ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

তারা ডাক্তার নন। চিকিৎসা করার কোন যোগ্যতাই তারার রাখেন না। তারপরও রীতিমত চিকিৎসা করে যাচ্ছেন। আমরা যারা এলোপ্যাথিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্র;তারা ভদ্রতাবশত তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলি না। ভাবি,সবাই বলবে কাঙালের মত নিজেদের ডাক্তারিপনা ফলাচ্ছি। নিজেদের প্রচার করছি। কিন্তু এই অপচিকিৎসকদের জন্য সাধারণ মানুষের ভয়াবহ ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যেই পত্রপত্রিকায় এদের ব্যাপারে রিপোর্ট দেখি। সাংবাদিক ভাইয়েরা তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তারা লিখে যাচ্ছেন। কিন্তু তারা তো আর প্রশাসনের হর্তাকর্তা নন। প্রশ্ন হল প্রশাসন কি করছে! প্রশ্ন হল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কি করছে!পুলিশ কি করছে!এই যে কোটি কোটি মানুষ অপচিকিৎসার শিকার হয়ে মারা যাচ্ছে;ক্রনিক রোগে ভুগছে_এর দায় কে নেবে? আমরা চিকিৎসকরা কি এর দায় এড়াতে পারি। কেন আমার এই আত্ম জিজ্ঞাসা_সে প্রসঙ্গে বলার আগে আসুন আমরা একটি প্রামাণ্য রিপোর্ট পড়ি। দৈনিক মানবজমিনসহ একাধিক কাগজে এনিয়ে ছাপা হয়েছে।

লালা ফকিরের আস্তানা;তিনি চিকিৎসা দেন প্রকাশ্যে

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে: ‘এলএমএফপি কিংবা এমবিবিএস’ ডাক্তার হওয়ার জন্য এধরনের কোনো ডিগ্রীই নেই তার। তবু তিনি ডাক্তার। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি রোগী দেখেন। চিকিৎসা করেন, ওষুধও দেন।

রাজশাহী মহানগরীর আলুপট্টিতে ওষুধ কোম্পানীর মেডিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভ রীতিমতো ডাক্তার সেজে চেম্বার খুলে বসেছেন প্রভাতী ফার্মেসীর মালিক কে. জামান সরকার (কামরুজ্জামান)। ডাক্তারী বিদ্যা পাস না করেও নামের আগে ডাক্তার লিখে রোগীর চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। পিজিটি কিংবা এমবিবিএস পাস করে ডাক্তার না হয়েও তার চেম্বারের সামনে ঝুলানো সাইনবোর্ডে নামের আগে ডাক্তার লিখে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত সকাল-সন্ধ্যে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। রোগ নির্ণয়ের পর ব্যবস্থাপত্র দিয়ে চেম্বারের সাথেই তারই ওষুধের দোকান থেকে ওইসব রোগীদের কাছে ওষুধ বিক্রি করছেন। আবার রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে কখনো কারও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হলে এখানেই সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তবে এখানে যেসব মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন তারা নিতান্তই গরীব ও অশিক্ষিত। আর এসব মানুষ তাকে ‘গরীবের ডাক্তার’ বলেই জানেন। তাই অতি সহজেই নিতান্ত দরিদ্র ও খেটে মানুষদের কাছ থেকে দু’হাতে টাকা কামাচ্ছে অভিযোগ উঠেছে।

এক হাতুড়ে চিকিৎসক ভিটামিন ইনজেকশন দিচ্ছেন

অভিযোগ রয়েছে, কথিত ডাক্তার কে. জামান সরকার ২০০৬ সালের দিকে এপেক্স ও পরে হার্ডসন নামের ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানীতে মেডিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভ হিসেবে চাকরি করতেন। ২০০৭ সালের দিকে তিনি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হলে ওই চাকরি ছেড়ে দেন। পরে মেডিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে হয়ে গেছেন ডাক্তার। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যে চেম্বারে বসে রোগীর চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি শিশুসহ সকল স্তরের রোগীর রোগ নির্ণয় করে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে তারই দোকান থেকে রোগীদের কাছে ওষুধ বিক্রি করছেন। রোগীরা জানিয়েছেন, তিনি সর্বরোগের ডাক্তার।

নগরীর সাগরপড়া থেকে আসা এক মহিলা রোগী বলেন, আমরা গরীর মানুষ, তাই এখানে কিছুটা কম টাকায় চিকিৎসা করাই। কখনো রোগ ভাল হয়, কখনো হয়না। না হলে সরকারী মেডিকেলের আউটডোরে যাই। তবে কথিত ডাক্তার কে জামানের চেম্বারে আসা এক রিক্সাচালক জানান, তার শিশুর পেট ব্যথা নিয়ে এখানে এসেছিলেন । কিন্তু একসপ্তাহ ধরে কোনো ফল পাননি। বাধ্য হয়ে শিশু বিশেষজজ্ঞকে দেখিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, কে জামান নিজে ব্যবস্থাপত্র লিখে তার প্রখাতী ফার্মেসীতেই ওষুধ কিনতে রোগীদের বাধ্য করেন। আর ওষুধ বিক্রিই তার আসল ব্যবসা।

হাতুড়ে চিকিৎসালয়

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কথিত ডা. কে জামান সরকার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি নিজেকে প্যারামেডিক্যাল কলেজ থেকে ডিপ্লোমা পাস করা ডাক্তার বলে দাবী করেন। কিন্তু কত সালে এবং কোন প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি ডিপ্লোমা পাস করেছেন তা জানাতে পারেন নি। তিনি নিজেকে অভিজ্ঞ ও কমপয়সার ডাক্তার বলেও জানান।

এব্যাপারে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসাবিদ্যা গ্রহণ ছাড়াই কীভাবে শিক্ষা নগরীতে এরকম ব্যবসা নির্বিঘেœ চালিয়ে যান তা বোধগম্য নয়। এধরনের হাতুড়ে ডাক্তারদেও অপচিকিৎসার কারণে শিশুমৃত্যুর হার দিনদিন বাড়ছে। এধরনের কথিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

হাতুড়ে ডাক্তার আজমেরী আলম;তার রোগী কম নয়

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপ্যাল প্রফেসর দায়েম উদ্দিন বলেন, সাইনবোর্ড সর্বস্ব এসব ভূয়া ডাক্তারের ভুল চিকিসার কারণে বহু রোগীই মারা যাচ্ছে। গরীব মানুষরা না জেনে তাদেও কাছে কম পয়সা কিৎিসা করাতে গিয়ে প্রতারিত হচ্ছে। অনেকে আবার সাময়িরক আরোগ্য লাভ করলেই পরবর্তীতে আরো কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জন ডা. শহীদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সরকারী নির্দেশ রয়েছে যারা অনুমোদিত ফার্মাসিস্ট চিকিৎসক হিসেবে চিকিৎসা দিবেন তারা প্যাডের ওপর কখনই ‘ডাক্তার’ শব্দটি ব্যবহার করতে পারবেন না। এছাড়া তাদের ব্যবস্থাপত্রে কোনক্রমেই ১৩ রকমের ওষুধের অধিক লিখতে নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। রাজশাহীতে অনেকেই কোন ডিগ্রী না নিয়েই ডাক্তার সেজে চেম্বার খুলে বসে রোগীদের সাথে প্রতারণা করছেন- এমন খবর শুনেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এব্যাপারে কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো পাইনি।

একটি চিকিৎসালয়;রোগীদের ভিড় এখানে কম নয়

কি ভয়ংকর রিপোর্ট ভাবুন!মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভ ছিলেন। এখন সর্বরোগহর ডাক্তার হয়ে বসেছেন। আমরা চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা করে প্রাকিটিসিং ডাক্তার হয়েও যেখানে না জানা না পড়া বিষয়ে চিকিৎসা দেই না। দেয়ার প্রশ্নই আসে না। বিশেষ বিশেষ উচ্চতর পড়াশোনা করে অনেক কষ্টে ডিগ্রি লাভ করে বিশেষায়িত চিকিৎসা দেই সেখানে এরা কিনা সব রোগ সেরে দেন। দেখা যাচ্ছে দেশের একটি প্রধান শহরে তিনি প্রাকটিস করছেন কোনরকম বাঁধাবিঘ্ন ছাড়া। তার অপরাধ দেখার কেউ নেই। যাদের দেখার কাজ; যাদের এদের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যাবস্থা নেয়ার দায়িত্ব তারা নানারকম দার্শনিক সুলভ কথাবার্তা বলছেন। তাদের আমি দোষ দেই না একারনে যে শুনেছি এসব বড়-বিশাল কবিরাজদের হাত নাকি অনেক লম্বা ।

কলকাতার ক্যাপ্টেন গৌতম; অন্য ডিগ্রি তার পছন্দ হয় নি তাই লাগিয়েছেন ক্যাপ্টেন

এদের ধরে রাখা যায় না। এরা আট ঘাট বেধে এই মানুষ মারার কাজে নামেন। অনেকে ভাববেন সরাসরি মানুষ মারার কথাটা কেন বললাম। বললাম অভিজ্ঞতা থেকে। মানসিক রোগের চিকিৎসা দিতে গিয়ে বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয় মাঝেমধ্যে। আমাদের সবচেয়ে বেশী বিপদে পড়তে হয় সেই রোগীকে নিয়ে-যে রোগী ওঝা-ঝাড়ফুঁক-কবিরাজ হয়ে শেষ ভরসা হিসেবে আমাদের কাছে যখন আসে। রোগীর অবস্থা তখন মরনাপন্ন। যে রোগী সঠিক সময়ে এলে আমরা অতি উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করে তাকে দ্রুত ভাল করে তুলতে পারতাম। সেই রোগীকে নিয়ে আমাদের তখন হিমশিম খেতে হয়। একইরকম বিব্রতকর অভিজ্ঞতা হয় তথাকথিত কিছু মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র থেকে চিকিৎসা নিয়ে আসা মাদকসেবীদের নিয়ে। ব্যাঙের ছাতার মত ঢাকায় ও ঢাকার বাইরে বেশ কিছু মেন্টাল হোম গজিয়ে উঠেছে।

ধরা পড়েছে;কিন্তু ছুটে যাবে সহজেই

ঢাকার বাইরের কথা আর কি বলবো ঢাকাতেই এমন মাদক নিরাময় কেন্দ্র রয়েছে-যারা চিকিৎসা করাচ্ছে নন-মেডিকেল লোকজনকে দিয়ে। রীতিমত গিনিপিগ বানিয়ে মাদকসেবীদের ওপর চিকিৎসার নামে অত্যাচার নির্যাতন করছে। মানসিক রোগের উচ্চতর শিক্ষা ও ডিগ্রি প্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ দেশে দরকারের তুলনায় অপ্রতুল। জেলা পর্যায়ে নেই। বড় কয়েকটি শহরে বিশেষজ্ঞ মানসিক ডাক্তার পাওয়া যায়। এই সুযোগটাই নিচ্ছে ওঝা-অপচিকিৎসক-কথিত শিক্ষাবিহীন মানসিক ডাক্তাররা। আরেক দল নন-মেডিকেল ভাওতাবাজি করে চিকিৎসা দিচ্ছে। এই ওঝাদের হাত থেকে পরিত্রানের উপায় কি! সব জায়গায় মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ পাওয়া যাচ্ছে না বলে ওঝাদের চিকিৎসা নিতে হবে এটা কোন কাজের কথা হতে পারে না। তাই চাই সচেতনতা। রিপোর্টে বলা হচ্ছে- এসব ওঝা-অপচিকিৎসকরা কম পয়সা নেন বলে তাদের কাছে রোগীরা যান। ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি কথাটা সর্বাংশে সত্য নয়।ওঝার শিকার এমন কোন রোগী পাইনি যারা ওঝাদের কাছে হাজার হাজার টাকা খুইয়ে আসেননি। এমন অনেক রোগী পেয়েছি যারা তথাকথিত মাদক নিরাময় কেন্দ্রে কয়েক লাখ টাকা খুইয়ে এসেছেন। তবু যত দোষ এলোপ্যাথিক প্রকৃত চিকিৎসকদের। শিক্ষিত লোকজন পর্যন্ত প্রথমে এসব মাদক নিরাময় কেন্দ্রে যান।

যত্রতত্র চিকিৎসা নেবেন না;সাবধান

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল ভার্সিটিতে অতি অল্প খরচে দেশের শীর্ষ মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞরা সেবা দিলেও নন মেডিকেল সেন্টারগুলোতে রোগীরা কেন যাচ্ছেন। অনেকে হয়তো বলবেনআমাদের নিশ্চয়ই কোন গাফেলতি আছে তাই এমনটা হচ্ছে। যদি তাই হয় দৃষ্টি আকর্ষন করুন আমরা নিজেদের অপারগতাকে শুধরাতে চেষ্টা করবো। ইদানীংকালে বিএসএমএমইউতে বৈকালিক বিশেষজ্ঞ সেবা চালু হচ্ছে। রোগীরা এখানেও আসতে পারেন। আমরা কোন অবস্থাতেই বাইরে থেকে ডায়াগনোসিস করতে বলব না। এখানেই সব সেবা একসাথে পাবেন। ভিসি অধ্যাপক প্রাণগোপাল দত্ত স্যার এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন। পাছে লোকে কিছু বলবেই। তারপরও বিএসএমএমইউতে বিশ্বমানের চিকিৎসা চালুর আপ্রান চেষ্টা করছেন ভিসি স্যার। আমি মেডিকেল কলেজ লাইফে থেকে তার ছাত্র। স্যারকে অমি চিনি্। জানি। তার চেষ্টা সফল হবেই। একটি বিশ্ব মানের চিকিৎসা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ভার্সিটি

মানসিক রোগ চিকিৎসায় আরেকটি সীমাবদ্ধতা হল অনেকে কেবল পাবনা মেন্টাল হাসপাতাল বাদে দেশে আর কোন মানসিক চিকিৎসালয় আছে সে ব্যাপারে ওয়াকিবহাল নন। অথচ ঢাকাতে বিএসএমএমইউতে আমরা তো আছিই; জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটেও কয়েক শ বেডের হাসপাতাল রয়েছে। সেখানেও সুচিকিৎসার ব্যাবস্থা রয়েছে।

কথা হল প্রশাসনকে সব দোষ দিলে চলবে না। নিজেদেরও সচেতন হতে হবে। যারা আসলেই চিকিৎসক নন; তারা ব্যাপক বিজ্ঞাপন সহ নানা ফর্মে রোগীদের বিভ্রান্ত করবে। যার জানা শোনার দৌড় নেই। তার গলার আওয়াজ উচু হয়। এত পুরানা প্রবাদ।এটা সব ক্ষেত্রে সত্য। চিকিৎসক সমাজ, রোগী আত্মীয় স্বজন, প্রশাসন পুলিশ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখলেন অমনি ছুটে যাবেন না। টিভিতে টকশো দেখলেন অমনি ছুটে যাবেন না। ইদনিং টিভিতে চলছে_টিভিসি। অনুষ্ঠানের মত সাজিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বিজ্ঞাপন। এর দ্বারা প্রতারিত হবেন না। সন্ধি সুধা এ্যাডে নায়ক গোবিন্দ জ্যাকি শরফকে দেখা যায়। আমরা সবাই জানি তারা ডাক্তার নন। তবে রোগীদের প্রলুব্ধ করছেন তাদের নায়কীয় ইমেজ দিয়ে। এসব চিকিৎসা কতটা বিজ্ঞান সম্মত সে ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে সবাইকে। শুধু গোবিন্দা বলেছে অমনি মহা-ওষুধ পেয়ে গেলাম এমনটা ভাববেন না।