ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

লবণের প্রধান ধর্ম হচ্ছে এর লবনাক্ততা!! আর তাই সে যখন তার লবণাক্ততা হারায়, তাকে আর কেউ লবণ বলেনা। আপনার আমার ধর্মীয় পরিচয় কি? বাঁদরকে সুট-টাই পরালেও যেমন তাকে মানুষ নয় বাঁদর মনে হবে, কাকের লেজে ময়ূরের পেখম লাগালেও সে কাকই। তবে, একজন মানুষ কেন তার মানবতাকে খসে ফেলেও মানুষই থেকে যায়? আবার কেউ “মানবতা”র মুখোশ এঁটেও মানুষ সেজে যায়। কাকে নাকি কাকের মাংস খায়না, আর মানুষ, সে কি করে? একবার আয়নায় সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চোখে চোখ রেখে দেখুন তো, আয়নায় যাকে দেখতে পাচ্ছেন, সে কতখানি সত্যিকারের মানুষ?

তাই মানুষ হিসাবে আপনার আমার মাঝে মানবতা বোধই যদি বিরাজ না করে, তো আপনি বা আমি একজন হিন্দু কিংবা মুসলিম অথবা খ্রিস্টান কিনা, এ প্রশ্ন কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

ধর্ম নিয়ে আমার একটাই faith, -এটি হচ্ছে এমন একটি বিষয় যা বা যাকে কেউ তার নিজের মধ্যে ধারণ করে। আর যিনি যে ধর্মকে ধারণ করেন তিনি হচ্ছেন ওই বিষয়ে ধার্মিক অর্থাৎ ঐ ধর্মের অনুসারী। কোন একটি ধর্মকে ধারণ করার বিষয়টি হচ্ছে আধ্যাত্মিকতা, আর তা ধারণ করার নিমিত্তে যে আচার আয়োজন, তা হচ্ছে লৌকিকতা।

বর্তমান মানব সভ্যতার প্রচলিত ধর্ম ব্যাবস্থায় আধ্যাত্মিকতার অর্থাৎ আত্ম নিমগ্নতার বিষয়টি হালকা হয়ে, লৌকিকতার ডামাডোলে বিলীন হতে চলেছে (তবে সর্ব ক্ষেত্রে নয়)। তাই আমরা যারা নিজেদেরকে একজন ধার্মিক বলে মনে করি, আসলে তারা কতটুকু সত্যিকার ভাবে নিজের ধর্মকে ধারণ করি?

বরং আমাদেরকে বলা যেতে পারে ধর্ম পালনকারী কিংবা অনুকরণকারী। আমরা আসলে ধর্মের আচার আয়োজন; নিয়মিত, নিয়মতান্ত্রিক, সুনিপুণ, যথাযথ ভাব গাম্ভীর্যের সাথে পালন করে থাকি। এবং তাই আমরা নিজেদেরকে একজন ধার্মিক বলে জাহির করার জন্য কেউ গলায় ক্রুশ ঝুলাই, কপালে তিলক আঁকি কিংবা পাগড়ি বাঁধি। আদৌ কি আমাদের এসবের বিশেষ প্রয়োজন আছে? আমি কোন ধর্মে বিশ্বাসী, তা তো প্রকাশ পাবে আমার কর্মে। আমার আচরণে, আমার বিচার-বিবেচনায়। নয় কি??

আরেকটি কথা, আমার মতে ধর্মকে ধারণ করার ব্যাপারটি কিন্তু মোটেই কোন সামাজিক বিষয় নয়, বরং এটা একান্তই ব্যক্তিগত। তবে একই ধর্মে বিশ্বাসীরা ধর্ম পালনের নিমিত্তে, সকলে একত্রিত হয়ে সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশে “অর্ঘ্য” নিবেদনের যে চিরাচরিত ব্যাবস্থা, তা চলছে কিংবা চলবে। কারণ এই লোকাচারের সাথে “ব্যাক্তি-বিশ্বাসে”র কোন সংঘাত নেই বরং এর সংযোগ কিংবা প্রভাব সুদৃঢ়!!

(এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত চিন্তা ভাবনা, মতামত। বিতর্ক সৃষ্টির জন্য নয়। তবে আমার এই লেখা যদি অসাবধানতাবশত কারও ধর্মে কিংবা ব্যক্তিগত বিশ্বাসে আঘাত দিয়ে থাকে, তাহলে নিজ নিজ ধর্ম গুণে আমাকে মার্জনা করবেন।

আরেকটি অনুরোধ,যেহেতু আমি সুনির্দিষ্ট কোন ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আমার ভাবনাকে সাজাইনি, তাই কোন নির্দিষ্ট ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে একে judgment অথবা comments না করাটাই শ্রেয়তর বলে মনে করি। ধন্যবাদ সকলকে।)