ক্যাটেগরিঃ প্রবাস কথন

 

গত দুইবছর সুইডেনে থাকার সুবাদে ঈদের ভিন্ন অভিজ্ঞতা হয়েছে । সুইডেনের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫% ইসলাম ধর্মের অনুসারী । মূলত ১৯৭০ সালের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অভিবাসনের মাধ্যমে সুইডেনে মুসলিম সংস্কৃতির উপস্হিতি লক্ষ করা যায় । অভিবাসীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যা এসেছে ইরাক, ইরান, প্রাক্তন যুগোস্লাভিয়া (বসনিয়ান),সোমালিয়া এবং মরোক্কো থেকে ।

সুইডেনে খুবই কমসংখ্যক মসজিদ আছে । প্রথম মসজিদ নির্মিত হয়েছিল ১৯৮৪ সালে মালমোতে এবং এরপর ১৯৯৫ সালে উপসালায় । বাকীগুলো ২০০০ সালে এবং পরবর্তীতে নির্মিত হয়েছে । মসজিদগুলো ব্যবহার করা হয় প্রার্থনার স্হান ও জড়ো/একএে হওয়ার জন্য ।

আমি থাকতাম সুইডেনের চতর্থ বৃহত্তম শহর উপসালাতে । যদিও এই শহরটিকে ছাএদের নগরী বলা হয়ে থাকে তবুও বেশ কিছু কমিউনিটি গড়ে ওঠেছে । এখানে বাঙ্গালীদের ছোটোখাটো একটা কমিউনিটি আছে যেখানে অভিবাসী এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীসহ মোট ৭০০-৮০০ জনের বসবাস।

আমিও থাকতাম বাঙ্গালী সংখ্যাধিক্য একটি ছাএ ডরমিটরিতে । সুইডেনে আমার প্রথম ঈদ অভিজ্ঞতা হয়েছিল ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে ঈদ-উল-ফিতর এ যখন শীত পড়তে শুরু করেছিল । একবার ভেবেছিলাম শুধু পাঞ্জাবি পড়ে নামাজ পড়তে যাব পরক্ষণেই ভ্রম হল যে ঠান্ডা লাগবে তাই সাথে সুয়েটার পড়ে রওনা দিলাম । রাস্তায় কাউকে দেখলাম না যে নামাজ পড়তে যাচ্ছে। গাড়িতে এক-দুইজনের পোশাক দেখে ধারনা করলাম যে উনারা হয়তবা ঈদের নামাজ পড়তে যাচ্ছে । বলে রাখা ভাল যে এখানে ঈদের জন্য কোনো ছুটি নেই (আমি মনে করি ধর্মীয় সংস্কৃতির বিবেচনায় আমরা অনেক উদার যেমন আমাদের দেশে সব ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষ্যে সরকারী ছুটি ঘোষনা করা হয়)।

যথারীতি নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে গিয়ে পৌছালাম (এখানে মসজিদের ভেতরেই নামাজ পড়তে হয় এর কারণ হলো শীতপ্রধান দেশ), গিয়ে দেখলাম মসজিদভর্তি মানুষ। নামাজ শেষ করে বাসায় ফিরলাম এবং বই-খাতা গুছিয়ে ক্লাস করতে গেলাম। বিকেলে ল্যাব শেষ করে রাতে আবার বাসায় ফিরে আসলাম । তারপর সবাই মিলে বাংলাদেশী খাবার তৈরি করে একসাথে ভোজন শেষ করলাম। এভাবেই প্রবাস জীবনের ঈদের এক নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছিলাম ।