ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

সাধারনত বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে, এ ধরনের লেখা পড়া ও লেখা দুটোই আমার অপছন্দের। কিন্তু মাঝে মাঝে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে যায় যে বিষয়গুলো আর এড়াতে পারি না। ক্লাশ টু বা থ্রি থেকেই যখন ইসলাম শিক্ষা বই পড়তাম তখন থেকেই জেনে আসছি নারীকে সর্বপ্রথম প্রকৃত মুক্তি দিয়েছে ইসলাম – যখন নারীদের জীবন্ত কবর দেয়া হত। আমি আমার অত্যন্ত সাধারন দৃষ্টিতে আমাদের ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্টের নারীদের অবস্থা দেখে মনে হয় নি মুসলমান নারীরা অন্য ধর্মের নারীদের চাইতে সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত কিংবা তাদের বন্দি করে রাখার ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছে। আমাদের ধর্মের মুসলমান নারীরা প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আরও অনেক উচ্চ পদে তারা আছে এবং থাকবে। কিন্তু যখন পশ্চিমা বিশ্বগুলো বলতে থাকে যে মুসলমান নারীদেরকে তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে, ফ্রান্স যখন বলে বোরখা নিষিদ্ধ কারন বোরখা পড়িয়ে মেয়েদের বন্দি করে রাখা হয়, এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোও একই সুরে কথা বলে, তখন গা ঘিনঘিন করতে থাকে, তখন বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে মন চায়। তারা কি কখনো মুসলিম ও ননমুসলিম নারীদের অবস্থা নিয়ে কখনো গবেষনা করেছে? ফ্রান্স কি এখনো তাদের Gang Rape থেকে বেড়িয়ে আসতে পেরেছে।, যেখানে এখনও ১২/১৩ বছরের বালিকারা ৭০/৮০ জনের একটা গ্যাং দ্বারা ধর্ষনের স্বীকার হয়? তারা কি কখনো গুগলে Rape Rate among different country লিখে সার্চ দেয় না? যদি দিত, তবে তারা দেখতো United States Department of Justice এর তথ্যমতে প্রতি আমেরিকান নারীদের ৬ জনের একজন ধর্ষনের স্বীকার হয়, কেবল মাত্র ২০০৫ সালেই ১৯১৬৭০ জন নারী আমেরিকায় ধর্ষনের স্বীকার হয়েছে। The National Crime Victimization Survey এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০০৭ সালে ধর্ষনের স্বীকার হয়েছে ২৪৮৩০০ জন। আমার মনে প্রশ্ন জাগে, তবে তারা নারীদের মৌলিক অধিকার বলতে কি বোঝে? “খুবই ছোট পোশাক পড়লে ভাল আর একেবারেই না পড়লে আরো ভাল” – এটাকেই কি তারা নারীদের মৌলিক অধিকার মনে করে? মান সম্মান নিয়ে সুস্থ একটা জীবন লিড করাটা মৌলিক অধিকার নাকি ছোট পোশাক পড়ে যেখানে খুশি সেখানে গিয়ে আমেরিকান প্রতি ৬ নারীর ১ জন হওয়া মৌলিক অধিকার? দুখের বিষয় আমাদের দেশেও আজ এধরনের একটা ট্রেন্ড চালু হয়েছে। কিছু নারী আছে যারা আদলটা যত সম্ভব খোলা রাখা আর ছেলেরা তাদের সব শরীরটাকে ঢেকে ফেলাটাকেই এখন ফ্যাশন মনে করে। টাই পড়ে গলাটা অবধি ঢাকতে চাই চাই (টাই পড়নেওয়ালারা রাগ করবেন না ,আমিও টাই পড়াদের একজন)। কিন্তু ব্যাপারটা কিন্তু হওয়ার কথা ছিল উল্টা। আমাদের সংস্কৃতি অনেক উন্নত পর্যায়ে, পোশাক নিয়ে আমাদের আছে দীর্ঘ ইতিহাস। তাই পশ্চিমা বিশ্বের অন্ধ অনুকরন না করে স্বদেশী সংস্কৃতি ও সকল ধর্মের প্রতি সমান শ্রদ্ধা থাকাটাকেই প্রয়োজন মনে করি। অন্য ধর্মের নারীরা কি পোশাক পড়বে সেটা তাদের উপর ছেড়ে দেয়াটাই উত্তম। পোশাক পরিধান বিষয়ক আইন আমরা চাই না।