ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

গণতন্ত্রের দাবিদারদের প্রধানতম বৈশিষ্ট্যের ১টি—– পরমত সহিষ্ণুতা। অন্য সব গুণাবলী থাকার পরও, এ গুণের অনুপস্থিতি, স্বেচ্ছাচারীতার প্রমাণ। যে/যারা যত উচ্চমানের গণতন্ত্রের দাবিদার; তাকে/তাদেরকে ততো বেশী উচ্চমানের পরমত সহিষ্ণু হতে হয়। এর অন্যথা হলে………। সবাই জানে– যে ধর্মের কথা বলে,ধর্মীয় পোশাক পরে কিন্তু ধর্ম পালন করে না—-তার নাম:-বকধার্মিক। তা’ হলে, যে নিজেই ধর্ম পালন না করে অন্যকে ধর্ম পালন করতে বলে–তার নাম:–(……..)[[সম্মানিত পাঠকগণ দেবেন]]।

এ ছাড়া, যিনি/যাঁরা অন্যকে গণতন্ত্রী হতে বলেন, তিনি/তাঁরা কেমন গণতন্ত্রী হওয়া কাম্য??? সর্বদাই সাংবাদিকগণ অন্যান্য জনকল্যাণমুখী বিষয় সহ গণতন্ত্র চর্চা করা/না করার বিষয়ে উচ্চকণ্ঠে অপরের সমালোচনায় মুখরিত এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী-সংগ্রামী দাবিদার; এমনকি অন্যকেও গণতন্ত্রী হওয়ার উপদেশবাণী সর্বদাই সরবরাহ করতে থাকেন। এমতাবস্থায়, সবারই ধারনা— সাংবাদিকগণ মনে হয়, এতই মহান গণতন্ত্রী মানসিকতা সম্পন্ন যে, এ সূত্রের আবিষ্কর্তাই “ফেল” মারবে।

অথচ দেশবাসী দেখলো, সাংবাদিকগণ নিজেদেরকে কী প্রমাণ করলেন? নিজেদেরকে নিজেদের বক্তব্য থেকে টেনে-হিঁচড়ে কত নীচে নামিয়ে নিচ্ছেন। সাংবাদিকগণের “বক্তৃতাবলী” কী শুধুই “মুখরোচক ??
একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর মতামতই “সাংবাদিকের গণতন্ত্র” সইতে না পেরে; তিরস্কার, হুমকি-ধামকি, শেষ পর্যন্ত মামলা!!!??? তা’ হলে ক্ষমতার বাইরের মানুষের মন্তব্যে কোন্ লঙ্কাকাণ্ডটাই না ঘটতো কে জানে!! এ হিসেবে, শুধু স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত; কত কোটি মামলার দায়, সাংবাদিকদের ???

কারও মন্তব্য, অসত্য হলে, ভদ্রজনের জবাব হবে “ভদ্রোচিত” আর তিনি/তারা যদি গণতন্ত্রের “সোল এজেন্ট” হন; তা’ হলে কেমন জবাব হওয়া কাম্য ?!!

আপনাদের লেখালেখিতে মনে হয়, আপনারা ছাড়া কেউ, গনতন্ত্র বোঝে না আর মানেও না। আপনারা তো কাউকে সত্য-ন্যায়ের পরাকাষ্ঠা মানেন না আর গণতন্ত্রী নয়ই। আপনাদের লোকবলেরও অভাব নেই। তাই, নিজেরাই সারা দেশে, গোপনে, সর্বস্তরের জনগনের ভোট নিন——“সাংবাদিক সম্বন্ধে আপনার ধারণা কী ?” আপনারা তো “কারচুপি” সহ্য করেন না। তাই, আপনাদের ঘোষিত “ফলাফলের” অপেক্ষায় রইলাম।
মানুষের মাঝে, একটা প্রশ্ন স্বাভাবিক ভাবেই ঘোরপাক খাচ্ছে, — “সাংবাদিক আর সাংবাদিকের কাজ-কর্ম কী, আইন-আদালতের ধরা-ছোঁয়ার বাইরে, না-কী আইনের উর্দ্ধে; অথবা অব্যাহতি দেয়া হয়েছে কী-না ?”
সাংবাদিকের মিথ্যা আর উদ্দেশ্যপ্রনোদিত, তথা কথিত “সংবাদে” —- এক জন মানুষের পারিবরিক-সামাজিক-রাষ্ট্রীয় এবং মনস্তাত্ত্বীক; এমন কী, কোন কোন ক্ষেত্রে দৈহিক ভাবেও মৃত্যুবরণ করে। কোন কোন মেয়ের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে “অতি-সাংবাদিকতার” কারণে মেয়েটি নিরুপায় হয়ে, আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে !! ((তারা ঘাঁটাঘাঁটি না করলে, আশপাশের গুটি কতক মানুষের জানা ছাড়া, সামাজিক সমস্যা তৈরি হতো না।)) এ সাংবাদিকেরা তাদের “অপবিত্র লেখনির” আক্রমণে মানুষের দৃশ্য-অদৃশ্য জীবনকে, এতই ক্ষত-বিক্ষত করে হত্যা করে; যা কোনও “বিভৎস খুনিও” পারে না !! কোনও খুনি তো একজনকে শুধু দৈহিক ভাবে ‘পঙ্গু’ করে বা হঠাৎ ‘খুন’ করে ফেলে। কিন্তু এ সাংবাদিকেরা !!! তিলে তিলে, দিনে দিনে, “লেখনী-নির্যাতন” চালিয়ে মানসিক এবং দৈহিক, দু’ ভাবেই ‘পঙ্গু’ করে দেয়। আর মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়ার ক্ষেত্রে তাদের “লেখনী-নির্যাতনের” “কুটিলতা” লোমহর্ষক, বর্ণনাতীত !! এ ক্ষেত্রে “সৎ সাংবাদিক”গণ((যদি থেকে থাকেন)) নীরব কেন ? তাঁরাও কী ‘ভীত-সন্ত্রস্ত’ ?
এ তো গেলো, এক জন সাধারণ মানুষের বিষয়। তাদের “লেখনী-নির্যাতনের” টার্গেট যদি কোন বিখ্যাত ব্যক্তি/প্রতিষ্ফঠান/সরকার বা রাষ্ট্র হয় — তা’ হলে তো….. (চলবে)