ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বাংলাদেশের ক্ষমতার মাঠে, যখন যারা নেমেছেন আর প্যাভিলিওনে ফিরে গেছেন; তাদের কারও কাছেই তো, মনে হয়, সংবিধান মন:পুত হয়নি।
এ দেশের নেতাদের কাছে, মোট কত প্রকার সংবিধান রক্ষিত আছে আর কত প্রকারই বা রক্ষিত হবে; সে হিসেব পুরো জানা না থাকলেও, কয়েক প্রকারের উদাহরণ দেয়া যায়; যেমন— ‘৭২পূর্ববর্তী-পরবর্তী সংবিধান, ‘৭৫পরবর্তী সংবিধান, ‘৮০-র পরবর্তী সংবিধান, ‘৯০-র পরবর্তী সংবিধান সমূহ ইত্যাদি। প্রসংগত: বলতে হয়, ‘৯০-র পরবর্তী সংবিধান সমূহের মাঝে ”মাত্র একক ব্যক্তির” চাকুরি ফিরে পাবার জন্যও, সংবিধানের রূপান্তর ঘটানো হয়েছিল। আবার কখনও ব্যক্তি/গোষ্ঠির সন্তুষ্টির নিমিত্তে সংবিদানে যোজন-বিয়োজন হয়েছ। যদিও পুরো জাতির কল্যাণের জন্যই কেবল, সংবিধানের সংশোধনী যুক্তিযুক্ত এবং পৃথিবীর সভ্য জাতি সমূহের মাঝে প্রচলিত। অথচ এ দেশে, যখন যে বা যারা ক্ষমতায় ক্ষমতাবান হয়; তখন সে বা তারাই, তার বা তাদের কাছে রক্ষিত, আপাত: মন:পুত সংবিধানের রূপান্তরখানি বাস্তবায়নে, রাষ্ট্রীয় কোষাগার খুলে নিয়ে, বসে পড়েন। আর এর মাঝেই পার হয়ে যায়, “সাধের ৫টি বছর”। কেউ হযত, আঁতকে উঠেছেন—- “রাষট্রীয় কোষাগার খুলে বসা” মানে !!? যিনারা রাষ্ট্রের এত বড় ভারী কাজটা মাথায় নিলেন; তাদের চা-পানি আর পরিবারের রুটি-রুজীর দায়ীত্বটা রাষ্ট্র ছাড়া নিবে কে ? “সাধের ৫টি বছরের” শেষ এক/দেড় বছর তো বসার ফুরসতই কম। কারণ, তখন তো “পালা বদলের” মৌসুমী বৃষ্টি-বাদল আর ঝড়-তুফানের তান্ডবতায় ঠিকমত নাওয়া-খাওয়া-ই হয় না। ফলে, ‘সংবিধানের রূপান্তর” আর অন্য যে সব “নীতিমালা”র প্রস্তুতি ও ঘষামাঝা চলছিল; তার বাস্তবায়ন তো দূরের কথা “জানমাল” বাঁচানোটা-ই দূষ্কর হয়ে পড়ে। যে যার মতো, দেশের ভিতর-বাহির, লুকানোর ঠিকানার খোঁজে ‘”ছদ্মবেশী'”ও হয়। জনগন কি শুনলো, কি দেখলো আর কি পেলো !!!?

সংবিধান রচনা, সংশোধন, রূপান্তর, পরিবর্তন, পরিবর্ধন, ঘঁষামাঝা বা আর যা-ই বলা হোক না কেন; তা’ যদি ব্যক্তি/গোষ্ঠীর সাধ-আহ্লাদ বা অনুরাগ-বিরাগের কারণে না হয়ে, দেশ ও জাতির একান্ত প্রয়োজনে হ’তো; তা’ হলে, এত পাল্টা-পাল্টির ঘটনা ঘটতোই না। কোন ব্যক্তি/গোষ্ঠী পাল্টাতে থাকলে, অন্য ব্যক্তি/গোষ্ঠী পাল্টানোর আগাম ঘোষণা প্রচারে অহর্নিশি মত্ত থাকে। তাদের কাজ যেন, দোকানের মালিক পরিবর্তনের সাথে সাথে “দোকানের সাইনবোর্ড” পাল্টানোর মতই……!!!
রাষ্ট্রীয় আপদ-বিপদকালীন সময়ে; সুশৃঙ্খল সেনাবাহিনী বা অন্য কোনও দেশদরদীগণের সমন্বয়ে রাষ্ট্রের “হাল” ধরা; সাংবিধানিক ভাবে নিষিদ্ধ করা অথবা দন্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গন্য করা, দেশবাসীর মৌলিক সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন বলে বিবেচিত না হওয়ার কোন্ সুযৌক্তিক কারণ আছে ?? দেশ পরিচালনার “একমাত্র” “হক্দার” হিসেবে ‘দাবীদার’; স্বঘোষিত ‘রাজনীতিবীদ’রা তো তখন “আত্মকলহের” অতলতায় তলিয়ে যান !! একত্রে বসা তো সুদূর পরাহত; কেউ কারোর “চেহারা্‌ই” দেখতে রাজী নন !! এ ধরনের ধারা সংযোজনের আসল উদ্দেশ্য কী ? কারও কারও সন্দেহ,– দূর্নীতিবিরোধী অভিযানের ভয়েই এতো কিছু !? কোন কোন বিষারদ এমন ‘মুখ ভেংচিয়ে’ বক্তৃতা দেন, যেন “অক্টোপাসের” ‘অষ্টভঙ্গী’
এখন পর্যন্ত, সংবিধান পরিবর্তন নিয়ে যে সব কথাবার্তা পত্রপত্রিকায় দেখা যাচ্ছ, তাতে মনে হচ্ছ, “কায়েমী স্বার্থান্বেষী” গোষ্ঠীগুলো, সংবিধানকে তাদেরকে রক্ষা করার এবং তাদের ক্ষমতা পাকাপকি করার “দলিলে” রূপান্তর করার ‘কৌশল’ নিয়েই ত্রস্তব্যস্ত আছেন–জনগনের সুবিধাদি ভাববার সময় কই ?! সংবিধান কী, তথাকথিত ‘নেতা’ পদবিধারীদের “রক্ষাকবচ” ?? (চলবে)