ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

ঢাকা জিপিওকে ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই উদ্যোগকে অবশ্যই সাধুবাদ জানাতে চাই। ধুমপান হচ্ছে সকল নেশার হাতেখড়ি। এখান থেকেই শুরু হয় নেশার জীবন। এটা নেশারু জীবনের লাইসেন্স। আমি ব্যাক্তিগত চিকিৎসক অভিজ্ঞতায় দেখেছি নেশায় ডুবে থাকা যত রোগীই সুচিকিৎসা ওজীবনের সন্ধানে এসেছেন তারা সবাই সিগারেট আসক্তি দিয়ে নেশার জীবন শুরু করেন। তাদের করুন স্টেটমেন্ট শুনেছি। তারা বলেছেন শুরুতে যদি তাদের অভিভাবক সিগারেট পান নিরোধ করতে পারতেন তবে তারা গাজা হেরোইন চরস নেশায় জড়িয়ে পড়তেন না। এমনকি যারা মদ, ফেনসিডিল আসক্ত তারাও সরল ভাবে দায়ী করেন সিগারেটকে। এই সিগারেটকে যদি রাষ্ট্র শক্ত ভাবে দমন না করে তবে দেশ নেশাসক্তদের তাসের দেশে পরিনত হবে তা বলাই বাহুল্য। একারনে যখনই কোন ধুমপান বিরোধী খবর দেখি তা আমাকে আশান্বিত করে। আগামীতে দেশ আরও বেশী নেশামুক্ত হবে।

আয়েশ নয় তুমি তোমার জীবন নিয়ে খেলছ


বুধবার সন্ধ্যায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, মন্ত্রী বুধবার থেকে ডাক বিভাগ মিলনায়তনে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঢাকা জিপিওকে ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেন।

ধুমপায়ীর শরীরের ভেতরের হাল ডানের ছবি


‘সমীক্ষা রিপোর্ট অনুযায়ী প্রতি বছর ৫৪ লাখ মানুষ শুধু ধূমপানজনিত বিভিন্ন অসুখে মৃত্যুবরণ করছে।’
‘তামাকের নেশায় যে অর্থ একজন দরিদ্র মানুষ ব্যয় করছে সে অর্থ দিয়ে পুরো পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মেটানো সম্ভব।’

ধুমপায়ীর মুখে সিগারেটের নিষ্ঠুর আক্রমন


চিকিৎসক একটিভিস্ট হিসেবে আমাদের পরিষ্কার দাবি হল শুধু জিপিও নয় ধুমপানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিরোধ করতে হবে। যদি তথাকথিত তামাক-করের লোভে সরকার ধুমপান নিরোধে অনাগ্রহী হয় তবে তাদের হিসেব করতে বলব ধুমপানের কারণে যে রোগব্যধি মৃত্যু তার অর্থনৈতিক খতিয়ান কত! ধুমপানের কারণে যে রোগ ব্যাধি তার চিকিৎসার ব্যায়ভার বহনে সরকারের বছরে ক্ষয়ক্ষতি কত! এই আধা কোটি মানুষের মৃত্যু, কোটি কোটি মানুষের রোগভোগা জীবন ;তারচেয়ে তামাক কর অতি নগন্য।

সিগারেটের ফাস

কোটি মানুষের জীবনের দামে রাষ্ট্র এই বিষ-কর ও নষ্ট-আয়ের জন্য লালায়িত হতে পারে না।

লেখক:একটিভিস্ট এবং কো-চেয়ার
আয়ুষ্মান জেরিয়াট্রিক ফাউন্ডেশন ,ঢাকা
দীর্ঘ আয়ুর জন্য মানসিক সেবা