ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

সিগারেট ছাড়ুন। ধুমপান করবেন না। একজন চিকিৎসা সেবক হিসেবে এটা ধুমপায়ীদের প্রতি অনুরোধ নয়। এটা এই নগন্য চিকিৎসকের নির্দেশ। ধুমপান করলে ক্যান্সার হবে-এটা আমি বলব না। আমি বলব সিগারেট খেলে আপনি শত রোগে ভুগবেন।আপনার শত রোগ হবে। শুধু আপনার নয়, আপনার সন্তান মরনাপন্ন হবে। তার ভবিষ্যত নষ্ট হবে। নিজেকে বাচান। তারচেয়েও বড় কথা আপনার স্বপ্ন সন্তানকে বাঁচান। তাকে বাঁচতে দিন। বেশীর ভাগ অফিসে এখন আর ধুমপানের সুযোগ নেই।

সিগারেটের ধোয়ার বিষ ও দুর্গন্ধে বন্দি আপনার সন্তানটি এভাবেই যন্ত্রনায় হাসফাস করে ; আপনি জানেন কি!

যদি কোথাও থেকে থাকে তা খুবই অসম্মানের জায়গায়। এখন ধুমপান করতে হয় বাথরুমের বা ইউরিনালের কাছে দাড়িয়ে। সবাই এখন ধুমপায়ীদের অসম্মান করে তাড়িয়ে দিচ্ছে। জায়গা দিচ্ছে না। তখন ধুমপায়ী কি করছেন। অনেকেই শুনেছি বাড়িতে ধুমপান করেন। ভাবেন বাড়ি তো স্বাধীন জায়গা। এখানে কে বাধা দেবে। বউ কিছু বললে তাকে বকা দিচ্ছেন। এটা করে কত বড় ক্ষতি করছেন তা আপনি ধারনাও করতে পারছেন না। পুরো বাসাটাকে আপনার সন্তানের জন্য মৃত্যুপুরী বানিয়ে ফেলছেন। বাসা হয়ে পড়ছে গ্যাস চেম্বার। আপনার সন্তান তার বয়স যদি কম হয় সে সুস্থভাবে নি:শ্বাস নিতে পারছেননা। সে বিষ পান করে করে বড় হচ্ছে। যদি কিশোর হয় তবে সে বাপের সবচেয়ে বদ-গুনটি পাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।আপনি আপনার সন্তানকে গলা টিপে শ্বাসরোধ করে মারতে চলেছেন্। আপনার সন্তানের মুখে সিগারেট-বিষ-ধোয়ার মাস্ক পরিয়ে তাকে আপনি খুন করছেন। অথচ এই নষ্ট নেশার মৌতাতে সেটি আপনি টেরই পাচ্ছেন না। হায় রে আপনি সেই দুর্ভাগা পিতা -যে নিজের সন্তানকে খুন করছে -যা সে টেরও পাচ্ছে না। ধুমপায়ী এই পিতাকে আমি জিগ্গেস করতে চাই আপনি সন্তানকে জেনে শুনে খুন করছেন তো। নাকি না জেনে শুনে। যদি না জেনে শুনে হয়ে থাকে তবে এখনই ধুমপান ছেড়ে দিন প্লিজ। আপনার সন্তানকে বাঁচান। নিজেকে বাঁচান।

সিগারেটের বিষ-নিশানা যে আপনি স্বয়ং...

ধুমপান এখন আর স্টাইল নয়। এটা ফ্যাশনও নয়। কখনও ছিল না। এটা ব্যক্তিত্বের পরিচয় নয়। কখনও ছিল না। এটা নায়কোচিত ব্যাপার নয়। কখনও ছিল না। এটা নষ্ট নেশা। এটা মরণ নেশা। এটা সকল নেশার মাতৃস্বরুপ। মাদকচক্র অতি সুকৌশলে এই মারণ নেশাকে সবার মধ্যে জনপ্রিয় করেছে। সেই জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে এটাকে পারসোনালিটির পরিচয়; এটা ফ্যাশনেবল স্মার্টনেস ;এটা নায়কোচিত ব্যাপার_এসব প্রচার চালিয়েছে। সবকিছুই তারা করেছে স্লো পয়জন করে মানুষ মেরে মুনাফা করার জন্য। সারা দুনিয়ায় আর কোন মরন নেশা নেই যেটার বেচা-বিক্রি প্রকাশ্যে স্বীকৃত। অথচ সকল মারণ নেশার উৎস ধুমপান_সিগারেট বেচাকেনা প্রকাশ্যে বেআইনী নয়।

সিগারেট ব্যাবসায়ীরা আমাদের হত্যা করে কামিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা ও ডলার

সম্প্রতি আমার কাছে রোগী হিসেবে এক মাল্টিন্যাশনাল সিগারেট কোম্পানির কর্তা এসেছিলেন। কৌতূহল বশে তার কাছে জানতে চাইলাম্ বিষ বেচে যে হাজার হাজার কোটি টাকা কামাচ্ছেন_ আপনাদের অফিসে ধুমপায়ীদের সংখ্যা কেমন। তিনি আমাকে অবাক করে জানালেন-খুবই কম। মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে ধুমপায়ীদের সংখ্যা জিরো হতে চলেছে। তিনি হেসেই বললেন- ধূমপান এখন আর বড়লোকের বদ অভ্যাস নয়। এখন সিগারেট খায় মুটে মজুর। সিগারেট খায় কুলি মজুর রাস্তার লোকজন। আর সিগারেট খায় কিশোর তরুনরা। ওরাই এখন এসব বিষ ব্যাবসায়ীর প্রধান টার্গেট। লোকটার বলার ধরণ আর ধৃষ্টতা আমাকে খুবই ব্যাথিত করে। আমি তাকে প্রতিবাদ না করে পারি নি_এভাবে জেনে শুনে বিষপানের ব্যাবসায় খুবই অনৈতিক। এটা ঠান্ডা মাথায় শ্রমজীবী ও নতুন প্রজন্মকে হত্যার শামিল। তার ধৃষ্টতা দেখুন তারা নিজেরা ধুমপান করে না। সেজন্য বেশ অহম বোধও করে।তার ভাষায়- মাল্টিন্যাশনাল কর্তারা এসব ছোটলোকি নেশা করে না। তারা অর্থ ব্যায় করে দুনিয়ার নানা দেশ ঘুরে দেখার কাজে। তারা সুইজারলান্ড যায়। এখন নয়া লাইফ স্টাইল ; নয়া নেশার নাম দেশ ঘুরে দেখা। এই নেশা মরণ ডেকে আনে না।

সিগারেটের ধোয়ায় রিং তৈরি হচ্ছেনা; সৃষ্টি হচ্ছে নিজেরই কঙ্কাল ও মারণ মুখ

ধূমপান নিয়ে মার্কিন নারীদের ভুল ভাবনা নিয়ে ইন্টারনেটে একটা লেখার পড়লাম। সেটা দিয়ে আজকের লেখা শেষ করতে চাই। মার্কিনিদের গবেষনা বলছে_

ধূমপান নিয়ে নারীরা, বিশেষ করে পশ্চিমা মেয়েদের মধ্যে এক ধরনের ভুল ভাবনা রয়েছে। তারা মনে করেন, ধূমপান ছেড়ে দিলে তারা মোটা হয়ে যাবেন, অর্থাৎ ওজন বেড়ে যাবে।

এ ধারণার ভিত্তি হলো, নিকোটিন তাদের ক্ষুধা চাপিয়ে রাখে। ফলে তারা কম খান এবং ওজন তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে। তারা আরো মনে করেন, ধূমপান করা ছেড়ে দিলেই তাদের ক্ষুধা বাড়বে। ফলে তারা মোটা হতে থাকবেন। তাদের সৌন্দর্য কমে যাবে।

ধুমপান এখন আর ফ্যশন নয়, স্মার্টনেসও নয় কখনও ছিল না

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঘটনাটি আদৌ সঠিক নয়। বরং যারা ধূমপান ত্যাগ করার পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য সঠিক মাত্রায় ব্যায়াম করেন তারা ধূমপায়ী নারীদের চেয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেক বেশি ভালো আছেন। তাদের সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করার ক্ষমতাও অনেক বেশি। আত্মিক শুদ্ধতাও তাদের মধ্যে বেশি থাকে।

তারা ভিন্ন ভিন্ন ১০টি গবেষণার মাধ্যমে এই তথ্য জানতে পেরেছেন। গবেষণার কাজ শুরু হয়েছিল ১৯৯১ সালে আর শেষ হয়েছে ২০১১ সালে।

গবেষণায় আরো জানানো হয়, শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই প্রতি বছর ধূমপানজনিত কারণে এক লাখ ৭৮ হাজার মহিলা মারা যান।
দেখুন লন্ডন আমেরিকার অবস্থা। ওরাই আমাদের ধুমপানের আধুনিকতা শিখিয়ে কোটি কোটি ডলার কামিয়ে নিচ্ছে। আবার নিজ দেশে নারী পুরুষ শিশুকিশোর রা যাতে ধুমপান করে না মরে সেজন্য নানা গবেষনা নানা আঙ্গিকে করে দেশবাসীকে সচেতন করে তুলছে।

ধুমপান-এর টাকা বাচিয়ে ঘুরে আসুন দেশেই সুন্দর কোন জায়গায়...

আমরা গরীব দেশ। আমাদের অত সাধ্য নেই। তবেএটুকু ধারনা করতে কারো কষ্ট হওয়ার কথা নয়- ধূমপায়ীদের অবশ্যই ধূমপান ছাড়তে হবে। নিজের বাঁচার জন্য এটা করতে হবে। পরিবার ও সন্তানকে বাঁচানোর জন্য এটা ছাড়তে হবে। কেউ আপনাকে , আপনার সন্তানকে হত্যা করে আপনার পরিবারকে ধংস করে লাখ লাখ ডলার কামিয়ে ভ্রমণের নেশা উদযাপন করবে আর আপনাকে বলবে আপনি ছোটলোক – তাই ছোটলোকের নেশা করেন _ আপনি তা বিনা প্রতিবাদে মেনে নেবেন। তাই বলছি এই জঘন্য ব্যবসার প্রতিবাদ হিসেবে আজই সিগারেট ছেড়ে দিন। সুইজারল্যান্ড যাওয়ার সাধ্য সকলের নেই। আপনিও নতুন নেশা গ্রহন করুন। নেশার টাকায় আপনিও স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে কাছে পিঠে সাগর বা পাহাড়ে বেড়াতে চলুন।বেড়াতে যেতে পারেন আপনার বাড়িতেও। একবছর সিগারেট না কিনলে আপনার একাউন্টে বাড়ি ভ্রমণ ; কক্সবাজার বা রাঙামাটি এমন কি থাই ল্যান্ড যাওয়ার টাকা জমা হবে সেটা নিশ্চিন্তে বলা যায়। বেড়াতে না যান এ টাকা দিয়ে সংসারের জরুরি একটা কাজ করুন- দেখুন আপনার সন্তান স্ত্রী পরিবারের লোকজন কত খুশি হয়। আপনার সংসার ও ফ্লাট পয়জন চেম্বার না হয়ে সুখের স্বর্গ হয়ে উঠেছে।