ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সহ-উপাচার্য হাবিবুর রহমানকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা মামলাও দ্রুত প্রত্যাহার করা হবে।

গতকাল সোমবার মধ্যরাতে বুয়েট শিক্ষক সমিতির নেতারা শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে গিয়ে বৈঠক করেন। সেখানে এসব সিদ্ধান্ত হয়। রাত দেড়টার দিকে বৈঠক শেষ হয়।

বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘বৈঠকে বুয়েটের সার্বিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে সহ-উপাচার্যকে প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মামলাও দ্রুত প্রত্যাহার করা হবে।’ তিনি বলেন, অন্য অভিযোগগুলোর বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বুয়েটের আন্দোলনরত শিক্ষকেরা এ সিদ্ধান্তের ব্যাপারে আশ্বস্ত হয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, দ্রুত তাঁরা শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরে যাবেন।

মুল বিষয় হল আদৌ কি বুয়েট সমস্যার সমাধান হবে ?
‘আশ্বাস’ ‘আশ্বাস’ ‘আশ্বাস’
সরকারকে বলব আর কত আশ্বাসের বাণী শোনাবেন আপনারা ?
শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই আর কত আশ্বাসের বাণী শুনে আপনারা বসে থাকবেন ?
আপনাদের যদি আশ্বাসে এতই বিশ্বাস তাইলে আন্দোলন করে তিন মাস সময় নষ্ট করলেন কেন?
আমরাও আশ্বাস দিতে চাই- আর কোনো দিনই আপনাদের আশ্বাসে আন্দোলনে যাবে না বুয়েটের ছাত্ররা, আপনারা তার যোগ্য নন
মিউ মিউ করে ক্লাসে ফিরে যান, এক মামলা উঠবে আরও ১০ মামলা আসবে…কিন্তু কেউ ক্লাসে ফিরবে না।

গতকাল উপাচার্য ও সহ-উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে বুয়েটের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছায় শরীর থেকে রক্ত বের করে অভিনব প্রতিবাদ জানান। তাঁরা সিরিঞ্জের মাধ্যমে নিজেদের হাত থেকে রক্ত নিয়ে তা বোতলে ভরে প্রশাসনিক ভবনের সিঁড়িতে ঢেলে দেন। এই রক্তপাত নিপাত জেতে পারেনা।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, এটা ‘প্রতীকী রক্তপাত’ কর্মসূচি। কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বলেন, ‘বুয়েটের বর্তমান উপাচার্য এস এম নজরুল ইসলাম গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থাকাকালে সেখানে রক্তপাতের ঘটনায় চলে আসতে বাধ্য হন। আমরা আশঙ্কা করছি, মিথ্যা মামলা ও সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা চালিয়ে বুয়েটেও তিনি রক্তপাত ঘটাতে পারেন। তাই আমরা আগেই স্বেচ্ছায় রক্ত দিয়ে উপাচার্যকে বলতে চাই, আমাদের রক্ত নিন, তবু আপনি বিদায় হোন।’

পদত্যাগের বিষয়ে গতকাল উপাচার্য এস এম নজরুল ইসলাম আগের কথাই মনে করিয়ে দিয়েছেন। বলেন, সরকার না চাইলে তিনি নিজে থেকে পদত্যাগ করবেন না।
উপাচার্য এস এম নজরুল ইসলামের উদ্দেশ্যে বলতে চাই দয়া করে পদত্যাগ করুন।

‘ প্লিজ সেভ বুয়েট ’।