ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

সিনিয়র সিটিজেনদের যতটা পারা যায় সুযোগ সুবিধা দেয়া দরকার। বিশেষ করে তারা যাতে সুস্থ শরীরে বেচে থাকতে পারেন সেদিকে সরকারের চাই সজাগ নজর। পত্রিকান্তরে পড়লাম_দেশের এক কোটিরও বেশি প্রবীণকে ‘জ্যেষ্ঠ নাগরিক’ (সিনিয়র সিটিজেন) হিসেবে ঘোষণা করতে জাতীয় নীতিমালার খসড়া ডিসেম্বরের মধ্যেই চূড়ান্ত হচ্ছে।

সিনিয়র সিটিজেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্র কাজে প্রানবন্ত,সদা সক্রিয়

নীতিমালা তৈরিতে গঠন করা উপ-কমিটি বুধবার ১২ ডিসেম্বর জাতীয় কমিটিকে সুপারিশপত্র জমা দেয়ার কথা। এরপরই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে জাতীয় নীতিমালার খসড়া।

নীতিমালা মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হলে দেশের জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের সিনিয়র সিটিজেন ঘোষণা করা হবে। নীতিমালা অনুযায়ী সারাদেশে জরিপ চালিয়ে খুঁজে বের করা হবে প্রবীণ নাগরিকদের। এরপর সরকার তাদের সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে ঘোষণা দেবে।

সিনিয়র সিটিজেন আমাদের বিরোধী নেত্রীও সক্রিয় প্রানবন্ত

সুপারিশ অনুযায়ী জ্যেষ্ঠ নাগরিক বা সিনিয়র সিটিজেনরা আবাসন, স্বাস্থ্য ও যানবাহন সুবিধা পাবেন। সব জেলায় প্রবীণদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ব্যবস্থা রাখা, ট্রেন-বাস-লঞ্চে অর্ধেক ভাড়াসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে সুপারিশ করা হচ্ছে।

“ডিসেম্বরেই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করে এটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করবে। মন্ত্রিসভা এটির অনুমোদন দিলে জাতীয় নীতিমালা অনুযায়ী প্রবীণদের ‘জ্যেষ্ঠ নাগরিক’ ঘোষণা করবে সরকার।”

সিনিয়র সিটিরাজেনরা যেন ঘরে মর্যাদা পান,পান সুযোগ সুবিধাও

নিঃসন্দেহে এটি একটি ভাল উদ্যোগ। সিনিয়র সিটিজেনরা বোঝা নয় তারা সম্পদ। ভারতের বর্তমান রাষ্ট্রপতি প্রনব মুখার্জি একজন সিনিয়র সিটিজেন। তার বয়স ৭৮ বছর। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহও একজন সিনিয়র সিটিজেন। তারা উভয়েই সেরা দক্ষতা দিয়ে দেশের সেবা করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশে সিনিয়র সিটিজেন হিসেবে বয়স কত ধরা হবে পত্রিকান্তরে পাইনি-তবে ভারতে এই বয়স সীমা ছিল ৬৫ বছর। বর্তমানে ৬০ করা হয়েছে। ভারেতে সিনিয়র সিটিজেনরা রের ভ্রমণ, স্বাস্থ্যসেবাসহ নানা ক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন। অন্যদিকে বৃটেনসহ ইউরোপে সিনিয়র সিটিজেন বয়সসীমা ৬০-৬৫ দেশ বিশেষে। তারা বেশী বেশী সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন। রেলগাড়ি; বাস ভ্রমণ স্বাস্থ্য খাতে তারা পর্যাপ্ত ফ্রি সুযোগ পান। এতে তারা ভ্রমন উৎসাহী হন। তা তাদের শারীরীক সচলতা বাড়িয়ে দেয়। সেখানে সিনিয়র সিটিজেনদের নিরাপত্তার ব্যাপারটিও বিশেষ গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। পোলিশ স্টেশনগুলোতে সিনিয়ররা বিশেষ মর্যাদা পান। তাদের পাশে সব সময় থাকে রাষ্ট্র।

ইউরোপের মত এমন আহামরি সুবিধা না হোক, তারা যেন রাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনায় কষ্ট না পান

আমাদের এখানেও সিনিয়র সিটিজেন বয়স সীমা ৬০ /৬৫ যাই হোক , দেশের প্রেসিডেন্ট, প্রধান মন্ত্রী, বিরোধী নেত্রী,সবাই ই সিনিয়র সিটিজেন। বোঝা যায় এদেশেও সিনিয়র সিটিজেনরা কতটা কর্মক্ষম।
আমাদের এখানে প্রথমে কতটা সম্ভব হবে বলা মুশকিল। এরআগে সরকারের একটি মর্যাদাপূর্ণ কাজ ছিল বিধবা ভাতা। প্রবীণ ভাতা। সেসব নিয়ে নয় ছয় কিছু হয়তো হয়েছে তবু গরীব দেশের অতি দরদী কাজ হল এটি।

এখন সিনিয়র সিটিজেন প্রথা চালু হলে তাও মাইল ফলক কাজ হবে। কে কোটি সিনিয়র সিটিজেনকে ব্যাপক সুযোগ সবিধা দেয়া হয়তো শুরুতে সম্ভব নাও হতে পারে। তারপরও শুরু হোক। আস্তে আস্তে আরো ভাল ব্যবস্থাদি নেয়া যাবে। সরকারের প্রতি সনির্বন্ধ অনুরোধ নানা বিতর্কিত দুর্নীতির চেয়ে পদ্মা সেতু মার্কা জাকজমকের চেয়ে এ ধরনের কোটি মানসুষ কল্যানী উদ্যোগ নেয়া হলে তা সরকারের ভাবমূর্তি বাড়াবে। সিনিয়র সিটিজেনদের মাঝে রাষ্ট্রকে জনপ্রিয় করবে।

সিনিয়র সিটিজেনকে যেন শুতে না হয় ঘরের মেঝেতে

আর শেষ কথা হল সিনিয়র সিটিজেনদের মর্যাদা দেয়ার কাজটি সিরিয়াসলি শুরু হওয়া উচিত ঘর থেকে। ঘরে যেন সিনিয়র সিটিজেনরা অমর্য়াদার শিকার না হন। তারা যেন সংসারের প্রতিটি কাজে গুরুত্ব পান। মনে রাখতে হবে একটি পরিবারের মর্যাদা গৌরব আভিজাত্য বোঝা যায় ওই পরিবারে সিনিয়র সদস্যদের মর্যাদা কতটুকু তার উপর। যে পরিবারে সিনিয়র সদস্য মর্যাদা পান না সে ফ্যামিলি সুখ স্বর্গ নয়।