ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক


আজ ০৯ আগষ্ট ২০১১। সিঙ্গাপুরের ৪৬তম জন্মদিন। ১৯৬৫ সালের আজকের এই দিনে সিঙ্গাপুর মালায়েশিয়ার কাছ থেকে আলাদা হয়ে যায় । জন্ম হয় সম্পূর্ন আলাদা একটি রাষ্ট্রের। নাম তার সিঙ্গাপুর। আজ সরকারী ছুটি।

সিঙ্গাপুরের মূল ভিত্তি তৈরী হয় ৬ ফেব্রুয়ারী ১৮১৯ সালে। এর পর ১৯৫১ সালের ২৪ জুলাই সিঙ্গাপুর শহরের মর্যাদা পায়। ১৯৫৯ সালের ৩ জুন ব্রিটিশ সরকারের আওতায় স্বতন্ত্র সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়। ১৯৬৩ সালের ৩১ আগষ্ট স্বাধীনতা ঘোষনা করা হয়। এরপর ১৯৬৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর মালায়েশিয়ার সাথে একিভুত হয়। এরই দুই বছর পর বিভিন্ন প্রশাসনিক সমস্যা এবং চাইনিজ ও মালায় সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত দাঙ্গার কারনে তৎকালীন মালায়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী টুংক আব্দুল রহমান মালায়েশিয়া হতে সিঙ্গাপুরকে আলাদা ঘোষনা করেন। এর মধ্যে দিয়েই সিঙ্গাপুর স্বতন্ত্র ও একক রাষ্ট্রে পরিনত হয়।

Minister mentor of Singapore Lee Kuan Yew

মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম ইতিহাসবিদ অধ্যাপক খু কেই কিম বলেছেন, “মালয়েশিয়ার প্রতিষ্ঠার প্রায় পরে পরেই লি কা’ন ইয়ো প্রো মালয় পুলিশের ব্যাপারে অহেতুক হাঙ্গামা সৃষ্টি করেন যা থেকে নানাবিধ গোলযোগ সৃষ্টি হয় এবং ১৯৬৪ সালে সিংগাপুরে রায়ট বা জাতিগত দাঙ্গা বেধে যায়”। “টুংকু আব্দুল রহমান ভীষণ উদ্বিগ্ন ছিলেন যেন এই দাঙ্গা পুরো উপদ্বীপে ছড়িয়ে না পড়ে, তাই তিনি সিংগাপুরকে পরিত্যাগ করেন। যে মুহূর্তে সিংগাপুরকে পরিত্যাগ করা হয়, তখন থেকেই এটা একটা রাস্ট্রে পরিণত হয়”।

সিংগাপুর রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা জনক লি কা’ন ইয়ো মালয়েশিয়া হতে সিংগাপুরের পৃথকীকরণের ঘোষণার পর টেলিভিশনে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কেঁদে ছিলেন।

Civilian-War-Memorial


এরপর ১৯৬৫ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর জাতিসংঘের সদস্য পদ লাভ করে। এর এক মাসের মধ্যেই ১৯৬৫ সালের ১৫ অক্টোবর সিঙ্গাপুর কমনওয়েলথের সদস্য হয়। ২২ ডিসেম্বর ১৯৬৫ সিঙ্গাপুর প্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্রে পরিনত হয় এবং সিঙ্গাপুরের প্রথম প্রেসিডেন্ট হন ইউসুফ বিন ইসহাক।

“সিঙ্গাপুর” নামটি আসে মালয় ভাষার (Singapura) সিঙ্গাপুরা থেকে। সিঙ্গাপুরা শব্দটি আসে সংস্কৃত ভাষা সিঁহাপুরা থেকে, যার বাংলা অনুবাদ সিংহপুর। দক্ষিন-পূর্ব এশিয়া মহাদেশের সৌন্দর্যে ঘেরা একটি ক্ষুদ্র ও ব্যাপকভাবে নগরায়িত দ্বীপরাষ্ট্র । এর বর্তমান স্থল ভাগের আয়তন হল ৭১২.৪ বর্গকিলোমিটার। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে মালয় উপদ্বীপের দক্ষিণতম প্রান্তে, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মাঝখানে অবস্থিত। এটি মালয়েশিয়া থেকে জোহর প্রণালী এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে সিঙ্গাপুর প্রণালী দ্বারা বিচ্ছিন্ন।

Symbol-of-Singapore

রাজনীতি ও সরকার পদ্ধতিঃ
সিঙ্গাপুরের রাজনীতি একটি সংসদীয় প্রজাতন্ত্রের কাঠামোয় সঙ্ঘটিত হয়। সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকারের প্রধান। দেশটিতে মূলত একটি রাজনৈতিক দলের প্রভাব বেশি। দেশের নির্বাহী ক্ষমতা সরকারের হাতে ন্যস্ত। আইন প্রণয়নের ক্ষমতা সরকার ও আইনসভার দায়িত্বে পড়ে। বিচার বিভাগ নির্বাহী ও আইন প্রণয়ন বিভাগ থেকে স্বাধীন। আইনসভার সদস্যরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান হলেও তার ভূমিকা মূলত আলংকারিক। তবে ইদানিং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার পরিসর কিছু বাড়ানো হয়েছে।

১৯৫৯ সালের নির্বাচন থেকে সিঙ্গাপুরের রাজনীতিকে পিপল্‌স অ্যাকশন পার্টি (People’s Action Party-PAP) নামের রাজনৈতিক দল নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে। একাধিক বিরোধী দল উপস্থিত থাকলেও ক্ষমতায় তাদের প্রতিনিধিত্ব নেই বললেই চলে। তাই অনেক বিদেশী পর্যবেক্ষক সিঙ্গাপুরকে কার্যত একটি এক-দলীয় শাসনব্যবস্থা হিসেবে গণ্য করে থাকেন।

২০১১ সালের নির্বাচনে ওয়ার্কাস পার্টি (Singapore Workers Party-WP) কিছুটা ফর্মে আসে। তবে তা খুব বেশী নয়। এ নির্বাচনে মোট ৮৭ আসনের মধ্যে ৮১টি আসন পায় প্রধান মন্ত্রী Lee Hsien Loong এর দল People’s Action Party-PAP এবং Low Thia Khiang এর দল Singapore Workers Party-WP পায় ৬টি আসন। এখানে PAP ৮৭টি আসনেই নির্বাচন করে কিন্তু WP ২৩টি আসনে প্রতিদ্বন্ডিতা করে। ভোটের হার যথাক্রমে ৬০.১৪% এবং ১২.৮৩%।

এছাড়া আরও ৫টি রাজনৈতিক দল আছে। সেগুলো হলঃ
The Singapore People’s Party led by Chiam See Tong which left the Singapore Democratic Alliance (SDA) in 2011, The Singapore Democratic Party (SDP) led by Chee Soon Juan, The National Solidarity Party (NSP) led by Goh Meng Seng, The Reform Party (Singapore) led by Kenneth Jeyaretnam, and The Singapore Democratic Alliance (SDA) led by Desmond Lim, which is composed of the Pertubuhan Kebangsaan Melayu Singapura (Singapore Malay National Organization) (PKMS) and the Singapore Justice Party (SJP)।

তবে সিঙ্গাপুরের সরকার সবসময়েই একটি স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত সরকার হিসেবে বহির্বিশ্বে পরিচিত। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের মতে সিঙ্গাপুর বহুদিন ধরেই এশিয়ার সবচেয়ে দুর্নীতিমুক্ত দেশ।

বর্তমান সরকারে যারা আছেন :
প্রেসিডেন্ট-S.R. Nathan (৩১ আগষ্ট পর্যন্ত), প্রধানমন্ত্রী -Lee Hsien Loong, স্পীকার -Abdullah Tarmugi এবং প্রধান বিচারপতি হলেন- Chan Sek Keong।

S.R. Nathan -President of Singapore

Lee Hsien Loong- Pime Minister of Singapore

অফিসিয়াল ভাষাঃ
মালয় ভাষা, চীনা ভাষার বিভিন্ন উপভাষা, ইংরেজি ভাষা এবং তামিল ভাষা যৌথভাবে সিঙ্গাপুরের সরকারী ভাষা। এছাড়াও এখানে আরও প্রায় ২০টি ভাষা প্রচলিত। এদের মধ্যে জাপানি ভাষা, কোরীয় ভাষা, মালয়ালম ভাষা, পাঞ্জাবি ভাষা এবং থাই ভাষা উল্লেখযোগ্য। ইংরেজি ভাষা সার্বজনীন ভাষা বা লিঙ্গুয়া ফ্রাংকা হিসেবে ভূমিকা পালন করে। আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ডেও ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করা হয়।

সিঙ্গাপুরে চাইনিজ ভাষায় কথা বলে ৪৯.৯%, ইংরেজী ভাষায় ৩২.৩%. মালায় ভাষায় ১২.২% তামিল ভাষায় ৩.৩% এবং অন্যান্য ২.৩%।

জনসংখ্যাঃ
২০১০ সালের গননানুসারে সিঙ্গাপুরের মোট জনসংখ্যা ৫০,৭৬৭,০০০ জন। তবে বর্তমান জনসংখ্যা এর চেয়ে অনেক কম বলে জানা গেছে। আগষ্ট ৮, ২০১১ সিঙ্গাপুরের জনসংখ্যা ৪,৪২৪,১৩৩ জন।[সূত্র: Trueknowledge.com]

জিডিপির (পিপিপি) হার ২০১০ সালের হিসাব অনুযায়ী ২৯১.৯ (৪১তম) বিলিয়ন, মাথা পিছু $ ৬২,১০০(৫ম)। মানব উন্নয়ন সূচক 0.৮৪৬ (২৭ তম Very High)
Population

জন্মহার ও মৃত্যু হার : Dath Rate

শিক্ষার হার: Education

সিঙ্গাপুরের ধর্মালম্বীঃ
বৌদ্ধ ৩৩%, ইসলাম ১৫% , নিরীশ্বরবাদী ১৭%, খ্রিস্টান ১৮%, তাও ধর্ম ১১%, হিন্দু ৫.১%, অন্যান্য ০.৯%।

Singapore flyer

national-museum-of-Singapore

এছাড়া সিঙ্গাপুর সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে ক্লিক করুন এখানে।

যারা সিঙ্গাপুরে বেড়াতে আসতে চান তারা বিস্তারিত জানার জন্য ক্লিক করুন এখানে।

তথ্যসূত্র: সিঙ্গাপুর পরিসংখ্যান বিভাগ, উইকি।