ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

ভেষজ এনার্জি, হারবাল এনার্জি, টাইগার রয়েল এরকম যেসব এনার্জি ড্রিংকস বিক্রি হচ্ছে সবই বিষ।

এনার্জি ড্রিংকএ এনার্জির বারটা বাজছে। বারটা বাজছে শরীরৈর। যে কারনে যে প্রলোভনে তরুনরা এই বিষাক্ত পানীয়র দিকে ঝুকে পড়ছে তা তো হচ্ছেই না। উল্টা শক্তিনাশ হচ্ছে তাদের। তারা হতোদ্যম হয়ে পড়ছে। বিষয়টা নিয়ে পত্রিকায় লেখা লেখি হচ্ছে। কিন্তু দরকারি সচেতনতা তৈরি হচ্ছে না। কিছু কম্পানি অনুমতি নিয়ে ড্রিংকস তৈরি করলেও সারা নকল বিষাক্তপানীয় তৈরি হচ্ছে। সবাই অতি সতর্ক হওয়ার জন্য বলছি বর্তমানে দেশে কয়েকটি অতি ক্ষতিকর শিল্প সেকটর রয়েছে। এরমধ্যে এনার্জি ড্রিংকস সেকটর অন্যতম। ভেষজ এনার্জি, হারবাল এনার্জি, টাইগার রয়েল এরকম যেসব এনার্জি ড্রিংকস বিক্রি হচ্ছে সবই বিষ। নির্জলা বিষ। তারপর হারবাল ৗষুধের নামে যা চলছে সে ভয়াবহ ব্যাপার। হোমিওপ্যাথি ওষুধের নামে যা চলছে তা চিকিৎসার নামে নৈরাজ্য। হারবাল কবিরাজ মানে সাক্ষাত মৃত্যুদূত। কলকাতা হারবাল দিল্লি হারবাল ;যত চাকচিক্য দেখছেন তত ভয়ংকর চিকিৎসার মুখোমুখি হচ্ছে রোগীরা। আমরা যারা এলপ্যাথি ডাক্তার বলতে দ্বিধা নেই এটা আমাদের ব্যর্থতার দলিল যে রোগীরা যথা চিকিৎসা না পেয়েই হয়তো এই হারবাল ডাকাতদের কাছে যাচ্ছে। এরা বলছে সব রোগ ভাল করবে। সত্যি বলতে কি তারা ডাক্তারি কবিরাজির কিছুই জানে না। মানুষের মুর্খতা আর বিরাট বিরাট বিজ্ঞাপন দিয়ে এরা মানুষের ক্ষতি করে চলেছে। এরা নানা এলপ্যাথিক ওষুধের কাচামাল নিয়ে অতি কাচা হাতে ডোজ বাড়িয়ে অতি উচ্চ মাত্রার ক্ষতিকর ওষুধ বানাচ্ছে। যেখানে এলপ্যাথিক একটি ওষুধ বাজারে আনতে জারমানি, আমেরিকা, বৃটেনের মত দেশ কোটি কোটি ডলার খরচ করে গবেষনা করছে; ইতর প্রাণীর ওপর প্রয়োগ করে দেখছে-তারপর তা বাজারে ছাড়ছে। সেখানে এরা এই কবিরাজরা নানা কাচামাল যোগাড় করে ভয়াবহ সব সর্বরোগহর ওষুধ বানিয়ে বিক্রি করছে। লাখ লঅখ সাধারণ মানুষকে সেই ওষুধের গিনিপিগ বানাচ্ছে। নাপিতের কাছে সার্জারি বা স্পর্শকাতর অপারেশন করালে আপনার আমার যে দশা হবে এক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে। বলছিলাম এনার্জি ড্রিংকস নিয়ে। ঢাকার একটি জনপ্যিয় দৈনিকে পড়লাম এ নিয়ে বিষদ রিপোর্ট । রিপোর্টার ফারজানা লাবনী জানাচ্ছেন সেই সব ভয়াবহ তথ্য।

দেশী হোক বিদেশী হোক মনস্টারের মত ধংস করছে আপনাকে

উত্তেজক রাসায়নিক উপাদান মিশিয়ে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে এনার্জি ড্রিংকস নামধারী পানীয়। এতে মেশানো হয় সিলডেনাফিল সাইট্রেট নামের নিষিদ্ধ ও উত্তেজক রাসায়নিক, যা নিয়মিত পানে স্বাভাবিক যৌন ক্ষমতা অতিদ্রুত হ্রাস করে। আরো থাকে মাত্রাতিরিক্ত ক্যাফেইন ও অপিয়েট (আফিমজাত উপাদান)। উচ্চমাত্রায় ক্যাফেইন নিয়মিত খেলে ফুসফুস ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, হৃদরোগসহ ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে অপিয়েট পান করলে শরীর দ্বিতীয়বার তা পান করার জন্য উন্মুখ হয়ে ওঠে।

সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বাজারে বিক্রি হয় এমন ১২ ধরনের ‘এনার্জি ড্রিংকস’ গবেষণাগারে পরীক্ষা করে এই ভয়াবহ তথ্য পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এসব ড্রিংকস পান করায় শুধু শারীরিক ক্ষতিই নয়, মানসিক ভারসাম্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ক্ষতিকর এসব রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে এনার্জি ড্রিংকস বাজারে দেদার বিক্রি করছে দেশের ছোট-বড় একাধিক প্রতিষ্ঠান। আর তাতে আছে সরকারি অনুমোদন। অধিদপ্তরের হিসাবে গত এক বছরে বাজারে এনার্জি ড্রিংকসের বিক্রি বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

অধিদপ্তর থেকে প্রথম পর্যায়ে সাতটি, পরে আরো পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ করা এনার্জি ড্রিংকস নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। প্রথম পর্যায়ে পরীক্ষা করা হয় হর্স পাওয়ার, ভিগোবি, ম্যান পাওয়ার (স্বচ্ছ), ম্যান পাওয়ার (অস্বচ্ছ তরল), ব্ল্যাক হর্স, রয়েল টাইগার ও স্পিড। দ্বিতীয় পর্যায়ে করা হয় পাওয়ার, কুইক পাওয়ার, বিগ বস, কিংস ও সলিড। এসব পানীয় বাজারে সরবরাহ করছে আকিজ, প্রাণ গ্রুপ, গ্লোব, পারটেক্সের মতো বড়মাপের প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে নামসর্বস্ব অনেক প্রতিষ্ঠান।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, তাৎক্ষণিক উত্তেজনা সৃষ্টিকারী ‘এনার্জি ড্রিংকস’ ৮-১০ থেকে ৩০-৩৫ বছর বয়সী ক্রেতাদের কাছেই বেশি জনপ্রিয়। এনার্জি ড্রিংকস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রাণ গ্রুপের একজন কর্মকর্তা অনেক এনার্জি ড্রিংকসে ক্ষতিকর রাসায়িক দ্রব্য আছে স্বীকার করে বিষয়টিতে সরকারি নজরদারির অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে তিনি দাবি করেন, তাঁদের গ্রুপের এনার্জি ড্রিংকসে অস্বাভাবিক মাত্রায় কোনো উপাদান নেই।

অধিদপ্তরের তৈরি করা সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজার থেকে সংগ্রহ করা এনার্জি ড্রিংকসে মানুষের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়িক দ্রব্য সিলডেনাফিল সাইট্রেট, অপিয়েট ও উচ্চমাত্রায় ক্যাফেইন পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চের (বিসিএসআইআর) ইনস্টিটিউট অব ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (আইএফএসটি) পরিচালক মাইনূল আহসান কালের কণ্ঠকে বলেন, এনার্জি ড্রিংকসে মেশানো রাসায়নিক দ্রব্য অপিয়েট একজন মানুষ একবার পান করলে তা আবারও পান করার জন্য অস্থির হয়ে যাবে। ঔষধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ১৯৮২ অনুযায়ী পণ্যটি বাংলাদেশে ব্যবহার, বিক্রি ও উৎপাদন নিষিদ্ধ। একই আইনে সিলডেনাফিল সাইট্রেট অন্তর্ভুক্ত। এ রাসায়নিক দ্রব্য সাময়িক যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি করলেও ভবিষ্যতে স্বাভাবিক যৌন ক্ষমতা দ্রুত হ্রাস করে। আবার মাত্রাতিরিক্ত ক্যাফেইন মানুষের শরীরে ভয়াবহ সব রোগের সৃষ্টি করে। আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন পানীয়তে ক্যাফেইনের পরিমাণ থাকে ৫০ মিলিগ্রাম। বিএসটিআইয়ের হিসাবে, এক কেজি পণ্যে এ রাসায়নিক উপাদানের পরিমাণ ২০০ মিলিগ্রামের বেশি হলে ওই পণ্য মানুষের শরীরের জন্য ক্ষতিকর হবে। উচ্চমাত্রার ক্যাফেইনে ফুসফুস ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, হৃদরোগসহ ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের সৃষ্টি হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, ‘আমাদের নিজস্ব পরীক্ষাগারে এক লিটার রয়েল টাইগারে ২৩০ দশমিক ৪০ মিলিগ্রাম, ২৭০ মিলিলিটার বোতলের স্পিডে ২২৮ দশমিক ৫০ এবং একই মাপের ব্ল্যাক হর্সে ২৫০ দশমিক ৫০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন পাওয়া গেছে। কুইক পাওয়ার, কিংস, সলিডের ক্ষেত্রে সহনীয় মাত্রার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি ক্যাফেইন রয়েছে। ১২টি পানীয়র প্রতিটিতে কমবেশি পরিমাণে সিলডেনাফিল সাইট্রেট ও অপিয়েট পাওয়া গেছে। অথচ এসব এনার্জি ড্রিংকস বিএসটিআই থেকে অনুমোদিত।’

পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান বিএসটিআইয়ের সার্টিফিকেশন বিভাগের পরিচালক কমল প্রসাদ এ প্রসঙ্গে বলেন, পণ্যের মোড়কসহ ১১ ধরনের রাসায়নিক দ্রব্যের উপস্থিতি যাচাই করে বিএসটিআই থেকে কার্বনেটেড নন-অ্যালকোহলিক বেভারেজের অনুমোদন দেওয়া হয়। এনার্জি ড্রিংকস নামে কোনো পণ্যের অনুমোদন বিএসটিআই থেকে দেওয়া হয় না। এনার্জি ড্রিংকসের বোতল বা ক্যানে বিএসটিআইয়ের লোগো ব্যবহার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘বিএসটিআই থেকে কার্বনেটেড বেভারেজ হিসেবে অনুমোদন নেওয়ার পর কোনো অসাধু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পরবর্তী সময়ে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়ে এনার্জি ড্রিংকস হিসেবে বিক্রি করে থাকতে পারে। আবার অনেক সময় বিএসটিআইয়ের প্রকৃত লোগো ‘১১২৩ বিডিএস’ নকল করে ব্যবহার করে থাকে অনেকে। অচিরেই এসব পণ্যের বিষয়ে অভিযান পরিচালনা এবং অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক লিপন কুমার মণ্ডল বলেন, এনার্জি ড্রিংকস শুধু শরীরের ক্ষতি নয়, মানসিক ভারসাম্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে সমাজে সৃষ্টি হচ্ছে অস্থিরতা। বাংলাদেশে এনার্জি ড্রিংকসের প্রধান ক্রেতা স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা। শহর-গ্রামের তরুণ-তরুণীরাও এসব পান করছে। এসব এনার্জি ড্রিংকস যত পান করবে, এর প্রতি আসক্তি ততই বাড়বে। এক পর্যায়ে পানকারীরা উচ্চমাত্রায় মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, ‘সিলডেনাফিল সাইট্রেটের প্রভাবও ভয়াবহ। এত সহজে এ মাদক পাওয়া যায় বলে যৌন অপরাধের মতো ঘটনা আগের চেয়ে বেড়েছে। বিষয়টি এখনই নিয়ন্ত্রণে এনে এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা উচিত।’

আপনার জীবন যৌবন পুড়িয়ে ছাড়খার করার অস্ত্র

লাবণী তার রিপোর্টে মোটামুটি সব কথাই বলেছেন। কিন্তু কথা হচ্ছে তাতে কোন টনক নড়ছে কি! কিংবা বলা যায় টনক নড়াবে কে!আমাদের কাছে আসা রোগীদের অবস্থার বিবেচনায় বলা যায় মোটেই টনক নড়ছে না। তরুনরা এসব খেয়ে বা পান করে সর্বস্ব হারিয়ে আসছে আমাদের কাছে। এমন পর্যায়ে তাদের আসা – তখন বড্ড দেরী হয়ে গেছে। শরীরের বারেটা বাজিয়ে এলে সব সময় ডাক্তারদের কিছু করার থাকে না। এসব ড্রিংকস বিক্রি হচ্ছে উদ্দীপনা বাড়ানর টনিক হিসেবে। বাস্তবে তা সকল উদ্দীপনা যৌবন হারানোর বিষাক্ত টনিক হিসেবে কাজ করছে। আমার এক সহকর্মি কৌতুক করে বলছিলেন জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনের গোপণ মিশন হিসেবে এসব টনিক উৎপাদনে উৎ’সাহ দেয়ার হচ্ছে হয়ত। কিন্তু কথা হচ্ছে এতে একটি তরুন অকালে হারিয়ে ফেলছে সব ক্ষমতা। কর্মক্ষমতা। তরুনরা নির্জীব হয়ে পড়ছে। কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে।