ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

যুক্তিসঙ্গত কারণেই, “একজন আরেকজনকে ভালোবাসলে, এ রকম শারীরিক সম্পর্ক হয়ে যেতে পারে। ……।।” সারা যাকের। এর সাথে সহমত পোষণ করছি, আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা মেনে নিয়েও। কয়েকটি বিষয়ে আলোকপাত করা যাক;

প্রথমতঃ আমাদেরকে দেখতে হবে সারা যাকের কোন প্রশ্নের উত্তরে কি বলেছেন।

“একজন আরেকজনকে ভালোবাসলে, এ রকম শারীরিক সম্পর্ক হয়ে যেতে পারে।” -তিনি যেটা বলেছেন তা হচ্ছে বাস্তবতার কথা, অর্থাৎ এরকমটা ঘটে থাকে এবং ঘটতে পারে। এখানে তথাকিথত (অ)বৈধ শারীরিক সম্পর্ককে উৎসাহিত করা বা একে বৈধতা দেবার লক্ষে সাফাই গাইবার কোন বিষয় এখানে নেই। বরং উক্ত ভুক্তভোগির জন্য শান্তনা সূচক বক্তব্য মাত্র। তাই “কান নিয়ে গেলো চিলে” বলে হা-হুতাশ করা বা সারা যাকেরের পিণ্ডি চটকানোর কোন কারণ দেখিনা।

দ্বিতীয়তঃ নারী পুরুষের প্রেম ভালবাসা এবং দৈহিক সম্পর্ক।
অন্য যে কোন ধরণের ভালবাসার সম্পর্কের মধ্যে না থাকলেও, কেবল মাত্র নর-নারীর ভালবাসায় দৈহিক সম্পর্ক এর অবিচ্ছেদ্য অংশ। হোক সেটা বিবাহ পূর্ববর্তী কিংবা পরবর্তী। বিবাহ পূর্ববর্তী ভালবাসায় যদি কোন বাধা না থাকে তো দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনে আপত্তি করি কেন? সমস্যাটা বাধে যখন পুরুষটি তাকে পরবর্তীতে জীবন সঙ্গী হিসাবে মেনে নিয়ে আপত্তি জানায়।
প্রেমিক/প্রেমিকের হাতে লাল গোলাপটা তুলে দেবার উদ্দেশ্যটা কি বলেত পারেন? উদ্দেশ্যটা হচ্ছে, তাকে এই কথা বলা বা স্মরণ করিয়ে দেয়া যে, “আমি তোমার সংস্পর্শে এসে গোলাপের পাপড়ির ন্যায় এক কোমল সুখানুভূতি অনুভব করতে চাই, আর এর সুগন্ধির ন্যায় তোমার শরীরের স্বাদ গ্রহনে নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই”।

বিজ্ঞান মতে, একজন নারী সহজাত ভাবে, তার গর্ভে উত্তরাধিকার প্রতিপালনের লক্ষে হাজারও পুরুষের মাঝে তার কাঙ্ক্ষিত মৌলিক পুরুষটিকে খুঁজে বেড়ায়, পক্ষান্তরে পুরুষটি ওই একই উদ্দ্যেশে হাজারও নারীর গর্ভে তার উত্তরাধিকারের বীজ বপনে প্রলুব্ধ হয়। তাই বহুগামিতার হার নারীর তুলনায় পুরুষের মধ্যে বেশি। ( দুনিয়ায় নারীদের জন্য ক’টি পতি’আলয় আছে?)
তৃতীয়তঃ, সতী, বেশ্যা, কুমারীত্ব এই সব শব্দের পুঃলিংগ কি আছে? নাই কেন? কারণ, ভালবাসার চিহ্ন স্বরূপ ভ্রূণটি যে কেবলমাত্র নারীকেই বহন করতে হয়। তাই বিবাহপূর্ব দৈহিক সম্পর্কের কলঙ্ক ঘাড়ে নিয়ে নারীরাই কেবল ব্যাভিচারিত হয়েও ব্যাভিচারী বলে সমাজে গন্য হয়।

চতুর্থতঃ দৈহিক মিলন নারী পুরুষ উভয়েরই সম্মতিতে হওয়া যেমন বাঞ্ছনীয়, অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণের গর্ভপাত কেবল নারীরই স্বাধীন ইচ্ছা। পুরুষের যদি বিবাহ পূর্ব বহুগামিতায় লিপ্ত হতে বাধা না থাকে (ইতিমধ্যে অন্য নারীকে গর্ভবতী করেও), তবে কেন নারী তার অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণে বাঁধাগ্রস্ত হয়ে থাকবে?

পঞ্চমতঃ আমাদের মনে রাখা দরকার, কোন একটি মানব ভ্রূণ শুধু মাত্র তখনই কোন নারীর গর্ভজাত সন্তান হিসাবে তার নিকট বিবেচিত হতে পারে, যখন সেটা সে স্বেচ্ছায় ধারণ করে। তেমনি ভাবে একজন ধর্ষিতার কিংবা বেশ্যার গর্ভজাত ভ্রূণ কোন মতেই তার নিজের সন্তান বলে বিবেচনা করার কোন যুক্তি নাই। যদি থাকে বা থাকত, তবে ওই ধর্ষিতা বা বেশ্যার গর্ভজাত ভ্রূণটি যে সুপুরুষটির পুরুষত্বের ফলাফল, তাকে তা স্বীকার করে নিতে হয় বা হবে।

আপনি আমি কি এই কাজটি করতে প্রস্তুত??