ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

জীবন অমূল্য সম্পদ । টাকা হারালে টাকা পাওয়া যায়, জীবন হারালে জীবন পাওয়া যায় না । অথচ আমাদের জনগণ কত হতভাগ্য । তাদের জীবনের মূল্য কখনও একটা ছাগলের দামে নির্ধারিত হয় আবার কখনও এক লাখ টাকার দামে নির্ধারিত হয় । কেউবা আবার সন্দেহের গন্ধ পায় । গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে আগুন লেগে মৃত্যুর মিছিলের ঘটনা নতুন নয় । সবসময় দেখা যায় ত্রুটিযুক্ত ভবনগুলো এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী । বিকল্প সিঁড়ি থাকলে মৃতের সংখ্যা অনেকগুণ কম হতে পারত । কিন্তু মালিক পক্ষ কখনও এখানে গুরত্ব দেয় নাই । অগ্নিনির্বাপণের জন্য কারখানাগুলোতে ব্যবস্থা নেই বললেই চলে । শ্রমিকদের কখনও অগ্নিনির্বাপণের জন্য প্রশিক্ষণও দেওয়া হয় না ।

মালিকদের শুধু টাকা চাই । কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ তার দুই বিঘা জমি কবিতায় লিখেছিলেন,
“এ জগতে হায় সেই বেশি চায় আছে যার ভূরি ভূরি,
রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি।“

প্রত্যেক মানুষের সমান অধিকার। একথা সংবিধান নিশ্চিত করেছে। অথচ বাস্তবে ঠিক তার উল্টোটা ঘটছে। আমরা সাধারন খেটে খাওয়া মানুষকে মূল্যায়ন করি না । বর্তমানের আগুন লাগার ঘটনা তা আবার প্রমাণ করেছে ।

রাজউক যেভাবে ভবন নির্মাণ করতে বলেছে অনেক সময় তা অনুসরন করা হয় না । ফলে মালিকপক্ষ ব্যাঙয়ের ছাতার মত যেখানে সেখানে যে যেভাবে পারে কারখানা স্থাপন করেছে । আরেকটি লক্ষণীয় ব্যাপার হল এসব দুর্ঘটনা ঘটার পর প্রশাসন এমন কোনও জোরালো পদক্ষেপ নেয় নাই যে পরবর্তীতে পুনরায় তা ঠেকানো যায় ।

আমরা পাবলিক যখন কিছু হয় সবাই মিলে হা-হুতাশ করি । পরেরদিন সব ভুলে যাই । কারণ আমার পরিবারের কেউ মারা যায় নাই। এই সন্তোষটি নিয়ে রাতে সুখ নিদ্রায় যাই । জনগণের প্রতিনিধিরা দুর্ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেন । ৫ হাজার, ১০ হাজার টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেন । তদন্ত কমিটি হয়। রিপোর্ট তৈরি হয় । কিন্তু ফলাফল শূন্য । মালিকপক্ষ অদৃশ্য উছিলায় পার পেয়ে যান।

সরকারপ্রধান, রাষ্ট্রপতি এবং বিরোধীদলীয় প্রধান শোক বার্তা পাঠান। যেন দরদে গদ্গদ। আহারে এতই যদি দরদ তবে এসব দুর্ঘটনা কেন ঠেকানো যায় না ? বারবার কেন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে ? হায়রে দুর্ভাগা জাতি !!!