ক্যাটেগরিঃ আর্ত মানবতা

 

আমরা বাঙালি। ২১শে ফেব্রুয়ারী, ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চ সহ বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও অনুষ্ঠানে গর্ব করে আমি বাঙালী। বাঙলা আমার মুখের ভাষা। বহু রক্ত ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জন আমাদের স্বাধীনতা ও ধরে রেখেছি আমাদের বাঙলা ভাষা।

আমাদের এ দেশে শেরে বাংলা, ভাসানী, বঙ্গবন্ধু, বীর মুক্তিযোদ্ধা, লাখ বীরঙ্গনাদের জন্ম হয়েছে। বার আউলিয়ার দেশ বাংলাদেশ ইত্যাদি ইত্যাদি। বলতে গেলে এরকম হাজার হাজার পৃষ্ঠা শেষ হবে, কিন্তু আমার লেখা হয়ত শেষ হবেনা।

আমরা সেই দেশের নাগরিক। চলনে-বলনে বেশ অহংকারীও বটে। যেহেতু অহংকার করার মত আছে অনেক অতীত ইতিহাস। আর সেই ইতিহাস নিয়েই যেন আমরা নিজেদের সভ্য দাবী করছি। আসলে আমরা কতটুক সভ্য হতে পেরেছি ?

আজ বিদেশের মাটিতে দেখি সবচেয়ে দুই নম্বরী ধান্ধায় বাঙালী ভাই-বোনেরা এগিয়ে। মানুষকে ঠকানোতে বাঙালিরা এগিয়ে। অবৈধ ব্যবসা ও কাজ কর্মেও আমরা বাঙালিরা এগিয়ে। আর দেশের মাটিতে তো কথাই নেই । ভাবতে ভালোই লাগে।

কথাগুলো এতদিন মনে চাপা দিয়ে রেখেছিলাম। আজ বহু কষ্টে বলতে হচ্ছে। কারন গত ০১ সেপ্টেম্বর ২০১১ তারিখে আমরা সবাই ব্লগে দেখেছি একজন স্ত্রীর করুন আবেদন স্বামীর জন্য, একটি শিশুর করুন আর্তনাদ তার বাবার জীবন বাঁচানোর জন্য।

আমরা সাথে সাথে লেগে পড়ি পোষ্টের পর পোষ্ট দিতে। পোষ্টও দেই। বেশ ভাল সাড়াও পেয়েছিলাম। সব সাড়া যেন ছিল কথামালার ফুলঝুড়ি। ভেবে ছিলাম ঈদের ছুটি, হয়ত সবাই আসেন নাই. আসলে হয়ত ভাল কিছু একটা হবে। কিন্তু কৈ কিছুই হয় নাই। সেই মহা সাহিত্য মাখা রাজনীতিবিদদের চেয়ে বড় বড় চাপা ও কী বোর্ডের ঝড় বইয়ে দিয়ে চলছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় নাই। যার ফলে হারুন ভাইকে দেখি আক্ষেপ করতে আমার বিভিন্ন ব্লগের পোস্টে গিয়েও আর্তনাদ হাসনা-হেনা ভাইকে বাঁচানোর। কিন্তু সবই যেন চিরাচরিত ধারায় চলমান।

“শুনেছি, দেখি কি করতে পারি।” সুন্দর ভদ্রসূচক জবাব। আমরা কত ভদ্র হয়েছি !!! কিন্তু পারি নাই মানবিক সম্পন্ন মানুষ হতে, পারি নাই স্বার্থবিহীন মন তৈরী করতে, জানিনা মনের দিক হতে কতটুক উঁচুমানের হলে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করা যায়। তবুও আমরা সভ্য !

আজ দেখলাম অন্য এক ব্লগে এক ব্লগার একটি সিগারেটের টাকা ভিক্ষা চেয়েছেন হাসনা-হেনার জন্য। ভাবা যায় কতটুক কষ্ট নিয়ে তিনি ঐ আবেদনটি করেছেন ? সেখানেও দেখেছি উল্টো মন্তব্য। কি ভয়াবহ মানবিকতার অধঃপতন!

অনেকে বলেন, তারা ছাত্র তাই তাদের কাছে টাকা নেই। তাই দুঃখ প্রকাশ ছাড়া কোন গতি নেই। কিন্তু ঐ ছাত্র ভাই-বোনেরাই দামী দামী মোবাইল সেট, স্টেডিয়ামে উচ্চ মূল্য পরিশোধ করে টিকেট কিনে খেলা উপভোগ, কনসার্টের টিকেট কেনার টাকা কোথা হতে আসে ? নিশ্চয়ই চেষ্টা-তদবির করে তাই নয় কি ? সেই চেষ্টা তদবিরটি এখানে একটু করে অন্তুত ১০০০ টাকাও যদি ঐ অসহায় পরিবারটিকে দেয়া যায় কতটুক উপকার তাদের হবে, একবার ভাবুন। কিন্তু আমরা তা করিনা। ছাত্ররা ইচ্ছা করলে একদিন অন্তুত অফিস সময়ে শাহবাগ মোড়ে, কারওয়ান বাজার মোড়ে, ফার্মগেট মোড়ে, গুলিস্তান মোড়ে, যার যার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটু উদ্যোগী হয়ে চেষ্টা করলে হয়ত বেশ ভাল টাকাই সংগ্রহ করতে পারেন, বাঁচাতে পারেন একটি জীবন।

এ ব্লগ ও অন্যান্য ব্লগে অনেক সাংবাদিক ভাই আছেন। তারা কি একটু চেষ্টা করে দেখেতে পারেন না বিষয়টি পত্রিকায় তুলে ধরতে। কিন্তু কোন রাজনৈতিক ইস্যু হলে কার আগে কে লিখবেন, তা নিয়ে কাড়াকাড়ি। বাহ ! চমৎকার।

এবার আসি প্রবাসীদের কথায়। আমি সিঙ্গাপুরে বহু চেষ্টা করেছি। তেমন কেউ আগ্রহী নয়। অথচ একদিন বারে গিয়ে হাজার হাজার ডলার খরচ করে আসে একটি গানে কোন ন্যাংটা মেয়ের নাচ দেখে ও বিয়ার খেয়ে। ওরা বাঙালি! এছাড়া সিঙ্গাপুরের ক্যাসিনোতে গিয়ে বহু বাঙালি তার বেতনের টাকা তো শেষ করেই, তার সাথে ধার করেও জুয়া খেলে নিঃস্ব হয়ে ঘরে ফিরে। আর গার্লফ্রেন্ড তো না হলেই নয়। আর প্রতি রবিবার তাদের পিছনে শত শত ডলার খরচ করে। এখানে বিবাহিত ও অবিবাহিত সবাই এক তালে এগিয়ে চলছেন। কারোও চেয়ে কেউ কম নয়।অবৈধ ব্যবসা ও ধান্ধা করেও ওরা বহু টাকা আয় করে, কিন্তু ধরে রাখতে পারেনা প্রায় ৯৫%। সবই যায় ডিসকোতে, গার্ল ফ্রেন্ড ও ক্যাসিনোতে। এই হলাম আমরা প্রবাসী বাঙালি! সভ্য বাঙালিরা।

অথচ দেখুন, মাত্র ১০/২০ ডলার দিলেও হয়ত অনেক কিছু হত। পাই নাই। উল্টো তাচ্ছিল্য করে উত্তর দিয়েছে। বলে দেয় ওরকম বহু আছে, কয়জনকে দিব ? বাহ ! দিল না একজনকেও অথচ, কয়জনকে দিবে !!!

আর এজন্যই প্রশ্ন আসে, আমরা কি সত্যিই সভ্য হতে পেরেছি ? আমরা কি মানবিক দিক হতে না অর্থের দিক হতে বেশী দরিদ্র ?

এখানে আমি কারোরই তেমন সাড়া পাইনাই (যাদেরকে আমি বলেছি)। শেষে এক ইন্ডিয়ান ভাই আমাকে কিছু ডলার দিয়েছে। দেখি হয়ত দু-এক দিনের মধ্যেই তা পাঠাবো।

আপনারা যারা বাংলাদেশে আছেন, তাদের কাছে অনুরোধ করছি. আপনারা পত্রিকায় দেয়ার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে একদিন রাস্তায় গাড়িতে গিয়ে হাত পাতুন, সাহায্যের জন্য না হয় একটু লজ্জাকে লুকিয়ে রাখবেন। তাতেও যদি একটি জীবন বাঁচে সেটাই বড় শান্তনা নয় কি ? যারা ছাত্র তারা রাস্তা হতে সহজেই সংগ্রহ করতে পারেন। দেখুন না ব্লগের ছাত্র ভাইয়েরা।

পাদটিকা: আমার লেখায় কেউ ব্যাক্তিগত ভাবে কষ্ট পেলে তার কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।

সাহায্য সংক্রান্ত আমার দেয়া পোষ্ট :
প্রথম আলো ব্লগ
বিডি ব্লগ
আমার বর্ণমালা
শব্দনীড়
আমার বন্ধু