ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

গ্রামীণ ব্যাংক আজ দেশে-বিদেশে আলোচিত এবং সাথে সাথে সমালোচিত। গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে আগ্রহ সারাবিশ্বে দিন দিন বেড়েই চলছে। বিভিন্ন দেশে গ্রামীণ ব্যাংকের শাখা খোলা হচ্ছে। গ্রামীণ ব্যাংকের ধারনা ব্যবহার করে অনেকেই উপকৃত হচ্ছেন।

গ্রামীণ ব্যাংকের উচ্চসুদ নিয়ে দেশে অনেকেই কথা বলেন এবং ডঃ ইউনুস কে নিয়ে অনেক কিছুই ঘটে গেছে। তাই পুরাতন কাসুন্দি আর ঘাটতে চাই না। সম্প্রতি ডঃ ইউনুস কে গ্লাসগো ক্যালেডোনিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সূ্‌এঃ http://www.gcu.ac.uk/newsevents/news/article.php?id=44914

মূল আলোচনায় আসা যাক। গ্রামীণ ব্যাংকের শিক্ষাঋণ সম্পর্কে আপনারা কতজন অবগত আছেন? গ্রামীণ ব্যাংক কেবলমাএ টারশিয়ারী পর্যায়ে টিউশন, ভরণপোষণ ও অন্যান্য খরচের জন্য শিক্ষাঋণ দিয়ে থাকে। অক্টোবর ২০১১ সালের তথ্য অনুযায়ী ৪৯,৫৮৮ জন শিক্ষার্থী এ পর্যন্ত শিক্ষাঋণ গ্রহন করেছে যাদের মধ্যে ৪৬,৮৮৫ জন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে, ৫৭৭ জন মেডিকেল কলেজে, ৮৯৪ জন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ১২৩২ জন বিভিন্ন পেশাদারী প্রতিষ্ঠানে লেখা-পড়া করছে। প্রতিষ্ঠান অনুযায়ী টাকার পরিমাণ ভিন্ন হয়ে থাকে। যেমন মেডিকেল/ইঞ্জিনিয়ারিং এ যারা লেখা-পড়া করছেন তাদের জন্য বরাদ্দ তুলনামূলকভাবে বেশি।

আমাকে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতি দরদী ভেবে দালাল মনে করার অবকাশ নেই। আমি একজন ঋণ গ্রহীতার ছেলে। তাই কাছ থেকে ব্যাপারটি উপলব্ধি করার সুযোগ হয়েছিল। সবচেয়ে জলন্ত উদাহরন হলো আমার পাশের গ্রামের এক বন্ধু যে এখন আমেরিকা পাড়ি জমিয়েছে। আমি ও’র আর্থিক অবস্হা জানতাম। আমার মনে হয় শিক্ষাঋণ ছাড়া ও’র পক্ষে লেখা-পড়া চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব ছিল।

এরকম অনকে উদাহরন আছে। আমরা জানি না আবার জানতেও চাই না। শুধু নেগেটিভ ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামিয়ে সময় নষ্ট করি। প্রত্যেক বিষয়ের কিছু ভালো/খারাপ দিক থাকবে। বুদ্ধিমানেরা ভলোটুকু গ্রহন করে। আমরা কি তাই করছি?

আমাদের দেশে এখন বেসরকারী ব্যাংক ব্যাং এর ছাতার মত গজিয়ে ওঠছে। সংখ্যায় অগণিত। সাথে সরকারী ব্যাংক আছে। এদের মধ্যে কয়টি ব্যাংক শিক্ষাঋণ দিয়ে থাকে?

অনেক মেধাবী আছে শুধু টাকার জন্য উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত। ফলে আমরা মূলধারা থেকে তাদের হারাচ্ছি । বেশিরভাগ উন্নত দেশেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ব্যাংক থেকে শিক্ষাঋণ পেয়ে থাকে। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও শিক্ষাঋণের প্রচলন আছে। অনেকেই সেখানে শিক্ষাঋণ নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে লেখা-পড়া করছে। ফলে স্বাচ্ছন্দে শিক্ষাজীবন শেষে কর্মজীবনে প্রবেশ করে। তখন সহজেই শিক্ষাঋণ পরিশোধ করে দেয়। আমাদের সরকারী/বেসরকারী ব্যাংকগুলো কেন তা করতে পারছে না?

আমি এই লেখাটিতে মূলত বলতে চেয়েছি কিভাবে একটি প্রতিষ্ঠান উদাহরন হতে পারে। কারো পক্ষে সাফাই গাওয়ার ইচ্ছা আমার নেই। তাই ব্যক্তিগতভাবে কারও ভালো লাগতে পারে আবার নাও পারে। আমি শুধু আমার ব্যক্তিগত অভিমত প্রকাশ করেছি।