ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

তখন বোধ হয় বিবিএ তৃতীয় বর্ষে পড়ি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ফ্যাকাল্টির সেমিনার রুমে পড়ছি। সাথে কয়েকটা ক্লাসমেট ছিল। আলী নামের একটা টকটকা (পাকা টমেটোর মত চেহারা ) ক্লাসমেট ছিল। তার আবার বিশাল সাইজের একটা চাইনিজ মোবাইল ছিল। হঠাৎ করে বলল;
– একটা ভিডিও দেখবি?
– কি ভিডিও?
– এক্সাইটিং। তোর হার্ট শক্ত তো?
– কেন!
– ভয় পাবি না তো?
– কিসের ভয়! দেখা!!
জোর করে তার কাছ থেকে মোবাইলটা নিয়ে ভিডিওটা দেখলাম। হাত ও চোখ বাধা এক যুবককে চেয়ার থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে জবাই করে তার মাথাটা বুকের উপর রেখে দিল। চার পাঁচজন যুবক এ সময় ”লা ইলাহা ….”,”লা ইলাহা…” বলে উচ্চস্বরে ঐ কোরবানী উপভোগ করছিল। এটা ছিল তালেবানী নৃশংসতা। এক মিনিটেরও কম সময়ের ভিডিও। আমার তিন মাসেরও বেশি সময় লেগেছিল ঐ দৃশ্য ভুলতে এবং নিজেকে মানসিকভাবে সুস্থ করতে। বাল্যকালে আমি নিজে হাস, মুরগী, মাছরাঙ্গা, চড়াই, টুনটুনি এবং রাম শালিক গুলতি দিয়ে শিকার করে জবাই করেছি। কোন ভাবাবেগই হয়নি। কিন্তু মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও আমাকে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ করে রেখেছিল বেশ কিছুদিন। সম্ভবত “মানব বলি” জাতীয় কোন চিন্তা মাথায় ছিল না। সেই দৃশ্য ভুলতে না ভুলতেই দেখতে হলো আটজনকে জবাই করার দৃশ্য। তাও এবার স্বদেশী- আমাদের বাংলাদেশী দরিদ্র আট ভাই। শরীয়া আইনে কি বলা আছে ঠিক জানি না। কমনসেন্স দিয়ে জানি, খুনের বদলে খুন প্রায় সব দেশেই আছে। কেউ বিষপ্রয়োগে, কেউ ইলেক্ট্রিক শক দিয়ে, কেউ পাথর ছুড়ে, কেউ ফাসি আবার কেউ পাঠা বলি টাইপ শিরচ্ছেদ করে এই নিয়ম প্রয়োগ করে। অ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল সহ বিশ্বের সব সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ একসাথে আটজন মানুষকে শিরচ্ছেদের ঘটনাকে নৃশংস ও মধ্যযুগীয় বর্বরতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বার্ট্রান্ড রাসেলের মত একজন খাটি নাস্তিক পর্যন্ত ইসলাম ধর্মকে “মোষ্ট সিভিলাইজ্ড” ধর্ম হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহর আইনের দোহাই দিয়ে সৌদি সরকার যা করলো তা মানা যায় না। এখন আবার বিশ্বের সব ইসলাম বিদ্বেষী শক্তি চিৎকার চেচামেচি করে বলবে যে, ইসলাম হচ্ছে একটা বর্বর, নৃশংস ও উগ্রদের ধর্ম। অন্য ধর্মের লোকজন এখন আমাদের দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকায়। এই আটজন হতভাগ্য যদি আজকে আমেরিকান বা ইহুদি হতো, তবে সৌদি আরব ঠিকই আল্লাহর আইনের কোন না কোন ফাঁকফোঁকর খুঁজে বের করে ফেলতো। যা তারা বিভিন্ন সময়ে করেছে। আল্লাহর আইনের দোহাই দিয়ে এতদিন নারীদের গাড়ী চালানো নিষিদ্ধ ছিল, সব ধরনের নির্বাচনে অংশগ্রহন নিষিদ্ধ করে রেখেছিল। এখন আরব গন জাগরন থেকে রক্ষা করতে তারা তো ঠিকই আল্লাহর আইনের ফাক ফোকর পেয়ে গেল। এখন ওখানকার নারীরা গাড়ী চালায়, নির্বাচনে দাড়াতে পাবে। সবিশেষ বলতে চাই, যত নবী রাসূল এই দুনিয়ায় আসছে সব মধ্যপ্রাচ্যে। কেন?? কারন কোন জাতি যখন অসভ্য, বর্বর ও নৃশংসতার চরমে পৌছল, তখন তাদের হেদায়েতের জন্য সেখানে আল্লাহ তায়ালা নবী রাসূল প্রেরন করতেন। যা এখন সৌদিতে খুব দরকার। কিন্তু হায়…! আর কোন নবী রাসূল এই দুনিয়ায় আসবেন না।