ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

এটি নির্যাতিত এক উপমহাদেশীয় তরুনীর ছবি। বিবেক জাগরণের প্রত্যাশায় প্রতীকীভাবে ছবিটি ব্যাবহার করা হল

অসহ্য। এ বর্বরতা অসহ্য। টাংগাইলের ধর্ষিত মেয়েটির খবর যতই পাচ্ছি শোকে কষ্টে মোহ্যমান হয়ে পড়ছি। বর্ষশেষ রাত পেরিয়ে আমরা নতুন বছরে পদার্পন করছি। ৩১ জানুয়ারি রাতে সারা দুনিয়ায় কত রঙীন উৎসব। বর্নাঢ্য উৎসব হয়েছে ঢাকাতেও। আর এই রাতেই মেয়েটি কাতরাচ্ছে। তাকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে হাতপা বেধে। সারা দুনিয়ায় যখন উৎসব ; তখন মেয়েটির অসহ্য যন্ত্রনা। আর এজন্য দায়ী কিছু নরপশু। আমরা কিছুই করতে পারছি না। ইনটারনেট খবরে পড়লাম_

হাত-পা বেঁধে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে টাঙ্গাইলের সেই মেয়েটিকে

টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় গণধর্ষণের শিকার সেই স্কুলছাত্রীকে (১৫) হাত-পা গামছা দিয়ে বেঁধে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে।

হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার জানিয়েছেন, মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ায় তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। তার আরও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।

ডাক্তার আরও জানিয়েছেন, কিছুক্ষণ পরপর চিৎকার করে ওঠে বলছে, “আমারে বাঁচাও বাঁচাও। ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। এই বলেই সে তার মাকে জড়িয়ে ধরছে।”

এদিকে, সোমবার সকাল থেকেই তার অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় ওয়ান স্টপ সার্ভিসে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

এ ঘটনায় এখনও মামলা না করার কারণ জানতে চাইলে ওই স্কুলছাত্রীর মা বলেন, “আমার বড় ছেলেকে নিয়ে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকের জন্য বিভিন্নস্থানে অভিযান চালাচ্ছে।”

মেয়েটির বড় ভাই জানান, “মামলার সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। কিছুক্ষণের মধ্যে মামলা রেকর্ড করা হবে।”

মেয়েটির মা আরও জানান, আমার মেয়ের যারা এ অবস্থা করেছে তাদের যেন ফাঁসি হয়। তারা যাতে আইনের ফাঁক দিয়ে কোনোভাবেই বের হতে না পারে।
মেয়েটি কেবলি বলছে-
“আমারে বাঁচাও বাঁচাও। ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। এই বলেই সে তার মাকে জড়িয়ে ধরছে।” বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণের উৎসবে এই কান্না কারও কানে কি যাচ্ছে না। নানা কিসিমের ভয়ংকর অপরাধীদের জন্য রাজনৈতিক দল গুলো নানা আন্দোলনে ব্যস্ত। তারা কি একটি ভাল কাজ করতেও জানে না!!তারা কি মেযেটির পাশে দাড়িয়ে অন্তত একটি ভাল কাজের দৃষ্টান্ত রাখুক। সরকারি দল দাড়াক। বিরোধী দল দাড়াক। ভারতে দিল্লি-ধর্ষনের শিকার মেয়েটির লাশ গ্রহনে খোদ প্রধানমন্ত্রী মনমোহন ও সোনিয়া গান্ধী নত মস্তকে গেছেন এয়ারপোর্টে। আর আমরা এখনও চুপ করে আছি!একটা বিবৃতি নেই। একটা দু:খপ্রকাশ নেই। একটা কঠিন পদক্ষেপ নেই। আমাদের রাজনৈতিক নেতারাও কি মেয়েটির কোন কঠিন পরিনতির অপেক্ষা করছে। ছি!কেন এখনও মামলা হল না। ছি! কেন এখনও আসামীদের ধরা হল না! ছি! কেন এখনও মেয়েটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হল না! এই ঘটনা যেকোন হত্যাকান্ডর চেয়েও বিভৎস। ক্ষমতার রাজনীতিই সরকারি দল ও বিরোধী দলের একমাত্র আরাধ্য হতে পারেনা। যে দেশে রাজনীতি সাধারণ মানুষের পাশে নেই সে দেশে কিসের গনতন্ত্র। ছি সেদেশে কিসের জনগনের রাজনীতি!

মফস্বল হাসপাতালের ওয়ার্ডে চিকিৎসার করূণ দৃশ্য: ইনটারনেট

আমার লেখা পূর্ববর্তী পোস্ট

পুরুষ দেখলেই আতঙ্কে চিৎকার স্কুলছাত্রীর
সোমবার ৩১ ডিসেম্বর ২০১২, সকাল ১১:৪৫
ক্যাটাগরী: আইন-শৃংখলা

টাঙগাইলের ওই স্কুল ছাত্রীর পাশে আমাদের সবার দাড়ানো দরকার। দিল্লির শহীদ ভারত তরুনির পাশে যেভাবে আজ ভারতসহ উপমহাদেশের মানুষ প্রতিবাদে সোচ্চার তেমনি এই কিশোরীর পাশে আমাদের দাড়ানো দরকার। ইনটারনেটে পড়লাম তার কাহিনী।

গনমাধ্যম বলছে–
ভারতের নয়াদিল্লিতে গণধর্ষণের শিকার মেডিকেল ছাত্রীর মৃত্যুর পর এবার টাঙ্গাইলে এক স্কুলছাত্রী (১৫) গণধর্ষণের শিকার হয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে সে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে যুঝছে।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই স্কুলছাত্রী কোনো পুরুষ দেখলেই ভয়ে আতকে ওঠে এবং চিৎকার করছে। এমনকি চিকিৎসকদের দেখলেও একই আচরণ করছে সে। তার আচরণে ওই ওয়ার্ডের অন্য রোগীরাও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভয় পাচ্ছে।

অপরদিকে ওই স্কুলছাত্রীর বাবা মেয়ের এ ঘটনা জানতে পেরে স্ত্রী ও মেয়ের বাড়িতে প্রবেশ নিষেধ করে দিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা করা হয়নি কেন জানতে চাইলে ওই স্কুলছাত্রীর ভাই জানান, গত কয়েকদিন ধরে তাকে (স্কুলছাত্রী) নিয়ে হাসপাতালে ব্যস্ত থাকার কারণে মামলা করার সুযোগ হয়নি। যার কারণে দেরি হয়েছে। তবে সোমবার সকালে মধুপুর থানায় মামলা করার জন্য যাবেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা শাখার সমন্নয়কারী জানান, আমাদের একটি তদন্ত টিম হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

তিনি আরও জানান, মেয়েটির বড় ভাইকে মামলা করতে আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা করা হবে।

এ ব্যাপারে মধুপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ধর্ষণের ব্যাপারে কোনো অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। যদি আসে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমি একজন নগন্য মনোরোগ চিকিৎসক। আমার জ্ঞানবুদ্ধিতে বুঝি মেয়েটির মানসিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার জন্য উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। তাকে সার্বিক বাচিয়ে তুলতে সরকারের তরফে উদ্যোগ দরকার। মানবাধিকার কর্মীরা তার পাশে দাড়িয়েছেন-শুনেছি। এজন্য তাদের ধন্যবাদ। কিন্তু এধরণের ভিক্টিমকে তার শারীরীক মানসিক সুস্থতার জন্য দরকার সম্মিলিত চিকিৎসা। তার ভীতি কাটানোর জন্য নিবিড় শুশ্রুষা দরকার। দরকার কাউন্সেলিং। দরকার সাইকোথেরাপি।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ১০ ডিসেম্বর সোমবার সদর উপজেলার রসুলপুর এলাকায় রেল লাইনের ওপর থেকে এক স্কুলছাত্রীকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে এলাকাবাসী। পরে তাকে টাঙ্গাইল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ওই স্কুলছাত্রী সেখানে চিকিৎসাধীন।আশা করছি স্থানীয় হাসপাতালে তার সুচিকিৎসা হচ্ছে। এরপর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যদি ঢাকায় আনা হয় আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল ইউনিভার্সিটির মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা সম্মিলিতভাবে তার চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত আছি।