ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

কাউকে ভালবাসা ;কাউকে পছন্দ করা কিংবা নারী-পুরুষে পরষ্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ;একে অপরের প্রতি বিশ্বস্ততা এ সবই কি তবে রাসায়নিক ব্যাপার। এ সবই কি তবে কেমিক্যাল ফ্যাক্টর। বিজ্ঞান এগুচ্ছে। জ্ঞান জগত প্রসারিত হচ্ছে। নিত্য নতুন অনেক কিছু আমরা জানছি। জেনে অবাক হচ্ছি। শিহরিত হচ্ছি।

হৃদয়ের দহন: সেও রাসায়নিক কান্ড- কি যন্ত্রনা

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ছাত্রী হিসেবে কম বেশী জানি যে আমাদের অভিব্যক্তি হাসি কান্না রাগ এ সবই শরীর রসায়নের কায়কারবার;তারপরও হাজারো মানুষের মনোজগত; সুখদুঃখ:খ নিয়ে আবেগ অনুভুতি নিয়ে প্রাকটিক্যাল কাজ করতে গিয়ে যখন মানুষের মানসিক বিড়ম্বনা উপশমে হিমশিম খাই তখন অবাক হয়ে না ভেবে পারি না-বিজ্ঞান তো সত্যই ;বিজ্ঞানের প্রতিটি আবিষ্কার যুক্তির শৃঙ্খলার বাইরের নয়;তারপরও রাসায়নিক নানা কায়কারবার নিয়ে মানব জাতি অনন্য। মানুষ অনন্য। বিজ্ঞান খুবই নিরস নিরাসক্ত ভঙ্গিতে কারণ খুজে বেড়াচ্ছে সবকিছুর। কি ভালবাসার;কি সুখ দু:খ নানা আবেগের। এই কারণ খোজা শেষ পর্যন্ত আমাদের নিছকই রোবট বানিয়ে ফেলবে না তো! নাকি বিজ্ঞান সব শেষে বলবে আমরা মানুষেরা এক ধরনের উন্নত রোবট ছাড়া কিছু নই। আমাদের তৈরি করা হয়েছে অলৌকিক কোন গবেষনাগারে!

আবেগের কত রকম ফের

ভালোবাসায় মজে গিয়ে মানুষ যে পাগলামি করে তার কারন খুজে বের করেছে বিজ্ঞান। ডেইলি মেইল এ নিয়ে প্রকাশ করেছে এক রিপোর্ট। তাতে বরা হচ্ছে-
পছন্দের কাউকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে গলা শুকিয়ে আসে, হার্টবিট বেড়ে যায়, অন্য সব কিছু মাথা থেকে হারিয়ে যায়। ভাবছেন, এটা ভালোবাসার জাদু। বিজ্ঞানীরা বলছেন, আসলে পুরোটাই রাসায়নিক ব্যাপার। রাসায়নিক পদার্থ ও হরমোনের উত্থান-পতনের কারণেই মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম বিগড়ে যায়। যার কারণে ওই সময় মানুষ তার স্বাভাবিক যুক্তিবোধ হারিয়ে ফেলে। হয়ে ওঠে পাগলপারা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, শুধু ভালোবাসাই নয়, ভয় পেলেও ঠিক একই ধরনের রাসায়নিক কার্যক্রমে অস্থির হয়ে ওঠে মানুষ।

লন্ডনের স্নায়বিক নন্দনতত্ত্ববিষয়ক গবেষক সমির জ্যাকি বলেছেন, মানুষ যখন তার পছন্দের কাউকে দেখে তখনই অতিরিক্ত উত্তেজনায় তার মস্তিষ্কের অনেক অংশ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। বাকি অংশগুলো তাকে আবেগতাড়িত হতে সাহায্য করে।দৈনিক কালের কন্ঠ এ নিয়ে চমৎকার প্রতিবেদন ছেপেছে সম্প্রতি। জানতে পারলাম আরো অনেক কিছু।

গবেষণাগারে পরীক্ষা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, ভালোবাসার মানুষকে দেখলে, কথা শুনলে কিংবা তাদের কাছে পেলে মস্তিষ্কে ডোপামিনের নিঃসরণ বেড়ে যায়। এ রাসায়নিক পদার্থ মানুষের মস্তিষ্কে অতিরিক্ত আবেগের অনুভূতি সঞ্চালন করে। এর ফলে মানুষ বেশি চিন্তিত হয়ে পড়ে। এ সময় মস্তিষ্কের অগ্রভাগের কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায় এবং মানুষ তার যুক্তিবোধ হারিয়ে ফেলে। কমে যায় সিরোটোনিনের নিঃসরণ, যে জন্য এ নির্দিষ্ট সময়ে মানুষ তার স্বাভাবিক আচরণ আর ক্ষুধাবোধ বিসর্জন দেয়। যে কারণে ভালোবাসায় অস্বাভাবিক আচরণের পরিমাণ বাড়ে। বিজ্ঞানীরা আরো দেখেছেন, মাদক গ্রহণেও মানুষের মস্তিষ্ক এ ধরনের আচরণ করে।

চিত্তে অন্ধকার;হাতের তালুতে ভালবাসা

গবেষণা সূত্রে জানা গেছে, মানুষ যখন সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য কোনো সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে, মস্তিষ্কের অন্য অংশগুলোর সঙ্গে হরমোনগুলোর সংমিশ্রণের কারণে সে তখন বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ক্যারিয়ার, সংসার, আইন এমনকি সমাজকে তুচ্ছ করেও সে সম্পর্কে ঝুঁকে পড়ে। বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন, মানুষের ভালো লাগা কিংবা পছন্দের মুহূর্তগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে যে হরমোনগুলো সেগুলোই ভয় কিংবা আতঙ্কের সময়ও একই আচরণ করে। যে কারণে তীব্র ভয়েও মানুষ একই রকম আচরণ করে। এ সময়ও তার হাত-পায়ের তালু ঘেমে ওঠে, গলা শুকিয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা অবশ্য জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা সবার ক্ষেত্রে একই রকম ঘটে না। কেউ কেউ এমন সময়ও তার দায়িত্ব অত্যন্ত সুচারুরূপে পালন করতে পারে, এমনকি জটিল ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের বিষয়েও তার মস্তিষ্ক কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।

দেখুন কারবার। ভাবুন দেখি অবস্থা!মানুষের ভাললাগা,পছন্দের নানা অভিব্যক্তি; ভয় পাওয়া এসব কিছুকেই এখন বিচার করতে হবে রসায়নের নিরিখে। রসায়নের এই রাসায়নিক কান্ডকারখনায় মানুষের নিজের নিয়ন্ত্রন ;নিয়ন্ত্রনের স্বাধীনতা কতটুকু!রসায়নের এই আগ্রাসনকে মন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে তো!আমরা যে হাসছি তা যদি রাসায়নিক বিক্রিয়াই হয়ে থাকে ;তবে মন কি পারছে কম্যান্ড করতে – ওহে মুখ এবার একটু হাসো। কিংবা ওহে দুর্মুখ, অনেক হয়েছে আর হাসিস না। রসায়নের রাজাগিরি কখন শুরু মনের কম্যান্ডের আগে না পরে।

ধর্মভাবের ভালবাসার এই যে অনন্য অভিব্যাক্তি;সেও কি রাসায়নিক

এসব নিয়ে নানা গবেষনা চলবেই। এসব গবেষনার সত্যাসত্য যথার্থতা নিয়েও চলবে গবেষনা। জ্ঞান বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা চলবেই। প্রতিটি রহস্যের কারণ খুজে বের করবে মানুষের নিত্য-অনুসন্ধিৎসু জিজ্ঞাসা। তারপরও যেন মানুষের কোমল কমল গুনগুলো গবেষনার রসায়নে হারিয়ে না যায়। চাদ বৈজ্ঞানিকভাবে এবড়ো খেবড়ো উষর হলেও পৃথিবীতে যেন জোসনা ও পূর্নিমার অবাক মাধুর্য হারিয়ে না যায়।

মন্তব্য ২ পঠিত