ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

ইদানিং তো একটা কথা, মনে হয়, ঘুমের ঘোরেও আওড়ানো হচ্ছে, তা হলো, ‘সেনাবাহিনী কর্তৃক’ অথবা ‘সেনা সমর্থিত’ সরকারের হাতে যেন ক্ষমতা যেতে না পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এ ধরনের সরকার (ক) কেন আসতে হয়, (খ) কাদের ব্যর্থতার ফসল, (গ) কাদের ডাকে আসে ? এ ধরনের সরকার আসার পূর্ববর্তী-পরবর্তী পত্র-পত্রিকায়, একটুখানি চোখ রাখলেই বোঝা যাবে।

আর সেনাবাহিনী নিয়ে, এতো কথা-ই বা কেন ? সেনাবাহিনী কী, এ দেশে ভাড়াটিয়া; না-কি অন্য দেশ থেকে আসা, জবরদখলকারী ? “তাঁরা এদেশের-ই সুশৃঙ্খল সুনাগরিক।” অন্য সবার মতো-ই, দেশের প্রতি, তাঁদের দায়িত্ব-কর্তব্য-অধিকার আছে; বরঞ্চ, একটু বেশী-ই। কারণ, “তাঁরা দেশ ও দশের অর্থ-সম্পদে লালিত-পালিত”। কোন ব্যক্তি যখন জনগনের ভোট(?) বা অন্য কোন ভাবে, “ক্ষমতাবান” হন, তখন-ই কেবল তার উপর (বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের) জনগনের ‘দাবী’ বা ‘অধিকার’ প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু জনগনের সম্পদ দ্বারা লালিত-পালিত হয় বলে, সেনাবাহিনীর উপর সর্বদা-ই পুরো জনগনের দাবী/অধিকার বলবৎ থাকে।

এমতাবস্থায়, জনগনের দুঃখ-কষ্টে, জনগনের পাশে দাঁড়ানো, সেনাবাহিনীর জন্য অবশ্য-পালনীয় দায়িত্ব-কর্তব্যের অন্তর্গত। “জনপ্রতিনিধিরা ব্যর্থ হলে”, এ “কর্তব্য” হবে, ‘”স্বয়ংক্রিয়”‘ এবং ‘”অতি দ্রুতগতি সম্পন্ন”‘। এ সময়ে নির্দেশ দাতারা, নিজেরা-ই বিশৃঙ্খলার ঘূর্ণাবর্তে দিশেহারা থাকে বলে “স্বয়ংক্রিয়” হবে। আর সামান্য সময়ের বিলম্বে, ‘জান-মালের’ অবর্ণনীয় ক্ষতি হবে, তাই “অতি দ্রুতগতি সম্পন্ন” হতেই হবে।

“উনাদের” কথাবার্তায়, মনে হয়, “রাজনীতিক” তকমা ধারীরা-ই, দেশের/ক্ষমতার একমাত্র মালিক !! “উনাদের” বাদ দিয়ে, কেউ ক্ষমতাবান হলে, শাস্তি দেয়ার “‘হুঙ্কার”‘ ছাড়া হচ্ছে; অথচ, “তাদের” ব্যর্থতার শাস্তির কথা-ই, প্রথমে থাকা উচিত। সংবিধানে কারোর শাস্তির কথা লিখতে হলে; প্রথমেই লিখতে হবে, “যারা” সংবিধান সমুন্নত রাখার “শপথ” করে সংসদে যায়, “তাদের” ‘ব্যর্থতা’ আর ‘অপরাধের’ শাস্তির কথা। তবে, ক্ষমতাবান আর ক্ষমতাহীনদের শাস্তি সমান হবে না। একই প্রকার অপরাধে, ক্ষমতাবানের শাস্তি ‘গুরুতর’ হওয়া যুক্তিসঙ্গত। অনুরূপভাবে, ‘ইচ্ছাকৃত’ অপরাধের শাস্তিও ‘গুরুতর’ হবে।

সংবিধানে পরস্পর বিরোধী কোন অনুচ্ছেদ থাকবে না। যেমন— ** গণতন্ত্রের উল্লেখ থাকবে, অথচ, সংসদ সদস্যগণ স্বেচ্ছায় ভোট/মতামত দিতে পারবেন না। **পরের আইন দিয়ে পূর্বের অপরাধের বিচার হবে না। [[এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, বড় বড় অপরাধের নায়কদের নিজস্ব আইন-উপদেষ্টা আছে, যাতে আইনের ফাঁক-ফোঁকর গলিয়ে অপরাধ করা সম্ভব হয়। তাহলে কি “বৃহত্তর অপরাধীরা” কখনই শাস্তি পাবে না? না-কি, পার পাওয়ার জন্যই, “বুঝে-শুনে” এ ধরনের অনুচ্ছেদ সংযুক্ত করা আছে ??]]

(চলবে)