ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

সরকার গত রবিবার জ্বালানী তেলের দাম বাড়ায়। এর পর বিএনপি এর সমালোচনা করে তাৎক্ষনিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল । তারা তখনও জ্বালানী তেলের ইস্যু নিয়ে হরতাল বা কোন ধরনরে কর্মসূচীর কথা বলে নাই। গত কিছুদিন ধরেই দলের মহাসচিব সাহেব বলে বেড়াচ্ছিলেন যে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর দলের নেত্রী নাকি কঠোর কর্মসূচী দিবেন। তাও আবার নাকি হবে শান্তি পূর্ন।

তাহলে হঠাৎ করে কেন ২২ তারিখের হরতাল ? ২৭ তারিখতো অনেক দুরে । আর জ্বালানী তেলে জ্বালাময়ী পাঠতো আগেই শেষ করে ছিলেন। তাহলে কোন কারনে আবার সেই জ্বালানী তেল নিয়ে জনগনকে তৈল দিতে হাজির বিএনপি-রাজাকার জোট ? এটা মীর জাফরের বংশধর ফখরুলের স্বপ্নে প্রাপ্ত তার পূর্ব-পুরুষদের আদেশ না কি আমাদের মহান নেত্রী ম্যাডাম খালেদার প্রয়াত স্বামীর আদেশে নাকি কাজী অফিসের গলিতে বাস করা তিন-মাথা (আমাদের দেশে যারা সাধারনত হাটু ও মাথা এক করে বসেন তাদেরকে তিন মাথার মানুষ বলা হয় এবং কথিত আছে তাদের নাকি বুদ্ধি খুব বেশী থাকে) পীর বাবা রাজাকার গোলাম আজমের আদেশে এ হরতাল ?

গতকাল হঠাৎ করেই ফিল্মি ষ্টাইলে জামাত-রাজাকার ও তাদের দোসর বিএনপি একযোগে বাস-মিনিবাস-রিক্সা-পথচারী-পূলিশ-সাধারন মানুষদের উপড় একযোগে তিন দিক হতে রাস্তার উভয় গলি হতে অতর্কিত হামলা চালায়। জ্বালিয়ে দেয় প্রথমে একটি যাত্রী পরিবহন বাস “ফাল্গুন”। এর পর একে একে যাত্রী বোঝাই যত গাড়ী ও প্রাইভেট কার ছিল কেউই রক্ষা পায়নি। পথচারীরা অসহায়ের মত এদিক-সেদিক ছুটে বেড়াচ্ছিলেন, স্কুল ছুটির পর শিশুরা আত্ম-রক্ষার জন্য কান্না-কাটি ও চিৎকার করছিল। কোনটাই ওদের মনে দাগ কাটেনি। কারন এটাই ওদের জেহাদ ! ৫০ বছরের বৃদ্ধ আত্ম রক্ষার জন্য গাড়ীর জানালা দিয়ে নামতে গিয়ে পেয়েছে প্রচন্ড ব্যাথা। তার সেদিকে কোন খেয়ালই ছিলনা, আগে প্রাণে বাঁচাটাই যেন ছিল তার প্রথম ও প্রধান চেষ্টা। আশে-পাশের বাড়ীর দারোয়ান তাদের বাড়ীর গেট বন্ধ, মার্কেট ও দোকানের দরজা ও ঝাপ বন্ধ থাকার কারনে সাধারন পথচারী ও আত্মরক্ষার জন্য যারা ছুটা-ছুটি করছিলেন, তাদের চোখে-মুখে ছিল প্রচন্ড প্রাণ রক্ষার আকুতি ! কোনটাই ঐ হায়েনাদের ৭১ এর মত মন গলাতে পারেনাই। প্রত্যক্ষ দর্শীর বিস্তারিত দেখুন।

এখন আসি মূল প্রসঙ্গে । জামাতের ঐ তান্ডবকে বিএনপি স্বাগত জানিয়েছে। তার প্রমাণ তাদের পক্ষে সাফাই ও পুলিশের বিরুদ্ধে সব দোষ চাপানো। আর জামাত হল সেই ৭১ হতে তাদের মানে বিএনপি ঘরনার পরমপ্রিয় বন্ধু। মাঝখানে কিছু মান-অভিমান হয়েছিল । যেমন: ১৯৯৫ সালে । এর পর আবার তার পুরোনো সম্পর্কে ফিরেও আসে। আর সম্পর্কটা আরোও মজবুত হয় ২০০১-২০০৬ আমলে সরকারে সুযোগ ও গাড়ীতে পতাকার মর্যাদার মধ্য দিয়ে। সে যাই হোক, সেই মিত্রদের সব বড় বড় নেতারাই হল ৭১ এর ঘাতক ও নির্যাতনকারী। আর সেই অপরাধের বিচারের জন্য আজ তারা কারাগারে। এর পর যারা অবশিষ্ট ছিল তাদের মধ্যে বড় কয়েকটিকে গতকাল ও আজ গ্রেফতার করাই হলো বড় অন্যায় !

আর সে অন্যায়ের প্রতিবাদেই বিএনপি ২২ সেপ্টম্বর হরতাল ডেকেছে। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, জমি-জমা যাই বলুন সব হলো লোক দেখানো। মায়া-কান্না। কারন যেদিন দাম বাড়ানো হয়েছে সেদিন তারা সামান্য প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বসে ছিল ২৭ তারিখের অপেক্ষায়। কিন্তু সরকার তাদের সুস্থ্য থাকতে দিলনা ! তারা মিত্রদের, বন্ধুদের গ্রেফতার করল। কেন করল ? তাই হরতাল দিতে হবে। তাহলে বোকা জনগনকে কি বুঝাবো ? পেয়েছি !!!! তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ আছেনা। এটাতো উত্তারাধীকার সূত্রে আমরা দিয়েই এসেছি। ইউরেকা !!!! ২২ তারিখে দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও, গ্যাস বাঁচাও, বিদ্যুৎ বাঁচাও (আর সবার মূলে জামাত-রাজাকার ও পাকিস্তানের এজেন্ডাকে বাঁচাও)। আর বাঁচাতে হলে হরতাল । তাই আগামী ২২ তারিখে হ – র – তা – ল। বাঁধা দিলে আজীবন হরতালও আসতে পারে। অতএব, সাধু সাবধান !!!!

গতকাল হরতালের বিস্তারিত খবর দেখুন: জামায়াতের শোডাউন, এটিএম আজহারসহ গ্রেপ্তার ৯০০

এ হরতাল কাদের জন্য ? জনগনের জন্য না রাজাকার-জামায়াতের জন্য ?