ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

সংবিধান সংশোধনের ব্যাপারে, এ পর্যন্ত যে ‘ব্যক্তিবর্গের’ মতামত নেয়া হলো; তাদের চেয়ে বুঝমান গুণীজনের অভাব কী, বাংলার জমীনে এতই প্রকট ?? ভাল-মন্দ উভয় শ্রেণীর, ঘনিষ্ঠতম বন্ধুরা, আড্ডাস্থলে বসলে, কোনও বন্ধু কোনও বিষয়ে ‘মত’ দিলে, অবশিষ্ট বন্ধুরা, বিচার-বিবেচনা, এমনকি ভালভাবে শোনা ছাড়াই, এক বাক্যে বলে উঠে,”হ্যাঁ হ্যাঁ, ঠিক তা-ই”। এ “মতবাদীদের” ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম আনুবীক্ষনিক ভাবেও দেখা যাচ্ছ না। “এ যেন সব শেয়ালের এক ‘রা'”-এর মতই।

যে সংবিধানে, মাননীয় সংসদ-সদস্যগনের-ই ‘গনতান্ত্রিক অধিকার” সংরক্ষিত নেই; বরং, ‘কেড়ে’ নেয়া হয়েছে; সে সংবিধান হাতে নিয়ে গনতণ্ত্রের জন্য “আহাজারি” করে লাভ কী ??! সংবিধান থেকে, সকল ‘অগনতান্ত্রিক কালাকানুন’ মুছে ফেলা ছাড়া, গনতন্ত্রের জন্য ‘কপাল চাপড়ানো’ ভন্ডামী ছাড়া আর কী হ’তে পারে ?
সংবিধান হবে, দেশবাসীর সুপথে চলার “অকাট্য নির্দেশিকা”। ‘সংবিধান’ কখনও ব্যক্তি/গোষ্ঠীর মতবাদের “পুস্তিকা” হতে পারে না,—- সংমিশ্রণ ঘটলেই “বিতর্কিত” হবে। ‘সংবিধান’ থাকবে, ‘সুস্পষ্ট ভাষায়’ ‘সুলিখিত’,—— সেখানে ব্যাখ্যা/অপব্যাখ্যার কোন অবকাশ-ই থাকবে না। ‘সংবিধান’ সকল ‘সত্য-সুন্দরের’ স্বীকৃতি দিবে, ‘মিথ্যা আর অসুন্দরের’ বিলুপ্তি চাইবে। ‘অপরাধীর’ শাস্তি, আর ‘নিরাপরাধীর’ পুরষ্কার নিশ্চিত করবে। “দুষ্টের দমন, আর শিষ্টের পালন” হবে, লক্ষ্যগুলোর একটি। “রাজনীতিতে” ‘অতিসক্রিয়’ ব্যক্তিবর্গ দ্বারা ‘রচিত’ হয় বলে, ‘সংবিধান’ নিরপেক্ষতা হারায়।
একজন ‘সংসদ সদস্য’, লক্ষ মানুষের ‘সমষ্টি’। অথচ, সংবিধানে তাঁর “গনতাণ্ত্রিক” ভোটাধিকার নেই। দল বা দলপতির ইচ্ছা-আকাঙ্খার অন্যথা হ’লেই, সংসদ সদস্যপদই যায় যায় অবস্থা !! তা’হলে ওসব নেতা-নেত্রীর নিকট, গনতন্ত্রের ব্যাখ্যা কী ? আর মাননীয় সংসদস্যরাই বা কেন, সংঘবদ্ধ ভাবে, এর প্রতিকার চান না ?!
আর ইদানিং তো একটা কথা, মনে হয়, ঘুমের ঘোরেও আওড়ানো হচ্ছে, তা’হলো, ‘সেনাবাহিনী কর্তৃক’ অথবা ‘সেনা সমর্থিত’ সরকারের হাতে যেন ক্ষমতা যেতে না পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এ ধরনের সরকার (ক) কেন আসতে হয়, (খ) কাদের ব্যর্থতার ফসল, (গ) কাদের ডাকে আসে ? এ ধরনের সরকার আসার পূর্ববর্তী-পরবর্তী পত্র-পত্রিকায়, একটুখানি চোখ রাখলেই বোঝা যাবে।
আর সেনাবাহিনী নিয়ে, এতো কথা-ই বা কেন ? সেনাবাহিনী কী, এ দেশে ভাড়াটিয়া; না-কি অন্য দেশ থেকে আসা, জবরদখলকারী ? তাঁরা এদেশের-ই সুশৃঙ্খল সুনাগরিক। অন্য সবার মতো-ই, দেশের প্রতি, তাঁদের দায়ীত্ব-কর্তব্য-অধিকার আছে; বরঞ্চ, একটু বেশী-ই। কারণ, তাঁরা দেশ ও দশের অর্থ-সম্পদে লালিত-পালিত। কোন ব্যক্তি যখন জনগনের ভোট(?) বা অন্য কোন ভাবে, “ক্ষমতাবান” হন, তখন-ই কেবল তার উপর (বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের) জনগনের ‘দাবী’ বা ‘অধিকার’ প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু জনগনের সম্পদ দ্বারা লালিত-পালিত হয় বলে, সেনাবাহিনীর উপর সর্বদা-ই পুরো জনগনের দাবী/অধিকার বলবৎ থাকে। এমতাবস্থায়, জনগনের দুঃখ-কষ্টে, জনগনের পাশে দাঁড়ানো, সেনাবাহিনীর জন্য অবশ্য-পালনীয় দায়ীত্ব-কর্তব্যের অন্তর্গত। জনপ্রতনিধিরা ব্যর্থ হলে, এ “কর্তব্য” হবে, ‘”স্বয়ংক্রিয়”‘ এবং ‘”অতি দ্রুতগতি সম্পন্ন”‘। (চলবে)