ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

মন্ত্রী যদি একটু ঘুমান;তাতে সমস্যা কি? মন্ত্রী বলে তার ঘুম বলে কি কিছু থাকবে না। মন্ত্রীর চোখে কি ঘুম হয় না। কয়েকদিন ধরে উদ্বেগের সাথে দেখছি মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়রা ঘুমোলেই খুব বকা দিচ্ছে মিডিয়া। তাদের ঘুমর ছবি পত্রিকায় বড় করে ছেপেও দিচ্ছে। সেসব ছবি আবার চলে যাচ্ছে ফেসবুকসহ সামাজিক মিডিয়াতে। সেখানে কত রঙ্গ ব্যঙ্গ। বলা হচ্ছে মন্ত্রী সাহেব যদি ঘুমান তবে পাবলিকের জন্য কাজ করবে কে!সম্প্রতি ঢাকার দুজন মাননীয় মন্ত্রী সম্ভবত প্রধানমন্ত্রীর ফায়ার সার্ভিসের অনুষ্ঠানে এক লহমা ঘুমিয়েছিলেন। তা ছবি তুলে ফেলল পত্রিকার লোকজন। তা ছাপাও হল। নানারকম কমেন্ট করা হচ্ছে এ নিয়ে নেট-মিডিয়ায়। শুধু আমাদের মন্ত্রী কেন;ঘুমোচ্ছেন লন্ডন আমেরিকার মন্ত্রীরাও। দেখুন সেই ছবি যাকে নিয়ে সারা দুনিয়ায় এত আলোচনা,সেই মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী-ওরা অবশ্য সচিবও বলে- সেই হিলারীও ঘুমাচ্ছেন।

ক্লান্ত হিলারীর না ঘুমিয়ে উপায় ছিল না!!

মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন বিশ্ববিদ্যালয়ে দেড় হাজার শ্রোতার সামনে ভাষণ দিচ্ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সামনে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। তবে তিনি ওবামার ভাষণ শুনছিলেন না, ঘুমাচ্ছিলেন!

গত সোমবার প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে মিয়ানমার সফর করেন ওবামা। সফরকালে ইয়াঙ্গুন বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি মিয়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। এসময় গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির পাশে বসে থাকলেও ঘুম আটকাতে পারেননি হিলারি। আর সেটাই ধরা পড়ে সিএনএনের ক্যামেরায়। ভিডিওতে দেখা যায়, ক্লান্ত হিলারি ওবামার ভাষণের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। তিনি চোখ খুলে রাখার জন্য ‘যুদ্ধ’ করছিলেন। ভিন্ন টাইমজোনে দীর্ঘসময় বিমানভ্রমণের ক্লান্তির (জেট-লাগ) কারণেই হিলারি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বলে জানায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে যেসব পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সবচেয়ে বেশি বিদেশ সফর করেছেন,তাদের মধ্যে হিলারি ক্লিনটন অন্যতম।

উপরের রিপোর্টটি বিদেশী মিডিয়ার । দেখুন বেশ দরদ দিয়ে এটি তৈরী করা। মন্ত্রীরা যদি একটু ঘুমান আমি তাতে কোন আপত্তির দেখিনা। কেবল মন্ত্রী কেন ঘুমকে অগ্রাহ্য করার সাধ্যি কারো নেই। সাধারণ মানুষের যেমন ঘুম পায়;মন্ত্রীরও পাওয়া স্বাভাবিক।

মাননীয় মন্ত্রী বা আমজনতা :ঘুমকে অবহেলা কারও ঠিক নয়

রাষ্ট্রীয় বা বহুজাতিক কোন অনুষ্ঠানে ঘুমানো হয়তো শোভন নয়; কিন্তু তারচেয়েও বড় কথা ঘুমের যে শারীরীক চাহিদা তাকে অগ্রাহ্য করা একদমই ঠিক নয়। দিনে ৬/৭ ঘন্টার বেশী ঘুম যদিও খুব দরকারী নয়; কিন্তু কম ঘুম শরীরের জন্য ক্ষতিকর। দরকারী ঘুমটা অবশ্যই ঘুমিয়ে নিতে হবে । পরিশ্রম টেনশন ইত্যাদি কারণে শরীর যদি ক্লান্ত হয় তবে ঘুম আরও দরকারী। না ঘুমিয়ে তখন শরীরটাকে আরও কাহিল করে তুলবেন না। হিলারী ক্লিনটনের ঘুম নিয়ে রিপোর্টটা বেশ বস্তুনিষ্ঠ। রিপোর্টার শুধু ঘুমের অশোভন দিকটা নিয়েই মাতামাতি করেন নি। তিনি কেন খুব ক্লান্ত ছিলেন সেটাও বলেছেন। যে যাই বলুক আমি একজন চিকিৎসক হিসেবে বলব তিনি ঘুমিয়ে নিয়ে ঠিক কাজটি করেছেন। দরকারী ঘুমটা না ঘুমালে তিনি কাজের জোরটা পাবেন কোথায়। মন্ত্রীরা যারা সারাদিন নানা কাজে ব্যস্ত থাকেন; একই ভাবে যারা নানা পরিশ্রমের কাজে নিয়োজিত তাদের সবার জন্য পরামর্শ -লোকে যাই বলুক কাহিল শরীরকে না ঘুমোতে দিয়ে আরও কাহিল করবেন না; কষ্ট দেবেন না লোকে যাই বলুক ঘুমিয়ে নেবেন।

ঘুম নিয়ে কার্টুন ঠাট্টা যাই হোক ;তবুও ঘুমাবেন

সবার সামনে সবার মধ্যে ঘুমাতে যদি অস্বস্তি বোধ করেন তবে সময় বের করে ঘুমাবেন। এ ক্ষেত্রে গাফিলতি করবেন না। চেষ্টা করবেন ঘুমটা যেন টানা হয় যতটা সম্ভব গাঢ় হয়; যতটা সম্ভব ডিসটার্বমুক্ত হয়। অর্থাৎ আপনি যখন ঘুমাচ্ছেন তখন মোবাইল ফোনটা বন্ধ করে নিন। আলোটা নিবিয়ে নিন। দরজাটা ভিজিয়ে নিন। ৫-৭ ঘন্টা যে ঘুমাতে যাচ্ছেন এ সময়টাতে যেন আপনাকে কেউ তেমন বিরক্ত না করে। খুব দরকার ছাড়া ঘুম থেকে না তোলে। এটা শরীরের জন্য খুবই দরকার। বলা হয় গাঢ় ঘুম ৪ঘন্টা হলে ই চলে। তা টনিকের মত কাজ দেয়। শরীরকে চাঙা করে। অনেকের ধারনা মঙ্গোলয়েডরা মানে জাপানি কোরিয়ান চাইনিজ সিঙ্গাপুরীরা ঘুমায় কম। আসলে কিন্তু তা নয়। বরং ব্যাক্তিগত কোরিয়ায় দেখেছি

ওরা ঘুমায় আরো সিস্টেমেটিক উপায়ে। ওরা ঘুমের চাহিদাকে কোন অবস্থাতেই অবহেলা করে না।

ওরা হিসেবী জাতি। সব কাজ করে অনেকটা যন্ত্রের মত।

ওরা যখন কাজে যায়-পথটা হয়তো ২-৩ ঘন্টার -এই সময়টা ওরা এটা ওটা খেয়ে ঝালমুড়ি বাদাম খেয়ে নষ্ট করে না। সে সুযোগও অবশ্য ওসব দেশে নেই। ওরা এই সময়টা দিব্যি ঘাড় কাত করে বিশেষ ভঙ্গিতে কোনরকম নট নড়ন চড়ন ঘুমিয়ে নেয়। একদম গাঢ় ঘুম। ঐ একঘুমই ওদের জন্য ৬-৭ ঘন্টার ঘুমের চাহিদা পূরন করে দেয়। তাই বলে ওরা যে ৫-৬ ঘন্টা কখনও ঘুমায় না। তা কিন্তু নয়। ওরা যেটুকু দরকার সেটা অবশ্যই পূরণ করে নেয়। আমাদের নিজের দেশের শ্রমজীবীদের দিকে তাকালেও দেখব তারাও গাঢ় ঘুমান। রেল স্টেশনে এমনকি রাস্তায় অনেককে দেখি গাঢ় ঘুমটা দিব্যি ঘুমিয়ে নিচ্ছে। বরং যারা আলীশান বাড়িতে থাকেন নানা টেনশনে ঘুমকে অবেহেলা করেন; পরে ছোটেন ডাক্তারের চেম্বারে।

ঘুম গাঢ় হলে সবচেয়ে ভাল

শেষ কথা হল ঘুমকে অবহেলা করবেন না। মন্ত্রী মহোদয় হন আর আম নাগরিক হন দরকারি ঘুমটা হচ্ছে কিনা সেটা খেয়াল রাখবেন। এবং পাছে লোকে কি বলল সেটা পরোয়া করবেন না। তবে বেশী ঘুম কিন্তু আবার ভাল নয়। সেটা হল আলস্য। আলস্য কিন্তু কোন অবস্থাতেই ভাল নয়।@@