ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানের বর্তমান কালের আইনজীবীদের কার্যকলাপ দেখে, প্রশ্ন জাগে,—- আইনজীবী পেশাটার উৎপত্তি কেন হয়েছিল ? আইনজীবীর কাজ কী ? আইনজীবী পেশাটা সত্যের উপর, না-কি মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত ? এ পেশার লোকেরা ভদ্র হবে, না-কী অভদ্র হবে ? তাদের আচরণ আইন-সংগত হবে, না-কি বেআইনী হবে ? আদালতে তাদের কাজ কী ? মাননীয় বিচারকগনকে ন্যায় বিচারে সহযোগিতা,না অসহযোগিতা করবে ? তারা সভ্যতার ভিতরের, না বাহিরের ? ইত্যাদি ইত্যদি।

আজকের পত্রিকায় দেখলাম, আইনজীবীরা আদালতের কাঠগড়া পর্যন্ত ভেঙ্গে ফেলেছে, আসামী কোর্ট থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে, এমনকি মাননীয় বিচারক আত্মরক্ষার জন্য এজলাশ থেকে চলে গেছেন। এ দলে, একজন মহিলা আইনজীবীও ছিলেন। আগে দেখে ছিলাম, মাননীয় বিচারককে শাঁসানো, দরজায় লাথি মারা ইত্যাদি ইত্যাদি। মনে হচ্ছে, দিনে দিনে ঋণাত্মক উন্নতির জোয়ার বইবে!!!

পূর্বে শুনেছিলাম, বাদী-বিবাদী যেন সুষ্ঠু বিচার পান, সে জন্য মাননীয় আদালতের সামনে উভয় পক্ষের আইনজীবী যৌক্তিক যুক্তি উপস্থাপন করত: বিচার কার্য ন্যায়সংগত এবং আইনসংগত করতে আন্তরিক সাহায্য করাই, আইনজীবীর মহান ব্রত। অথচ আজকে হচ্ছেটা কী ? এখন কর্তৃপক্ষের নিকট জানতে ইচ্ছে করে, আদালতের বাইরে ঘটে যাওয়া ঘটনার শাস্তি যে আদালতে হয়, সে আদালতের কক্ষে প্রকাশ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনার শাস্তি হয়না কেন ? আদালতের বাইরের ঘটনায় স্যুয়োমটো রুল জারী হলেও আদালতের ভিতরে মাননীয় বিচারকের সামনে ঘটে যাওয়া ঘটনায় স্যুয়োমটো রুল জারী হতে দেখি না কেন ? এ আইনজীবীরা কী আবারও এ আদালতে আইনের বেসাতী করতে পারবে ? যদি পারে– তা হলে কী, ধরে নেব, আইন রচয়ীতা ও আইনজীবীরা আইনের উর্দ্ধে ? আগে থেকেই তো পত্রিকায় দেখি, আইন রচয়ীতারা পরশ্পরকে বে-আইনী কার্যকলাপের জন্য দোষারোপ করে আসছে। কিন্তু শাস্তি নেই।

এখন প্রশ্ন হ’ল, যথাযত কর্তৃপক্ষ যদি নিজেদের কোন কর্মফলের কারণে, আদালতের অভ্যন্তরে ঘটে যাওয়া অপরাধের শাস্তি দিতে অপারগ হন বা পুণ: সংঘটন রোধে ব্যর্থ হন, তা হলে, মাননীয় বিচারকগনের নিরাপত্তা প্রশ্নে কী করতে চান ? আপনারা কিংকর্তব্য বিমূঢ় হলে, দেশবাসীর প্রস্তাব বিবেচনা করুন । দেশপ্রেমিক দেশবাসীকে তাঁদের মূল্যবান “প্রস্তাব” জানানোর অনুরোধ জানিয়ে; নিম্নে আমি আমার প্রস্তাব পেশ করছিঃ–

“”মাননীয় বিচারকগণকে আইনজীবীদের মারমুখী আচরণ থেকে হেফাজতের জন্য, আদালত কক্ষ থাকবে আইনজীবীশূন্য আর আইনজীবীরা পার্শ্ববর্তী কক্ষ থেকে তাদের মক্কেলের পক্ষে লিখিত যুক্তি পেশ করবে। লিখিত হওয়ার কারণ, তাদের বক্তৃতা অশালীন হতে পারে। তবে, বাদী-বিবাদীর আইনজীবীরা ভিন্ন ভিন্ন কক্ষে, দরজায় তালাবদ্ধ অবস্থায় অবস্থান করবে। কারণ, একই কক্ষে থাকলে বা খোলা কক্ষে থাকলে, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া থেকে শুরু করে, যে কোন কঠিনতম দূর্ঘটনা ঘটা অসম্ভব নয়।””

আইনজীবীদের বর্তমান আচরণে, এ আশঙ্কাই স্পষ্ট বলে প্রতীয়মান হয়। এ সব ঘটনার প্রতি ধিক্কার জানানোর মতো কঠিন ভাষা আমার অজানা
“বিগত ২০/০৪/২০১১ তারিখে পত্রিকায় দেখলাম, বগুড়ার আইনজীবীরা, পরস্পরের সাথে লাথি-কিল-ঘুষি আর গুতোগুতি বিনিময়ের পর আদালত বর্জন করেছে।” এখানে আদালতের দোষ কী ? আর এ ‘জাতীয়’ আইন ব্যাবসায়ীদের নিজস্ব অপরাধের ‘খেসারত’ বিচারপ্রর্থীগন বইবে কেন ?? তাদের পারস্পরিক “গুতোগুতি”, আদালতের কাজে “বিঘ্ন-সৃষ্টি” আর বিচারপ্রার্থীগণের “ভোগান্তি-সৃষ্টি” কেন ‘শাস্তিযোগ্য’ অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় না ?