ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

মটরসাইকেলে এভাবে আর বসতে পারবে না নারী!

নারীর সম্মান রাখতে নারীকেই। নারীর সুরক্ষা বজায় রাখতে নারীকেই। নইলে সমাজ রাষ্ট্র ঝাপিয়ে পড়বে নারীর ওপরই। নারীকে নানাভাবে শৃঙ্খলিত করার চেষ্টা হবে। ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের গভর্নরের কান্ডটা দেখুন। মোটরসাইকেলে দু’পাশে পা দিয়ে চড়তে মানা মেয়েদের!

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানায়- ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশের একটি শহরে মোটরসাইকেলের পুরুষ চালকের পিছনে নারী যাত্রীদের দু’পাশে পা দিয়ে বসা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ইসলামি শরিয়া আইনের আলোকে লোকসিউমাউয়ি শহরের মেয়র সুয়াইদি ইয়াহিয়া এ আদেশ জারি করেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

নতুন এ নিয়ম অনুযায়ী, ইসলামি মূল্যবোধ বজায় রাখার জন্য মোটরসাইকেলের নারী যাত্রীদের দুই পা একপাশে রেখে বসতে হবে।

ইন্দোনেশিয়ায় একমাত্র আচেহ প্রদেশেই ইসলামি শরিয়া আইন মেনে চলা হয়।

মেয়র সুয়াইদি বলেন, মানুষের ‘নৈতিকতা ও আচরণগত’ শুদ্ধির জন্য এ আদেশ জারি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “মোটরসাইকেলের দুই পাশে পা দিয়ে বসলে তা পুরুষদের মতো দেখায়। একপাশে পা দিয়ে বসলে তা নারীসুলভ দেখায়।”

একপাশে পা দিয়ে বসা যাত্রীরা সহজে পড়ে যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইতোমধ্যে এ আদেশের কথা প্রচারের জন্য শহরটির অফিস-আদালত ও বাসা-বাড়িগুলোতে লিফলেট বিতরণ শুরু হয়েছে। এক মাসের মধ্যে স্থানীয় সরকার এ আদেশটি পর্যালোচনার পর এটি আইনে পরিণত হতে পারে বলে জানিয়েছেন মেয়র সুয়াইদি।

তবে এরপরেও কোনো নারী এ আদেশ না মানলে তা শাস্তিযোগ্য হবে কি না সে সম্পর্কে তিনি বলেন, আইনে পরিণত হলে সয়ংক্রিয়ভাবেই নিষেধাজ্ঞাটি অনুমোদন পাবে।

তবে ইন্দোনেশিয়ার মুসলিম অধিকারকর্মী ও ইসলাম বিশেষজ্ঞ উলিল আবসার আবদাল্লা এর সমালোচনা করেন।

আবদাল্লা বলেন, শরিয়াহতে কীভাবে মটরসাইকেলে বসতে হবে তা নির্দেশ করা হয়নি। কোরান বা হাদিসেও এ ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। কোনো গণতান্ত্রিক দেশে যদি শরিয়াহ অনুসরণ করে কোনো আইন করা হয় তবে তা অবশ্যই সাধারণ জনগণের মতামত বিবেচনা করে প্রণয়ন করতে হবে।’

দেখুন ধর্ম কি বলছে। আর এই ইন্দোনেশিয়ান তালেবানরা কি বলছে!শরিয়াহতে কীভাবে মটরসাইকেলে বসতে হবে তা নির্দেশ করা হয়নি। কোরান বা হাদিসেও এ ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি।একদম ঠিক কথা। শরীয়াহ হল মুসলমানের কাছে প্রিয় আবেগ। তাতে কোন আদেশ নেই। অথচ তালেবানরা সেটা মনগড়া সেটা বানিয়ে নিচ্ছে। তারা ধর্মের নামে শরীয়াহর নামে বানানো কানুন চাপিয়ে দিচ্ছে নারীর ওপর। দুপাশে পা ছড়িয়ে বসলে নাকি পুরুষের মত লাগে। তাই ওভাবে বসা যাবে না। বসতে হবে নারী স্টাইলে। নারী সুলভ বসার স্টাইল কোনটা সেটা ঠিক করছে তালেবানরা। তারা যেটা বলবে সেটাই হবে ইসলামী আইন। এভাবেই চলছে ।যা শরীয়াহ তে নাই তাই গায়ের জোরে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। নারীর সুরক্ষা নারী নিজে না করতে পারলে এমন প্রবনতা বাড়তেই থাকবে। নানাভাবে নারীর ওপর আক্রমন চলবে।