ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

শেষ হল বাংলাদেশের জনগনের জন্য ভোগান্তির ৯০ ঘন্টা ! আসলে কি ৯০ ঘন্টা ? বাস্তবে হল ২১৬ ঘন্টা মানে গত ৩ জুন হতে হতে আজ ১১ জুন ২০১১ পর্যন্ত দেশ ও দেশের অর্থনীতি অচলের ডাক । মাঝখানের ৪ ও ৫ এবং ৯ তারিখ ছিল বিরতী। যা আসলে ছিল পরের অংশের প্রস্তুতি। যাক ভালই ঘটনা-অঘটনের মধ্য দিয়ে শেষ হল ঐ হরতাল নামক জঘন্য ভয়াল থাবা। কেন ভয়াল বলেছি ? দেখুন কিছু চিত্র। এ চিত্রগুলো গত জোট আমল এবং বর্তমান সরকার আমলের হরতালের চিত্র।

এভাবে প্রতি হরতালেই হয় পিকেটিং, হামলা, পাল্টা হামলা ও হরতালের প্রতিরোধের নামে নির্যাতন। এখানে দুটি কথা দুই পক্ষে বহুল প্রচলিত ও কমন। তা হল যারা হরতালকারী তারা বলেন আমাদের গনতান্ত্রিক (!) অধিকারে সরকার হস্তক্ষেপ করেছে, এ সরকার স্বৈরাচার বা স্বৈরাচারকেও হার মানিয়েছে, এর ক্ষমতায় থাকার কোন অধিকার নাই । তারপরও হরতাল সফল হয়েছে। জনগন এ গন ধিকৃত (হরতালকারীদের ভাষায়) সরকারের পতন বা পদত্যাগ চায়।

আবার সরকারী দল বা যারা ক্ষমতাসীন তারা কি বলেন ? তারা বলেন হরতাল জনগন প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই তাদের দাবী অ-যৌক্তিক। পুলিশ কেন হরতালে লাঠিচার্জ করেছে বা আপত্তিজনক ভুমিকা পালন করেছে ? উত্তর হল পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করেছে, কারন তারা রাস্তায় বিশৃঙ্খলা করেছিল, তাই পুলিশ বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। এতে যদি কেউ আহত বা নিহত হয় সেটা অনিচ্ছাকৃত ইত্যাদি।

উপরের বক্তব্য প্রায় সব সময়ই এক ও অভিন্ন খালি মাঝে মধ্যে ষ্টাইল বা ব্যাক্তির পরিবর্তন হয় আরকি !

এখন প্রশ্ন হল এই জনগন কারা ? তারা কি শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যক্ষ সমর্থনকারী না কি গোটা দেশের আম-জনতা ? অবশ্যই আম-জনতা বা শান্তিপ্রিয় জনগন যেমন হরতাল করতে যায়না তেমনি এর প্রতিরোধ করার জন্য রাস্তায় নেমে গাড়ী ভাংচুর, জ্বালাও পোড়াও-এর মত দেশের উন্নয়ন বিরোধী কর্মকান্ডে নিজেদের জড়ায় না। তারা সব সময় থাকেন নীরব। তাদের চাহিদা একটাই, তা হল “শান্তি, উন্নয়ন ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ”।

তাহলে কি দাঁড়াল ? সরকার বা হরতাল কারী দল বা গোষ্ঠী বা বিরোধীদল যেই হোক না কেন দেশের ৯৭% আম জনতা তাদের এই ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ডের সাথে যেমন নেই, তেমনি এর প্রতিরোধের নামে অত্যাচার-নির্যাতনের সাথেও নেই। তাহলে প্রশ্ন আসে যদি জনগন তাদের সাথে না থাকে তাহলে অফিস খোলা থাকেনা কেন ? গাড়ী চলেনা কেন ? রাস্তায় নির্বিঘ্নে চলাচল করা যায়না কেন ? দোকান-পাট ও সুপার মার্কেট বন্ধ থাকে কেন ? ইত্যাদি। এর সব গুলোর উত্তর হল ভয় ও জান-মালের নিরাপত্তার জন্যই মানুষ উপরোক্ত পদ্বতিকে মেনে নিয়েছে, অন্য কোন কারন নয়। এসব পচা-গন্ধ কার্যক্রমের সাথে সাধারন তথা প্রকৃত দেশ প্রেমিক জনগন স্বাধীনতার পর হতে আজ পর্যন্ত ছিলনা বা এখনও নেই। হয়ত কেউ কেউ বলবেন ৯০ এর গন-আন্দোলন (!) এর কথা। আমি বলি সেদিনও ছিলনা। তবে বর্তমান হরতালের চেয়ে একটু বেশী জন সমর্থন ছিল, এর বেশী কিছু নয়। কারন সেটাও ছিল ক্ষমতার পট পারিবর্তনের হরতাল আন্দোলন, দেশ বা জনগনের জন্য নয়।

জনগনকে যদি তার স্বাধীন মত চলতে বাধা না দেয়া হয় তাহলে হরতাল জনগন চায় কি না চায় তা যাচাই করা যেত। কিন্তু সে সুযোগ বা অধিকার জনগনের কাছ থেকে হরতালকারী বা সরকার কেড়ে নিয়েছে ভয় ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মাধ্যমে। জনগন যে হরতাল চায়না তার প্রমাণ গতকাল ও আজকের ডাকা “ইসলামিক দলগুলোর ডাকা ৩০ ঘন্টা হরতালে” পাওয়া যায়। সেখানে পিকেটিং কম থাকা বা দুর্বল থাকার সম্ভাবনা থেকে অনেকটা নিরুত্তাপ ও হরতাল বিহীন হরতাল পালিত হয়েছে। কারন কি ? কারন হল যারা হরতাল ডেকেছে তারা পিকেটিং বা শক্তির দিক থেকে অন্য কয়েকটি দল থেকে একটু দুর্বল। শক্তিশালী দলগুলো ক্রমানুসারে আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জামাত, জাপা ও ওয়ার্কাস পার্টি। এদের হরতাল মানেই হল আতংক, আক্রমন-পাল্টা আক্রমণ, জ্বালাও-পোড়াও ইত্যাদি। অন্যান্যরা যে তা পারেনা তা নয়, আসলে তাদের শক্তি ও সরঞ্জামের অভাব। তাই আসলে এদেশের মানুষ হরতাল নামের জঘন্য কালচার থেকে মুক্তি চায়। কিন্তু রাজনৈতিক দল গুলো তাদের তথাকথিত গণতান্ত্রিক অধিকারের কথা বলে প্রকারান্তে জনগনের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে এই বেহায়াপনা করে চলছে। এটা আর চলতে দেয়া যায়না। তাই আমাদের দেশের সকল আম জনতাকে এক হয়ে এ অশুভ কালচারকে চিরতরে বিদায় করতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই।

দেখুন হরতালের জ্বালাময়ী মিছিল

গত বিএনপির হরতালে একদল সংসদ সদস্য মানে আইন প্রনেতাদের আচরন এবং আর একদল আইন রক্ষাকারীদের আচরন দেখুন এখানে।

তাই আর নয় এই ধ্বংসাত্মক কালচার, আমরা আর জ্বালাও-পোড়াও, ধর-মারো, দাঙ্গা-ফ্যাসাদ দেখতে চাইনা। STOP !!! STOP !!! STOP HORTAL !!!!!!!

[সকল ছবি ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে]