ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

২০০৫ সালের মাঝামাঝি। মালিবাগ চৌধুরীপাড়ায় একটা টিউশনি করতাম। স্টুডেন্টের নাম ছিল রাফসান এন. সিদ্দিকি (আমার প্রথম স্টুডেন্ট)। সন্ধ্যার পর পড়াতে হতো। একবার প্রায় রাত ৯ বাজে। ফিরছিলাম হলের দিকে। হেটে হেটে। মৌচাক আসার আগেই হঠাৎ একটা গুন্ডা চেহারার লোক আমাকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করতে শুরু করলো। আমাকে অন্য একটা নামে ডাকতেছিল। আমি বারবার বলতেছিলাম ভাই, আমার নাম ওটা না! আমাদের দুপাশ দিয়ে অনেক পথচারী চলাচল করছে। আমরা পূর্ব পরিচিত- এটা পথচারীদের বুঝানোর জন্যই যে গুন্ডা কোলাকুলি করছিল সেটা বুঝলাম কিছুক্ষন পর। কানে কানে ফিসফিসিয়ে বলল, সে এই এলাকার বড় ভাই। আমার পেটে কিসের যেন একটা ঠেক দিল। চিৎকার দিলেই নিশ্চিত মৃত্যু। দৌড় দিয়েও লাভ নাই, অনেকদূরে একজনকে দেখিয়ে বলল সে তারই লোক। ঐ লোকটা হাত তুলে ইশারা করল আবার। এবার দাবি দাওয়ার পালা। তারা ক্লাবে যাবে। হার্ড ড্রিংকস খাওয়া দরকার। টাকা পয়সার ঘাটতি যাচ্ছে। টাকা দরকার। আমার কপাল ভাল কিংবা তাদের কপাল খারাপ ছিল। আমার মানিব্যাগে বড়জোর ২০ টাকা ছিল। বললাম ভাই মানিব্যাগে কোন টাকা নেই। বলল- বের করে দেখাও। বললাম- ভাইজান বের করে দেখানোর কিছু নেই। আমার পড়নে ছিল জিন্সপ্যান্ট। সুতরাং পকেটে যে মোবাইল আছে সেখানে তাদের নজর পড়ল। বলল- মোবাইল ?

– জ্বি ভাই।
– সিটিসেল নাকি? (এই প্রশ্নে আমি একটু থতমত খেয়ে গেলাম। কারন আমার ছিল তখন একটেল কানেকশন। কিন্তু সত্য বললেও বিপদ!)
– জ্বি ভাই। বের করবো?
– নাহ্ , বের করার দরকার নাই। মানিব্যাগ বের করছো না কেন? মরার ভয় নাই?
– জ্বি না, ভয় পাচ্ছি না। কারণ আশেপাশে অনেক লোক চলাচল করছে। মাত্র কিছু টাকার জন্য আপনি আমাকে খুন করার মত বোকামী করবেন না।
-তুমি বলছ তোমার কাছে অল্প টাকা ?
– জ্বি।
– ঠিক আছে। চলে যাও। ডানেবামে তাকাবে না, সোজা। একদম সোজা।

(বি .দ্র: ঐ ঘটনায় ঐ সময় কোন ভয় পাই নি। কিন্তু এখনও স্মরন করলে ভয় লাগে। বুকের ডান পাশে চিন চিন করে ব্যাথা করে।)