ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

ফেসবুকে কবর আজাব গোষ্ঠির গজবী তৎপরতা

ফেসবুকে কবরের ভয় দেখায় কারা!!ধর্মকে তো এরা ভয়ভীতির আতঙ্কজনক বিষয় বানিয়ে ফেলছে। এটা খুবই উদ্বেগজনক। কোন কোন কবরপার্টি রীতিমত নকল কবরে সাপ খোপ ছেড়ে দিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। এতে দেখা যাচ্ছে কবরে সাপ কিলবিল করে বেড়াচ্ছে। আর ওই কবরশাস্ত্র বিশেষজ্ঞ ইংরাজি ও বাংলায় কবর সম্পর্কিত নানা বানী বিলিয়ে বেড়াচ্ছে। এব্যাপারে অনেকেই আমার কাছে অভিযোগ করলেন। বিষয়টি খুবই অনৈতিক। মানুষকে ভয় দেখিয়ে কিছু হয় না। কবরের ভয় দেখিয়ে ধর্মপ্রচার সেও চরম হাস্যকর ব্যাপার। এই ভাবে ধর্মপ্রচার হয় নি। বরং উপমহাদেশে ধর্মভাবের বিস্তার ঘটেছে শান্তি ভালবাসা প্রেম সহ নানা ইতিবাচক বানীর মাধ্যমে। আর এখন শুরু হয়েছে শান্তি ভালবাসার পথ ছেড়ে ভয় আতঙ্ক প্রচার করা। কিছুকাল আগে শুনেছিলাম কোন এক অন্ধকার গোষ্টি কবরের আজাবের নানা ভয়ংকর ভিসিডি বানিয়ে শিশূদের দেখাচ্ছে। তাতে সাপ খোপ দেখান হচ্ছে। কবরের ফেরেস্তা কিভাবে শাস্তি দেবেন তা দেখান হচ্ছে হিন্দি কাল্পনিক ছবির স্টাইলে। এসব ভিসিডি হরর ছবিকে হার মানাচ্ছে।িনিম্নমানের মেকিং বিষয়টিকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে। সত্যি এ কেমন ধর্মপ্রচার! এর নেপথ্যে যারা তারা মারাত্মক ধর্মবিরোধী কাজ করছে। কেননা ওই সব ভিসিডি শিশুদের মনকে এমনভাবে আতঙ্কপ্রবন করে তুলছে যাতে শিশুরা পরবর্তীতে মারাত্মক প্যানিক ডিসঅর্ডারে ভুগতে পারে। এমন রোগী মাঝেমধ্যে পাচ্ছি বলেই আজকে এই বিষয় নিয়ে না লিখে পারছি না। ধর্মের নামে অনাচার হচ্ছে। ধর্মকে এরা হরর বানিয়ে ফেলছে। এটা কোনভাবেই কাম্য হতে পারে না। শিশুকে ভয় দেখাবেন না। শিশু একবার আতঙ্ক প্রবন হয়ে পড়লে তার নিরাময় খুবই কঠিন। তাছাড়া কেন ধর্মের নামে বাড়াবাড়ি করে শিশুদের অনাকাঙ্খিত রোগের শিকার করা হচ্ছে।

ইদানিং ফেসবুকেও শুনলাম এমনটা হচ্ছে। আমার এক রোগী জানালেন অদ্ভুত কথা। তিনি নিয়মিত নামাজ রোজা করেন না বলে তার এক অতিধার্মিক শ্যালক তার ফেসবুকে কবরের নানা ছবি ট্যাগ করে দিচ্ছে। পোস্ট দিচ্ছে কবরে গেলে সাপে কামড়াবে। কবরে বাতি থাকবে না। নিশ্বাস নেয়া যাবে না। বেচারা প্রথম দিকে বিষয়টিকে আমলে নেননি। পরে সত্যি আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। জানতে চাইলাম তার ধর্মে মতি গতি হয়েছে কিনা। তিনি জানালেন তাকে ভয়ই পেয়ে বসেছে। ধর্মে মতি হয়নি। বরং কবরে সাপ সত্যিই থাকবে কিনা, তাকে কামড়াবে কিনা ;কবরে তিনি পৃথিবীর মানুষের মত জীবিত থাকবেন কিনা; সাপে কামড়ালে তিনি ব্যাথা পাবেন কিনা;সাপের কামড়ে তিনি আবার মরে যাবেন কিনা ইত্যাদি বিচিত্র বিষয় ভাবতে মানসিক রোগী হয়ে গেছেন। এখন তিনি অনেক টাকা পয়সা খরচ করে নানা জায়গায় চিকিৎসা করিয়ে শেষে মানসিক বিশেষজ্ঞর কাছে এসেছেন। বেচারার বউয়ের ভাই শ্যালক পরমাত্মীয়ই বটে। শ্যালক তাকে ধর্মভাবে আনতে গিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। রোগী বানিয়ে ছেড়েছে। এটা এখন ধারনা করতে পারছি আমাদের অজান্তে চারপাশে অদ্ভুত ভয়ংকর নানা কান্ড কারখানা ঘটছে।