ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

এবার পরিমলের ভুমিকায় এক জামাত নেতা । চাঁচাই ইসলামী সমাজকল্যাণ পরিষদের সাধারন সম্পাদক ও মুকুন্দমধুসুধনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম। ভিকটিম মুকুন্দমধুসুধনপুর চৌমুহুনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া ছাত্রী (১৩)।

ঘটনায় প্রকাশ গত ২৩ জুলাই শনিবার বিকেল ৫টায় প্রাইভেট পড়ানো শেষে ঐ ছাত্রীর সহপাঠীদের প্লেট ধোয়ার জন্য পাঠিয়ে দেয় শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম। এ সুযোগে তাকে একা পেয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে জাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করে ঐ শিক্ষক।

যেভাবে যুবলীগ নেতা ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী ঐ জামাত নেতা শিক্ষককে রক্ষার চেষ্টা করছে:

এ ঘটনায় ২৮ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ জানালে ওই দিন বিকেলে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজাহার হোসেন ওই শিক্ষকের ভাড়াটিয়া বাহিনীর লোকজনের বাধার মুখে তদন্ত না করে চলে যেতে বাধ্য হন। ফলে ৩০ জুলাই স্কুল ছাত্রীর ভাই বাদি হয়ে কালীগঞ্জ থানায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

এরপর ৩০ জুলাই রাত ৮টার দিকে তদন্তের নামে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোজাফফরউদ্দিন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা সাঈদ মেহেদী ও বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান সাগরসহ আরো দু’জন তদন্তের নামে তাদের বাড়িতে আসে। এর পর তদন্তের জন্য ভিকটিম ছাত্রী ও তার ভাইকে মুকুন্দ মধুসুধনপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে বলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদী। এ সময় ভিকটিম ও তার ভাই স্বাক্ষীদের ঢেকে আনতে চাইলে ভিকটিমের ভাইকে মারধর করে জামা-কাপড় ছিড়ে ফেলে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ মেহেদীর লোকজন।

এরপর মিথ্যা মামলার ভয় দেখিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান তার (ভিকটিম) কাছ থেকে একটি লেখা কাগজে সাক্ষর করিয়ে নেন। পরদিন বিকেলে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ ফরিদউদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনা স্থলে এসে থানায় মামলা রেকর্ড করে। এ ব্যাপারে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ওই ছাত্রীর কাছ থেকে কোন কাগজে সাক্ষর করিয়ে নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন।

এভাবেই ঐ জামাত নেতার পক্ষে কাজ করছে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা সাঈদ মেহেদী। তাকে রক্ষার জন্য যেন মরিয়া হয়ে উঠেছে। কিসের স্বার্থে ? এই কি হাসিনার যুবলীগের চরিত্র ? এই বঙ্গবন্ধুর যুবলীগের চরিত্র ? জাতি এর উত্তর চায়। এভাবে স্বাধীনতা বিরোধী ও রাজাকারদের রক্ষা করলে সাধারন জনতা তাদের কোনদিনই ক্ষমা করবে না।

ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় নাই। গতকাল ০২ আগষ্ট সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টায় সাতক্ষীরার জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট-১ এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মাসুমের খাস কামরায় নির্যাতিত ওই স্কুল ছাত্রী ২২ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে।