ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

বিশ্বে সুখী দেশের তালিকায় ১১তম অবস্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ।বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই আমরা দুনিয়ার অন্য দেশগুলোর তুলনায় থাকি অনেক পিছিয়ে। সুখের দৌড়ে আছি বেশ এগিয়ে এও বা মন্দ কি! ‘হ্যাপি প্লানেট ইনডেক্স’ এর তালিকাতে ১৫১টি দেশের মধ্যে প্রতিবেশি ভারত ও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ ১১তম স্থান দখল করেছে। এ তালিকাতে ভারত
ও পাকিস্তানের স্থান যথাক্রমে ৩২তম এবং ১৬তম।

পারিবারিক বন্ধন:অনাবিল আনন্দ

সুখ নয় অধরা

২০১২ সালে ‘হ্যাপি প্লানেট ইনডেক্স’ এর ১৬১টি দেশের তালিকায় ৮৯ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম অবস্থানে রয়েছে কোস্টারিকা। জেনে খুব ভাল লাগল আমরা মানসিক সুখের দিক থেকে বেশ সমৃদ্ধ। দেশটাই শুধু সবুজ নয়। মনটাও আমাদের সবুজ। এ প্রশ্ন মানব মনের দীর্ঘদিনের- সুখ তুমি কি!সুখ কি অধরা? সুখ কি খুব দামী? কত টাকা পয়সা হলে সুখ মেলে?গানের ভাষায় তো রয়েছেই-সুখ তুমি কি_বড় জানতে ইচ্ছা করে। না, সুখ খুব বিত্তের ব্যাপার নয়। টাকায় নয়,ধনে সম্পদে নয় সুখ বিকোয় মনের ঐশ্বর্যে। সুখের সন্ধানে মনের তৃপ্তিই বড়। আর একারণেই বিশ্বের একটি গরীব দেশ হওয়া স্বত্বেও আমরা সুখী
দেশ হিসেবে আছি অনেক ওপরে।

মানুষের সুখী হওয়ার পিছনে রয়েছে সুস্থ মন ও মানসিকতা। অর্থনৈতিক উন্নতি সুখী হওয়ার একমাত্র চাবিকাঠি হতে পারে না। বর্তমানে পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা অস্থির মানসিকতার জন্য দায়ী। বাবা-মা, ভাই-বোন,স্বামী-স্ত্রী, বন্ধু-বান্ধব সবার সুসম্পর্ক এজন্য দরকার।মনোবিজ্ঞান ও মানসিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের একজন ছাত্র হিসেবে সুখের সন্ধানের কথা জেনেছি মনের গভীরে স্বস্তিতে।

মায়ের এই হাসি চির অমলিন

অনন্যা

আমরা যে ১১তম স্থানে রয়েছি এর জন্য সরকারী কোন কর্মসূচির কোন কৃতিত্ব নেই। সরকারি বা বিরোধী দল একারণে এই চমৎকার বিষয়টি নিয়ে বিতর্কও শুরু করে নি। এই অর্জন আমাদের সাংস্কৃতিক সামাজিক পারিবারিক উত্তরাধিকারের জন্য। এই অল্পতে খুশি জাতি চাইলে অনেক কিছুই করতে পারে।সেজন্য সরকারি সামাজিক পারিবারিক পর্যায়ে মটিভেশন দরকার। একজন প্রাকটিসিং চিকিৎসক হিসেবে মাঝে মধ্যে কিছু অসুখী মানুষের দেখা পাই। মনে সুখ না থাকলে তা একপর্যায়ে আমাদের মানসিক রোগ চিকিৎসকের কাছে পর্যন্ত টেনে নিতে পারে। এই অসুখী মানুষের অসুখের কারণ বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে পরিবার থেকেই সৃষ্ট। কখনও লোভ; কখনও টাকাপয়সার পেছনে দৌড়; কখনও অসম প্রতিযোগিতায় শামিল হওয়া;পারিবারিক অশান্তি;কলহ এগুলো পরিবারের দুর্বল চিত্তের সদস্যটিকে ঠেলে দেয় রীতিমত মানসিক রোগের দিকে। আমরা কখনও এই অসুখী মানুষগুলোর কথা মনে রাখি না।

সুখ অধরা নয়। সুখ ধনীরও নয়। সুখের উৎস হল মন। কথায় বলে-চিত্তে যার সুখ; তার দীর্ঘায়ু ঠেকায় কে! চিত্তে সুখ আছে কিনা সেটাই হল বড় কথা। সুখকে ধরতে চাইলেই ধরা যায়। চাইলে গরীবের ঘরেও বন্দি করে রাখা যায়। কিন্তু সেজন্য মটিভেশন দরকার। ইদানিং অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান মন নিয়ন্ত্রন নানা কর্মসূচি শেখাচ্ছেন শহুরে মানুষকে। এটা ভাল উদ্যোগ। সিলভা মেথড;কোয়ানাটাম মেথড নানা রকম পদ্ধতি চালু হয়েছে। সবগুলোই বেশ কার্যকারঅনন্যা

আমরা পেশাদার চিকিৎসকরাও মনের ব্যায়ামের ওপর জোর দেই। নানা মেথড পশ্চিমা দুনিয়া থেকে এলেও মন নিয়ন্ত্রনে ইয়োগা এই উপমহাদেশে সে তো বেশ অনাদিকালের। নামাজও মনকে রাখে সাবলীল। মনকে রাখে প্রশান্তিময়। আর সবচেয়ে বড় কথা আপনার পরিবার টি সুখী পরিবার কিনা্ পরিবারের মধ্যে সুখী থাকার ওয়াদা আছে কিনা। আপনার পারিবারিক বন্ধন ভালবাসাময়তায় ভরা;মমতা মায়ায় পরিপূর্ন কিনা। আজ যে সুখী জাতি হিসেবে সুপরিচয়ের আনন্দময় আখ্যাটি আমরা পেলাম-তা কোন সচেতন চর্চার কারণে নয়_ তাই ব্যাপারটি হেলাফেলার নয়। সহজাত এই অর্জনকে যে কোন গুরুত্ব দিচ্ছি না সেটাও ঠিক নয়। সহজে সুখে থাকার যে ক্ষমতাটি আমাদের রয়েছে সেটিকে এখন নানা চর্চার মধ্যে দিয়ে ধরে রাখতে হবে।

বন্ধন অটুট থাকুক

প্রাকটিসিং চিকিৎসক হিসেবে দেখছি অ-সুখের অসুখে ভুগছেন_ এমন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু সহজে রোগীদের এই চেম্বার মুখীনতা আমরা কমাতে পারি। এজন্য দরকার পরিবারে সমাজে আত্মীয়তার পরিমন্ডলে চাই সুখে থাকার শপথ। বন্ধন আরও জোরদার করা। অদরকারী বিলাসের পেছনে না ছোটা। জীবন যাপনকে যত হালকা করা যায়, সহজ করা যায়-ততই সুখ ষোলআনা।