ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

জাতিসংঘ সাম্প্রতিক রোহিঙ্গাদের পৃথিবীতে সর্বাধিক নির্যাতিত সংখ্যালঘু হিসেবে গন্য করেছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে ৮০০,০০০ রোহিঙ্গা বসবাস করছে। আরাকান রাজ্যটি বাংলাদেশের দক্ষিণ – পূর্ব সীমান্তবর্তী এবং তারা অনেকটা বাংলা ভাষার কাছাকাছি ভাষায় কথা বলে ।

রোহিঙ্গাদের বসবাস মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে আজ থেকে হাজার বছর আগে যেখানে তারা অন্যান্য গোষ্ঠীগুলোর সাথে মিলেমিশে বাস করত। এরা মূলত মুসলমান এবং মুসলিম সংস্কৃতি ধারন করে আছে নিজস্ব স্বত্বায় । এই রোহিঙ্গারাই বিভিন্ন সময়ে বার্মিজ পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করেছে ।

রোহিঙ্গাদের উপর উত্পীড়নের শুরু ১৯৪৯ সালে বার্মিজ সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও রাখাইন চরমপন্থীদের মাধ্যমে । সে বছর ৫০,০০০ রোহিঙ্গা তাদের পূর্বপুরুষের ভূমি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল । ১৯৭৮ সালে সামরিক এক নায়কের দ্বারা তাড়িত হয়ে ৩০০,০০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল । ১৯৮২ সালের বৈষম্যমূলক আইন আরেক দফায় নাগরিক অধিকারের উপর আঘাত হানে।

রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচারের যেন শেষ নেই । জোরপূর্বক স্বেচ্ছাশ্রমে বাধ্য করানো হয়। বিভিন্ন রকম কর আরোপ করা হয়েছে তাদের উপর। যেমন নিজ দেশে ভ্রমণ কর দেয়া । উচ্চশিক্ষা থেকে তারা বঞ্চিত। তাদের ধর্ম পালনের অধিকার নেই । বিবাহের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি । কর্তৃপক্ষের সামনে কনেকে হাজির করে ঘুস দিয়ে বিয়ে করতে হয় । রোহিঙ্গা মেয়েদের ধরে নিয়ে হয়রানি ও যৌন নির্যাতন করা হয় চোখের সামনে। ছেলেদের ধরে নিয়ে জুলুম, নির্যাতন ও কারাগারে প্রেরন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার । “বাঙ্গালী কালা”বলে গালি দেওয়া হয় অহরহ যা বর্ণবৈষম্যের নামান্তর ও বাংলাদেশী অভিবাসী বলে চিহ্নিত করা হয় ।

প্রায় ৩০০,০০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশী আশ্রয় শিবিরে মানবেতর জীবনযাপন করছে । এই অত্যধিক উদ্বাস্তু বাংলাদেশের অর্থনীতির উপর একধরনের বোঝা এবং চাপ সৃষ্টি করছে । এই রোহিঙ্গারাই দক্ষিণাঞ্চলে অপরাধমূলক কাজে জড়িত হয়ে পড়েছে যেমন মাদক পাচার ও চোরাচালান করছে ।