ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

আজ আমাদের সমাজের বড় বড় সমস্যার মধ্যে প্রধান হচ্ছে সেক্স কেলেংকারি। এখানে পুরুষদের অপরাধ যেমন আছে তেমনি মেয়েদের দোষও কম নয়। তাই বলে আমি পরিমলকে সমর্থন করছিনা। তিনি যা করেছেন তাতে শুধু নিজেকে নয় পুরো শিক্ষক সমাজকে কলংকিত করেছেন। আমার কথা হচ্ছে শুধু দোষী প্রমাণিত করে শাস্তি দিলেই এই সমস্যার সমাধান হবেনা। আমাদের ভেবে দেখতে হবে এর মুল কারন কি?

নারী মায়ের জাতি তার অপমান মানে পুরো মা জাতির অপমান এই কথাটি আমরা প্রায় বলে থাকি কিন্তু যাদের এই কথাটি সব থেকে বেশি জানার কথা তারা জানে ত? অর্থাৎ আমি মেয়েদের কথা বলছি। আমার এই লেখা পড়ে আমাকে হয়ত অনেকে নারী বিদ্বেষী মনে করতে পারেন আবার কেও হয়ত বলবেন আপনার বিরুদ্ধে নারী অবমাননাকর মামলা করা উচিৎ যাই বলুন না কেন দয়া করে একবার নিজের বিবেককে জাগিয়ে তুলুন।

যাই হোক এবার আসি আসল কথায়। আপনি কি কখনও স্কুল বা কলেজের সময় কিংবা বিকেলের দিকে বোটানিক্যাল গার্ডেন, সংসদ ভবন এলাকা, রমনা পার্ক ইত্যাদি এলাকাতে গেছেন? যদি যান তাহলে কি দেখবেন নিশ্চয় জানেন। দেখবেন অনেক স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীরা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে প্রেম এর নামে অনৈতিক কাজে লিপ্ত। কখনও কি বাঁধা দিয়েছেন তাদের? ভেবে দেখুন ত আপনার সন্তান বা বোন বা কোন আত্মীয় আছে কিনা সেখানে?

যে মেয়েটি কাউকে কিছু না বলে স্কুল বা কলেজ এর কথা বলে সেখানে গেল এখন যদি কোন অঘটন ঘটে তাহলে দায়িত্ব কার? আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর, সমাজের, স্কুল এর শিক্ষকদের নাকি অভিবাবকদের? দেখুন এইরকম একটি ঘটনার জন্য সব চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার পরিবার এবং অভিভাবকরা আর তাই দায়িত্বটা তাদেরই বেশি। আর তাই আপনি আপনার মেয়েকে আধুনিকতার নামে উশৃঙ্খল বানাবেন নাকি শালীন বানাবেন তা আপনার উপর নির্ভর করে। আপনার অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারনে আপনার মেয়ের ক্ষতি হবে আপনি দায়ী করবেন একটি ছেলেকে কিংবা সমাজ বা রাষ্ট্রকে তা হতে পারেনা। আর তাই এই রকম কিছু ঘটার আগেই সতর্ক হন। এই রকম একটি ঘটনায় মেয়ের পরিবার যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয় তেমনি ছেলেটির পরিবারও কম ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। বরঞ্চ আর বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় কেননা মেয়েটির পরিবার সমাজের সহানুভূতি পেলেও ছেলেটির পরিবার হয় বঞ্ছনার শিকার। অথচ দুই জনের অপরাধ সমান ছিল। তাহলে এখন আমাদের করনীয় কি? আমার মতে সমাজের প্রত্যেকের সচেতনতাই পারে এই সমস্যার সমাধান করতে। কিন্তু বড় ভুমিকা পালন করতে পারে অভিভাবকদের সচেতনতা। আর তাই আমি অভিভাবকদের অনুরোধ করছি কিছু বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি দিতে।

• আপনার সন্তান নিয়মিত ক্লাস করে কি না তার খোজ খবর নিয়মিত নিন।
• তাদেরকে রাত জেগে মোবাইল বা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে দিবেন না।
• তাদের মালটিমিডিয়া ফোন না দিয়ে সাধারন ফোন ব্যবহার করতে দিন।
• অতিরিক্ত আদর বা শাসন করবেন না ।
• কাদের সাথে মিশছে তাদের খবর নিন।
• সন্ধ্যার পর বাইরে কোচিং করতে দিবেন না।
• প্রয়োজনের অতিরিক্ত টাকা তাদের হাতে দিবেন না।
• পড়াশোনা এবং অন্যান্য ভাল কাজে তাদের ব্যাস্ত রাখুন।
• তাদেরকে নিয়মিত সময় দিন।
• সর্বোপরি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর যথাযথ দায়িত্ব পালন এবং সমাজের প্রতিটি মানুষের সচেতনতাই পারে আমাদেরকে এই অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে।