ক্যাটেগরিঃ ভ্রমণ

 

সত্যিই অপূর্ব। নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাসই হত না। ছোটবেলা থেকে শুনেছি ধান নদী খাল এই তিনে বরিশাল। সেই বরিশালেরই পিরোজপুর জেলার একটি থানা হল স্বরুপকাঠি। এককথায় অনন্য সুন্দর ভুমি।

স্বর্গ স্বরুপায় ছায়া সুনিবিড় অপূর্ব নিসর্গ

স্বর্গ স্বরুপায় নিঝুম দুপুর:ছবি রাসেল আহমেদ

কোথায় পাব এমন পথের দেখা: ছবি লেখক

ছায়া মায়া মমতার গেহে

ছায়া মায়া মমতার গেহে

জল ও সবুজ যেখানে বিলীন

যতদুর চোখ যায় কেবলি সবুজ

পুরো স্বরুপকাঠি জুড়ে বাগান আর বাগান:চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন

নদী ও খালের সৈকতে

ধান তেমন দেখিনি। ধান খেতও তেমন দেখিনি স্বরুপকাঠিতে। দেখেছি অপূর্ব সব খাল। বিশাল বিশাল খরস্রোতা খাল। বিশাল নদী। থাল ও নদীর দুপাশ জুড়ে সবুজ আর সবুজ। ঘন সবুজ। বিশাল বিরাট গাছ। নারক

েল বাগান। সুপারি বাগান। এত বিচিত্র প্রজাতির গাছ। গাছের গোড়া জল ছুয়েছে। সে এক অভুতপূর্ব দৃশ্য। দেখে মনে হয়েছে এ যেন সুন্দরবনেরই অংশ। আমি সপরিবারে গেল বছর গিয়েছিলাম সুন্দর বনে। আমার ছেলে মন ভরে মুগ্ধ চোখে দেখেছে সুন্দর বন। সেই কিশোর ছেলে স্বরুপকাঠির সুন্দর দেখে আরও অভিভুত। তার মতে, এটাও সুন্দরবন না হয়ে যায় না। যারা আমার কিশোর ছেলের কথাকে অতিশয়োক্তি মনে করছেন_ তাদের আমন্ত্রন স্বরুপকাঠিতে। একবার ঘুরে দেখে আসুন। মনে সত্যিই অন্য কোন জগতে আপনি ঢুকে পড়েছেন। মানুষ গাছ লাগিয়ে এমন অসাধারণ বৃক্ষ শোভা তৈরি করতে পারে সেটা স্বরুপকাঠি না গেলে বিশ্বাসই করতাম না। এখানকার গ্রামগুলো সব সবুজের প্রাচীরে ঘেরা। গ্রামের ভেতর দিয়ে রাস্তা গেছে। কিন্তু প্রখর দুপুরেও সেসব সড়কে রোদ পৌছাবার জো নেই। সব রোদ আটকে দিয়েছে গাছপালা। আর পুরো উপজেলা জুড়েই জালের মত খাল। ইদানিং অনেকেই বলছেন স্বরুপকাঠি হল বাংলার কেরালা। াামার এক বন্ধু এমনটা বলাতে খুব আগ্রহ নিয়ে স্বরুপকাঠি গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম বাড়িয়ে বলা। বাঙালি অমনটা বাড়িয়ে বলেই। না বাঙালি বাড়িয়ে বলে না। সাধারন মানুষ বরং কমিয়েই বলে। কেননা তাদের বেশীর ভাগেরই কেরালা দেখার সৌভাগ্য হয় নি। মালয়েশিয়ার হাতে গড়া নানা পর্যটন দেখার ভাগ্য আমাদের অনেকেরই হয়নি। আর একারনেই আমরা আমাদের নিজেদের সুন্দরকেও সুন্দর বলে দাবি করতে ভয় পাই।

সন্ধ্যা নদীতে লক্ষীপূর্নিমার চাদ

খালের জলে সবুজে অস্তরাগের লালিমা

অনেকে ছুটিতে পার্বনে সিংগাপুর মালয়েশিয়া বালি ছুটে যাই। অথচ আমরা জানিনা _ আমাদের নিজেদের দেশে কি সব অপূর্ব সুন্দর জমা আছে। স্বরুপ কাঠিকে বাংলার কেরালা বলে আমি স্বরুপকাঠিকে বড় বা ছোট করতে চাই না। সুন্দর সুন্দরই। তুলনা করে তাকে বড় বা ছোট করা যায় না। শুধু এটুকুই বলব স্বরুপকাঠিকে পর্যটন ক্ষেত্র বলে প্রচার করলে ভাল করে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তুলতে তা অনন্য এবং জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে অচিরেই জায়গা করে নেবে ।