ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

গাধাটি মরার মত পড়েছিল বলে....


একটি গাধার কথিত মৃত্যুকে ঘিরে ভার্চুয়াল দুনিয়ায় তোলপাড় চলছে। কেন গাধাকে মারা হল। মানুষের এই অনন্য মর্মবোধ ও অনুভূতি সত্যিই অভিভুত করার মত। একটি গাধার জন্য কোটি মানুষ প্রতিবাদে মুখর। যদিও পরে জানা গেছে গাধা মরে নি। বেচে আছে। সে ধুলি ঝড়ে রঙ্গ করছিল।

সেখানে দেখুন আমরা মানুষ কত অসহায়। আরো অসহায় নারীরা। তারা সারা ভারতবর্ষ উপমহাদেশ জুড়ে দেশে দেশে ভারতে বাংলাদেশে পাকিস্তানে ধর্ষিত ও খুন হচ্ছে। তাকে কেটে কুটে খুন করে রাখা হচ্ছে। এসিড দিয়ে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে নারীকে। কি বিভৎস ভাবে ইডেন কলেজর ছাত্রীকে এসিড দগ্ধ করা হল। তারপরও আমরা কি তার জন্য গাধা প্রতীম সহানুভূতি , সহমর্মিতা দেখাতে পেরেছি।

অনেকে হয়ত হেসে বলবেন গাধার সঙ্গে কেন মানুষ বা নারীকে কেন তুলনা করলাম। কোথায় কি পান্তা ভাতে ঘি! ভাইরে , নারীর অবস্থা সমাজে দেখছি গাধার চেয়েও নীচে!গাধার কথিত মৃত্যুতে আমরা কাদি। প্রতিবাদে দুনিয়া কাপাই। কিন্তু নারী এসিডে পুড়ে অঙ্গার হলেও আমরা সামাজিক প্রতিরোধ গড়ার শপথ নিতে পা রি না।

আমরা কেবল সব বিষয় নিয়ে রাজনীতি করি। একদল বলবে বিএনপি আমল হলে এত এসিড, ধর্ষণ হত না। সরকারি দল জবাব দেবে বিএনপি আমলে এর চেয়ে বেশী এসিড ও ধর্ষন হয়েছিল।আরেকটা পক্ষ বলবে নারী বোরকা পরে চললে এত এসিড-ধর্ষন হত না। হায়! খালি বুলি বাজি; গলাবাজি ।সবাই াাছে যে যার ধান্ধায়! তাতে আসলে নারীর কোন উপকার হয় না। এই পাল্টা পাল্টি কথায় সমস্যার সমাধান হয় না। সমস্যার সমাধার রাজনীতি বা সরকার একা পারবে না।

সমস্যার সমাধান করতে আমাদের সবাইকে এক হয়ে। এই জঘন্য কাজের প্রতিবাদ করতে হবে সম্মিলিতভাবে। কে কোন রাজনীতি করি; কোন দল ক্ষমতায়- সেটা নিয়ে চালবাজি বাদ দিয়ে সব আমলের সব নারীর জন্য মানুষের নিরাপত্তার জন্য সামাজিক রক।ষা বলয় গড়ে তুলতে হবে।

আসুন এবার রিপোর্ট গুলো পড়ি। ব্লগার জিনিয়ার মন্তব্যের সূত্র ধরে বলি বোন আমি তো ৗভাবে কোন ব্লগলিখি না। কেবল বিভিন্ন রিপোর্টের সূত্র ধরে কিছু সচেতনতামূলক মন্তব্য করি মাত্র। নাথিং মোর। তাতে যদি আমাদের ঘুমন্ত বিবেক জাগে!!!

গুগল এবং একটি গাধা নিয়ে তুলকালাম

গাধাটি মরার মত পড়েছিল


”কান নিয়েছে চিলে”-এর মতো বাস্তবিক জগতে নানা বিষয় নিয়ে হুজুগে মেতে উঠা স্বাভাবিক একটি বিষয়। কিছু বিষয় নিয়ে মহা তুলকালাম পর্যন্ত হয়ে যায়। ভার্চুয়াল জগতেও মাঝেমধ্যে এমনটা ঘটে। এই যেমন একটি গাধার কথিত মৃত্যু নিয়ে গোটাবিশ্বে এখন মহা তুলকালাম চলছে। ঘটনাটা ঘটেছে বতসোয়ানায়।

ফক্স নিউজ এবং আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, আফ্রিকার দেশ বোতসোয়ানার কেওয়েনেঙ প্রদেশে একটি গাধাকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে ইন্টারনেটের জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগলের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার @TheRealSheldonC ইউজার নেমের এক টুইটার ব্যবহারকারী এ অভিযোগ তোলেন। ওই টুইটার ব্যবহারকারী তার অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ হিসেবে গুগলের একটি ছবিও পোস্ট করে দেন। এরপরই দুনিয়া জুড়ে শুরু হয় সমালোচনা আর তোলপাড়।

ছবিতে দেখা যায়, গাধাটি মরার মতো মাটিতে পড়ে আছে। এর পা গুলো একটা মরা গাধার মতই শক্ত। ওই টুইটার ব্যবহারকারীর দাবি, গাধাটিকে চাপা দিয়ে চলে যাওয়ার সময় গুগল ম্যাপসের ‘স্ট্রিট ভিউ’ প্রকল্পের একটি গাড়ি এ ছবিটি তুলে রাখে। পরে তারা সেটি ওয়েবেও প্রকাশ করে।

এ ছবিটি বোতসোয়ানাসহ সারা বিশ্বেই সমালোচনার ঝড় তুলে। অনেকেই ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান গুগলকে এর জন্য দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আহ্বান জানায়।

এ সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার মুখ খোলে গুগল কর্তৃপক্ষ। তারা দাবি করে, গাধাটি আসলে তাদের গাড়ি নিচে প্রাণ হারায়নি। গাধাটি জীবিতই আছে।

‘গুগল ম্যাপস’ এর গ্রুপ প্রোডাক্ট ম্যানেজার কেই কাওয়াই বলেন, “যে ছবিটি দেখে ওই টুইটার ব্যবহারকারী গাধাটিকে হত্যার অভিযোগ এনেছেন সেটি আসলে ৩৬০ ডিগ্রি কোণে বিশেষভাবে তোলা। এতে মনে হচ্ছে যে আমাদের গাড়িটি গাধাটিকে চাপা দিয়ে হত্যা করেছে। আসলে এ রকম কিছুই ঘটেনি। গাধাটি সুস্থ অবস্থাতেই রয়েছে।”

হ্যা এবার হাটছেও সে


পা শক্ত করে শুয়ে থাকার বিষয়ে কেই কাওয়াই বলেন, “গাধাটি হয়তো ‘ডাস্ট বাথ’ (ধূলি দিয়ে গোসল) উপভোগ করছিল।”

নিজেদেরকে নির্দোষ প্রমাণ করতে গুগল ওই ঘাধাটির বেশ কয়েকটি সিরিজ ছবিও প্রকাশ করেছে। ছবিগুলোতে দেখা যায়, গাধাটি তার ‘ডাস্ট বাথ’ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে হাঁটছে, এগিয়ে যাচ্ছে।

এবার পড়ি ইডেন কলেজের সেই মেয়েটির করুন কাহিনী।

বিয়েতে আপত্তির জের
কাজি অফিসে ইডেন কলেজের ছাত্রী অ্যাসিডদগ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক | তারিখ: ১৬-০১-২০১৩

রাজধানীতে ইডেন কলেজের এক ছাত্রীকে অ্যাসিডদগ্ধ ও ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার চানখাঁরপুলে কাজি অফিসে এ ঘটনা ঘটে। মাথা, মুখমণ্ডলসহ প্রায় পুরো শরীরে অ্যাসিডদগ্ধ ওই ছাত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বংশাল থানার পুলিশ বলছে, ছাত্রীটি বিয়েতে রাজি না হওয়ায় মনির নামের এক যুবক এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চানখাঁরপুল মোড়ের একটি ভবনের দোতলার কাজি অফিস থেকে আর্তনাদ করে নিচে নামেন মেয়েটি। তিনি সবার সাহায্য চেয়ে জানান, তাঁকে অ্যাসিড মারা হয়েছে। এতে আশপাশের লোকজন তাঁর শরীরে পানি ঢালেন। খবর পেয়ে কায়েতটুলী ফাঁড়ির পুলিশ সেখানে গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ওই কাজি অফিসের সহকারী হাবিবুল্লাহ খান রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, বেলা ১১টার দিকে এক মেয়েকে নিয়ে দুই যুবক অফিসে আসেন। দুই যুবকের একজন মেয়েটিকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেন। মেয়েটি রাজি হচ্ছিলেন না। এ নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে ওই যুবক সঙ্গে থাকা ছুরি দিয়ে মেয়েটিকে আঘাত করেন। পরে তিনি ব্যাগ থেকে অ্যাসিড বের করে মেয়েটির গায়ে ঢেলে দেন। এরপর ওই দুই যুবক দ্রুত বের হয়ে যান।

হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘ছুরিকাঘাতের পর মেয়েটিকে আমি রক্ষা করতে গেলে দুই যুবকের সঙ্গে আমার ধস্তাধস্তি হয়। তাঁরা আমাকেও কিল-ঘুষি মারেন। ঘটনার পর ভয়ে আমি মানিকগঞ্জে চলে যাই। পরে রাতে ঢাকায় আসি।’
কাজি অফিস যে ভবনে ওই ভবনের নিচতলায় একটি ওষুধের দোকানের মালিকের ছেলে মো. রিমন প্রথম আলোকে বলেন, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এক যুবক দ্রুত কাজি অফিস থেকে নেমে দৌড়ে বঙ্গবাজারের দিকে চলে যান।
কায়েতটুলী ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক (এসআই) সাহাবুদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার সময় মেয়েটি জানান, তিনি ইডেন কলেজের বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী। মাথায় অ্যাসিড ঢেলে দেওয়ায় তা তাঁর শরীরে ছড়িয়ে যায়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন হরিদাস সাহা সাংবাদিকদের বলেন, অ্যাসিডে মাথা, মুখসহ ওই ছাত্রীর শরীরের বেশ কিছু অংশ ঝলসে গেছে। তাঁর পিঠে তিনটি ও ডান হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।
বিকেলে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, কম্বল গায়ে কাত হয়ে চোখ বুজে শুয়ে আছেন ওই ছাত্রী। চোখসহ মুখের ডান পাশের বেশির ভাগ অংশই ঝলসানো। পুড়ে গেছে মাথার চুল। পাশে আছেন কয়েকজন স্বজন।

এক স্বজন জানান, ছাত্রীটি তাঁকে জানিয়েছেন, মনির ছুরি ও অ্যাসিডের ভয় দেখিয়ে তাঁকে কাজি অফিসে নিয়ে গিয়েছিলেন। মনির ফোন করে মাসুম নামের এক যুবককেও ডেকে আনেন।
হাসপাতালে ওই ছাত্রীর ভাই সরকারি কর্মকর্তা জানান, তাঁর বোন রমনার সার্কিট হাউস রোডের অফিসার্স কোয়ার্টারে তাঁর (ভাই) বাসায় থাকেন। সকাল নয়টার দিকে তাঁর বোন কলেজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ ফোন করে তাঁকে ঘটনা জানায়। তিনি বলেন, মনির তাঁর বোনকে উত্ত্যক্ত করতেন।

জানা যায়, মনির একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। থাকেন মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোডে। গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।
ওই কাজি অফিসটি মাহবুবুল আলমের। যোগাযোগ করা হলে রাত আটটার দিকে তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি অফিসে ছিলেন না। ভয়ে গ্রামের বাড়ি চলে যাওয়া হাবিবুল্লাহ খানকে ঢাকায় আসতে বলেছেন।
রাত ১০টার দিকে মাহবুবুলের মুঠোফোনে হাবিবুল্লাহর সঙ্গে কথা হয়।
পুলিশের লালবাগ অঞ্চলের উপকমিশনার হারুনুর রশিদ বলেন, এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর ভাই বংশাল থানায় মনির ও মাসুমের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

কি করতে পেরেছি এই মেয়েটির জন্য! তার পাশে কি দাড়াতে পেরেছি সবাই মিলে। নো রাজনীতির কূটচালবাজি। দরকার সবার ৗক্য। মানুষ মানুষের জন্য। নারী নারীর জন্য। মানুষ মানুষের পাশে। নারী ও মানুষের পাশে।