ক্যাটেগরিঃ সেলুলয়েড

লতাজী ও ভূপেন হাজারিকা

সত্যি একদম বিশ্বাস করতে মন চাইছে না। এটা কেমন করে হয়। প্রনম্য লতা মঙ্গেশকর – ভারতের অমরা কন্ঠ; ভূপেন হাজারিকা_আমি এক যাযাবর_এই একটা গানের জন্যই যিনি বেচে থাকবেন শত শত বছর;অন্য কীর্তি নাই বললাম তারা জড়িয়েছিলেন গোপন প্রেমে। নাহ, বিশ্বাস করতে চাই না আমি। অবিশ্বাস করে তবু ঠকতে চাই। তবু ভাবব এ সত্য নয়। লতাজী মানেই সারা জীবন সঙ্গীতের আরাধনা- আর ভূপেনদা যিনি এই আসাম-বেঙ্গলের গৌরব। তারা এমনটা কেমন করে করেন।

যারা লাইম লাইটের বাসিন্দা; যারা মহাতারকা-তাদের নিয়ে অনেক গল্পই শুনি। সব কি সত্য।

অমিতাভ-রেখার গল্প কতটা সত্য কে জানে। শাহরুখ-প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার প্রেমের গল্প সত্য না বানান স্কান্ডাল কে জানে। কোথায় যেন পড়েছি ছবি মুক্তির প্রাককালে এই গালগল্প বেড়ে যায়। যাতে ছবি কাটতি বেড়ে যাবে এমন ওদের বিশ্বাস। অনেক সময় আত্মজীবনী বেরুবে কারও;কিংবা জীবনী বই _তখনও এমন স্কান্ডাল বন্যা বয়। এটা নাকি পাবলিসিটি স্টান্ট। তা বেশ। মন্দ নয় এই পলিসি।
অবশ্য সামাজিক জীবনে সবই যে মিথ্যা- তাই বা বলি কেমন করে। সত্য কিছুটা থাকবেই।

পত্রিকায় লিখেছে-দৈনিক কালের কন্ঠ বলছে_
_
মৃত্যুর এক বছরও পার হয়নি, তার আগেই এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক তৈরি হয়েছে ভূপেন হাজারিকাকে নিয়ে। আসামের একটি টেলিভিশন চ্যানেলে ভূপেনের স্ত্রী প্রিয়মওয়াদা দাবি করেছেন, লতা মুঙ্গেশকরের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েছিলেন ভূপেন। কানাডার অটোয়া নিবাসী প্রিয়মওয়াদার এমন দাবিতে বলতে গেলে ঝড়ই উঠেছে হাজারিকা ও মুঙ্গেশকর- উভয় পরিবারেই। গত শনিবার সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয়।

প্রিয়ংবদা হাজারিকা

প্রিয়মওয়াদার দাবি, লতার কারণেই ৫০ বছর আগে তিনি স্বামীকে ছেড়ে কানাডা চলে যেতে বাধ্য হন। তিনি আরো বলেছেন, কলকাতা এলেই লতা তাঁদের ফ্ল্যাটে উঠতেন এবং রাতভর লতা ও ভূপেন একই বেডরুমে থাকতেন।

কল্পনা লাজমী

প্রিয়মওয়াদা বলেন, ‘ভূপেন একদিন বলল, দেখ, ভারতে সংগীত পরিচালক হিসেবে নাম পেতে হলে লতাকে দিয়ে গান করাতেই হবে। যখন জানতে চাইলাম সারা রাত এক সঙ্গে থাকার দরকার কী? এর উত্তরে সে বলেছিল, কখনো কখনো এসব করতে হয়।’ এদিকে লতা মুঙ্গেশকর তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘আমি স্তম্ভিত। ওই মহিলার সঙ্গে জীবনে মাত্র একবারই দেখা হয়েছে। তাঁর এই উদ্ভট দাবির কারণ বোধগম্য নয়। আমি অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেব।’

অন্যদিকে বিগত ৪০ বছর ভূপেন হাজারিকার সঙ্গে এক ছাদের নিচে বসবাসকারী কল্পনা লাজমিও প্রিয়মওয়াদার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন। তবে লতা বা কল্পনা যা-ই বলুন না কেন, ভূপেন কিন্তু ‘মুম্বাইয়ে বসবাসরত’ একজন সংগীত তারকার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা স্বীকারই করে গেছেন আত্মজীবনীতে।

মহান দুই শিল্পী

পত্রিকার গল্প তো পড়লাম। সবই অবিশ্বাস করে ফেলতে পারতাম। সমস্যা শেষাংশে। ভূপেন হাজারিকা তার আত্ম জীবনীতে কার কথা বলেছেন। তিনি পরিষ্কার করে কিছু বলেন নি। কেবল ইঙ্গিতের ওপর ভর করে এত বড় স্কান্ডাল বিশ্বাস করতে পারি কি?

মনোচিকিৎসক হিসেবে দেশের মিডিয়ার ২/১টা বিচিত্র কেস হ্যান্ডল করতে হয়েছে। ওরা স্বামী স্ত্রী সমস্যা নিয়ে এসেছিলেন। তাদের নাম বলাটা অন্যায়। এটা চিকিৎসা গোপনীয়তার অংশ। তাই নাম থাক। একটা ঘটনা বলি। ভদ্রমহিলা গান বা অভিনয় জগতের বড় তারকা। হাজার হাজার ভক্ত। দেশবিদেশে অনেক নেচে বা গেয়ে বেড়িয়েছেন। তার স্বামী গোবেচারা ধরনের। তাতে কি। তার অনেক গোস্বা। তার মনে কঠিন সংশয় সন্দেহ বাসা বেধেছে। তার ধারনা- তার তারকা স্ত্রীর চরিত্র ভাল নয়। এত যে তার নাম ডাক। নিশ্চই সে নানা অন্যায় পরকীয়া গোপনে রক্ষা করে চলেছে।েবেচারাকে নিয়ে বউটি পড়েছে মহাসমস্যায়। সে একবার নিজে আমার চেম্বারে এসে আলাপ করে গিয়েছেন। পরে স্বামীবাবুকে নিয়ে এলেন। দুজনের সঙ্গে কথা হল। বিরাট সমস্যা। স্ত্রী বলছে- তার কোনরকম অন্যায় সম্পর্ক নেই। তিনি হার্ড পেশাদার। বেশ একটু নাম ডাক হয়েছে। তাই লোকজন ডাকছে। নামডাক ফুরোলে কেউ পুছবে না। পাত্তা দেবে না। সেখানে স্বমীর এই উটকো অভিযোগ। নায়ক নায়িকাদের নিয়ে অনেক কথাই শোনা যায়। সেখানে প্রফেশনাল হ্যাজার্ড তো আছেই। থাকবেই। কিন্তু পেশাদারদের স্কান্ডাল নিয়ে পড়ে থাকার সুযোগ কম। পয়সা যদ্দিন নেচে গেয়ে কামানো যায় তদ্দিন কেউই অনৈতিক সম্পর্কে যাবে কেন!সে সুযোগ কই!তবে দিন যখন ফুরিয়ে যায়;যখন বাজারে দাম নেই। কিংবা ধরা যাক বাজারে দামই হয় নি। কেউ তেমন পাত্তাই দেয় না। তারা হয়তো কিছু খারাপ পথে গিয়ে মিডিয়ার নাম ভাঙিয়ে কিছু করলেও করতে পারে। ভদ্রমহিলা সব একরকম খুলেই বললেন। তার কথা যুক্তি সঙ্গতই মনে হল। অন্যদিকে স্বামী বেচারা কি করেন। তিনি তেমন আহামরি কিছু করেন না। বড়লোকের নন্দন ছিলেন। বাবার খেয়ে খেয়ে মোটা তাজা হয়েছেন। কি একটার ব্যান্ডে ঢোল তবলা বাজাতো। এখন সার্বক্ষনিক কাজ হল বউকে সন্দেহ করে বেড়ানো। জানা গেল তার বন্ধুরা, বোন বোনের জামাই তাকে একাজে বেশ উৎসাহ যুগিয়ে বেড়াচ্ছে।

যাক, কি কাউন্সেলিং বা ওষুধপত্র দিয়েছি-সে মেডিকেশন থাক। তবে যেটা বুঝলাম অতি খ্যাতিমান তারকাদের অখ্যাত বউ বর হলে হুজ্জোতি খানিকটা হয় ই। সন্দেহ বাতিক পেয়ে বসে। এটা রোগ। মানসিক রোগ। স্বামী বেচারা বেকার বা অলস কর্মহীন হলে কথাই নেই। সন্দেহ করাকে সে কাজ হিসেেব নিয়েছে। বিরাট কাজ। পূন্যের কাজ। বউকে সন্দেহ! স্বামীর জন্য এরচেয়ে মহান কর্ম আর কি হতে পারে।

কিংবদন্তি কিন্নর কন্ঠি

ভূপেন হাজারিকা ও লতাজীর ক্ষেত্রে রহস্যটা কি তা লতাজীই ভাল বলতে পারবেন। অবশ্য তিনি বিস্ময়ে প্রত্যাখান করেছেন। তবে প্রিয়ংবদা যা বলছেন তাকি নিতান্তই সন্দেহ! সেই বাতিকই তাকে আলাদা করেছে স্বামী থেকে? হতে পারে; আবার নাও হতে পারে। তবে এটা সত্য যে আমরা অনেকেই এমন অকারণ বাতিকে ভুগছি। একজন মনোচিকিৎসক আপনাকে আমাকে বুঝিয়ে ওষুধপত্তর দিয়ে আমাদের সাময়িক বা দীর্ঘমেয়াদী সুস্থ রাখতে পারেন। কিন্তু সুস্থ থাকার সবচেয়ে ভাল পথ বা পথ্য হল নিজেকে সন্দেহকাতরতা মুক্ত রাখা। এই রোগটা আপনি একবার অর্জন করে ফেললে ডাক্তারবাড়ির পথটা আপনাকে অনেকদিন মনে রাখতে হবে।