ হাতে পরম যত্ন করে গোসল করিয়ে দিত পারবেনা, কোন দিন মা রং, ডিজাইন দেখে মেয়ের জন্য সখ করে একটা জামা বা জুতা বা খেলনা কিনে এনে দিতে পারবে না ! তার মা রুমানা কিভাবে থাকবে তার মোয়ের মুখটি না দেখে ? একবার ভাবুন তার মনের আকুতি ! পাঠকবৃন্দ আমাকে ক্ষমা করবেন, আমি আর লিখতে পারছিনা। আমার চোখ জলে ঝাপসা হয়ে গেছে, কিছুই দেখতে পাচ্ছিনা।

শু্ধু্ই বার বার একটা প্রশ্ন আমার মনে দেখা দিচ্ছে, তা হল কিভাবে এই শিশুটি একা-একাই বড় হবে ? পড়ালেখা করবে। কে হবে তার অবলম্বন। সেকি তার বাবার পরিচয় দিতে পারবে ? লোক সমাজ কি তাকে সহজভাবে নিবে ? যেখানে বাবা-মায়ের দু-জোড়া চোখ হওয়ার কথা ছিল তার চলার পথের শক্তি, কিন্তু আজ সেখানে তার চোখেই তার মাকে বেঁচে থাকতে হবে। এই অনুশাহ-র চোখই আজ তার মা রুমানার চলার পথের দিশারী হবে। কি নির্মম, কি নিষ্ঠুর !!!!!

জানি পাঠকরা এও বলতে পারেন এভাবে কত ঘটনাইতো ঘটে, কে কতটার খোঁজ রেখেছে ? হ্যা সত্য। আর তার জন্যই সকল মা-বাবাকেই বলতে চাই দয়া করে শিশুদের সঠিক ভাবে বাঁচতে দিন। ওরা পৃথিবীতে এসে অপরাধ করে নাই। অপরাধী আপনি, আপনারা যারা ওদের যথাযথ মূল্যায়ন করেন না, ভালবাসা দেন না, যোগ্য প্রাপ্য দেন না। আমরা এর চির অবসান চাই । আর যেন একটি শিশুও এরকম জঘন্য পরিস্থিতির মুখোমুখি না হয়।